পাঁচমিশালী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পাঁচমিশালী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

জুলাই বিপ্লবের শহিদেরা দেশ-জাতির স্বার্থে আত্মোৎসর্গ করেছেন: উপদেষ্টা

উপদেষ্টা
শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের চকোরিয়া জুলাই বিপ্লবের শহিদ আহসান হাবিবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক : ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদদের জাতি স্মরণে রাখবে। দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে নিজেদের জীবন দিয়েছেন। তারা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আত্মোৎসর্গ করেছেন।

তিনি বলেন, এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদের মানুষ ফ্যাসিবাদী সরকারের শোষণ, অত্যাচার ও নির্যাতনে নিষ্পেষিত ছিল। কারণ তৎকালীন সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা এবং মানুষের বাকস্বাধীনতাকে হরণ করেছিল।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের চকোরিয়া উপজেলার আছদ আলীপাড়া গ্রামে জুলাই বিপ্লবের শহিদ আহসান হাবিবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, এই অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে দেশের ছাত্র-জনতা অভাবনীয় ভূমিকা রেখেছে। দেশমাতৃকাকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে তারা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। তাদের এই ঋণ শোধ করা যাবে না।

উপদেষ্টা শহিদ আহসান হাবিবের বাবার উদ্দেশে বলেন, আপনার ছেলে দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত গর্বের। আপনার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে সরকার সবসময় আপনার পাশে আছে।

এছাড়া জুলাই বিপ্লব ফাউন্ডেশনের পক্ষ হতে এ বিপ্লবে শহিদ প্রত্যেকটি পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা প্রদান করা হবে বলে জানান ধর্ম উপদেষ্টা।

এসময় উপদেষ্টা আস্ সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় শহিদ আহসান হাবিবের বাবার হাতে ২ লাখ এবং চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরামের বাবার হাতে ২ লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

পরে উপদেষ্টা চকোরিয়া আবাসিক মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিদর্শন এবং চকোরিয়া গ্রামার স্কুলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ধর্মসচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মু. আ. আউয়াল হাওলাদার, উপদেষ্টা একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ, রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম প্রমূখ।

একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী সুজেয় শ্যাম আর নেই

সুজেয় শ্যাম
সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

তার মেয়ে রূপা মঞ্জুরী শ্যাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর রাজধানীর সবুজবাগ বরদেশ্বরী শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

সুজেয় শ্যাম ক্যান্সার, উচ্চ ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন।

তার মেয়ে জানান, গত সেপ্টেম্বরে তার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানোর পর তার সংক্রমণ শুরু হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। এ সময় আইসিইউতে শয্যা খালি না থাকায় তাকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন সুজেয় শ্যাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শেষ গান এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর প্রথম গানের সুরকার হিসেবে সম্মানিত তিনি।

গানটি ছিল “বিজয় নিশান উড়ছে ঐ”। এটি লিখেছিলেন গীতিকার শহিদুল আমিন এবং কণ্ঠ দিয়েছিলেন অজিত রায়; ১৯৭১ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য তার মোট নয়টি গান গাওয়া হয়েছিল।

তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে "রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি", "রক্ত চাই রক্ত চাই", "আহা ধন্য আমার জন্মভূমি" এবং "আয়রে চাষি মজুর কুলি"।

১৯৪৬ সালের ১৪ মার্চ সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন সুজেয় শ্যাম। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ২০১৮ সালে একুশে পদক এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ২০১৫ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন।

তিনি হাছন রাজা (২০০২), জয়যাত্রা (২০০৪), অবুঝ বউ (২০১০) ও যৈবতী কন্যার মন (২০২১) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চারবার শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

বিবিএসের তথ্য জালিয়াতির অভিযোগের মধ্যেই নতুন 'পরিসংখ্যান নীতিমালা' বাস্তবায়নের উদ্যোগ সরকারের

বিবিএস
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত তথ্যের অসঙ্গতি সম্পর্কিত দীর্ঘদিনের উদ্বেগ মোকাবিলায় সমন্বিত 'পরিসংখ্যান নীতি' প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিবিএস বিভ্রান্তিকর অর্থনৈতিক তথ্য সরবরাহ করেছিল বলে ব্যাপক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিবিএস বারবার জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমিয়েছে বলে সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে দেশের সরকারি পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমনে গুরুতর সন্দেহ তৈরি করেছে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, 'আমরা একটি পরিসংখ্যান নীতিমালা প্রণয়নের জন্য কাজ করছি, যা শিগগিরই উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন পাবে।’

জাতীয় তথ্যের নির্ভুলতা ও অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে স্পষ্ট, ঐক্যবদ্ধ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন তিনি।

বিবিএসের তদন্ত চলমান

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত বিবিএস নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করতে না পারায় ধারাবাহিক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিল। তাদের সক্ষমতা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো শক্তিশালী নয় বলেও মনে করেন ড. ওয়াহিদউদ্দিন।

তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনসহ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের সময় বিবিএসের প্রতিবেদনকে প্রভাবিত করেছে রাজনৈতিক চাপ।

সক্ষমতার অভাবে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পরিকল্পনা কমিশন ও বিবিএসের সূত্র। জিডিপি ও মুদ্রাস্ফীতির মতো মূল অর্থনৈতিক সূচকগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আরও একটি উল্লেখযোগ্য বাধা ছিল।

এসব চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে ড. ওয়াহিদউদ্দিন বিবিএসের স্বাধীনতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,‘আমি এরই মধ্যে তাদের জানিয়েছি, কোনো ত্রুটি থাকলেও আমি তাদের রিপোর্টে হস্তক্ষেপ করব না। ঊর্ধ্বগামী বা নিম্নগামী যাই হোক, অবশ্যই বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই মূল্যায়ন করতে হবে।’

বিবিএসের সক্ষমতা জোরদার করা

অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবিএসের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য সরবরাহে এর সক্ষমতা বাড়াতে চান তিনি। পরিকল্পনা কমিশন ও বিবিএসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যুরোর কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে ইঙ্গিত দেন এই উপদেষ্টা।

জনসংখ্যা, কৃষি, শিল্প ও বৃহত্তর অর্থনীতির সমালোচনামূলক তথ্য তৈরি এবং প্রকাশের জন্য দায়বদ্ধ বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় হলো বিবিএস। তবে আগের প্রশাসনের অধীনে একটি সমন্বিত নীতি কাঠামো ছাড়াই এর কার্যক্রমগুলো প্রায়শই আদেশ এবং বিজ্ঞপ্তি দ্বারা পরিচালিত হতো।

ভবিষ্যৎ সংস্কার

২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি 'পরিসংখ্যান আইন' পাসের মাধ্যমে বিবিএস আইনি ভিত্তি লাভ করে। এই আইনে ব্যুরোকে সঠিক ও সময়োপযোগী পরিসংখ্যান তৈরি, জাতীয় আদমশুমারি পরিচালনা এবং নীতিনির্ধারক, গবেষক ও অন্যান্য অংশীজনদের চাহিদা পূরণ করে এমন তথ্য সরবরাহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নীতিটির লক্ষ্য এই কার্যক্রমগুলোর আধুনিকীকরণ এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোর সমাধান করা। ব্যুরোর ভবিষ্যতের কাজগুলোর মধ্যে থাকবে পরিসংখ্যান উন্নয়নের জন্য জাতীয় কৌশল যুগোপযোগী করা, পরিসংখ্যান কর্মসূচিগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং একটি জাতীয় তথ্যভাণ্ডার বাস্তবায়ন করা।


পরিসংখ্যান নীতির বাস্তবায়ন বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থার পরিপূর্ণতা জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্তগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেওয়া যাবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন