ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:  টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে জুলাই থেকে ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি বেড়েই চলেছে। তবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে পানি। মঙ্গলবার পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা মাপা হয় ১২ দশমিক ৮০ মিটার। বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার— অর্থাৎ আর মাত্র এক মিটার বাড়লেই তা অতিক্রম করবে।

দুপুরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১৫টি গার্ডারের মধ্যে ১৪টিই তলিয়ে গেছে, বাকি একটির কাছেও পানি পৌঁছতে শুরু করেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে রাতের মধ্যেই শেষ গার্ডারটিও ডুবে যেতে পারে। ব্রিজের নিচে অস্থায়ী খাবারের দোকান, ফলের স্টল ও খেলনার দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে দোকান সরিয়ে নিয়েছেন। ওয়াক্তিয়া মসজিদের চারপাশও পানিতে ঘেরা, কয়েক দিনের মধ্যেই মসজিদটি পুরোপুরি তলিয়ে যেতে পারে।

উপজেলার ধাপাড়ি, আরামবাড়িয়া, ইসলামপুরসহ তীরবর্তী গ্রামের নদী রক্ষা বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে ঢোকার উপক্রম হয়েছে। লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের শতাধিক একর কলাবাগান ডুবে গেছে, শাকসবজির ক্ষেতেও পানি উঠেছে। ফসল নষ্ট হতে শুরু করেছে। চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে, গবাদিপশুর বাথান ভেঙে মালিকেরা পশু সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ফুচকা বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, 'যেখানে দোকান ছিল সেখানে এখন পানি। তাই সরিয়ে নিয়েছি। ঘুরতে আসা মানুষও কমে গেছে। মনে হচ্ছে দুই–এক দিনের মধ্যে পুরো নিচের অংশ পানিতে ডুবে যাবে।' 

ফল বিক্রেতা আশরাফ হোসেন জানান, নদীতে ভাঙনের শঙ্কায় সকালে দোকান সরানো শুরু করেছেন।

পানি দেখতে আসা কলেজছাত্র পার্থ ইসলাম বলেন, 'গত সপ্তাহে এখানে এসে মোটরসাইকেল রেখে ঘুরেছি, আজ সেই জায়গা পানির নিচে।'  

তারেক হাসান নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, 'দুই মাস আগে নদী শুকনো ছিল, এখন সব ভরে গেছে।'  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক হারিফুন নাঈম ইবনে সালাম জানান, 'সোমবার পানি ছিল ১২ দশমিক ৭০ মিটার, মঙ্গলবার সকালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৮০ মিটারে। প্রতিদিনই ১০–১৫ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে।' 

উপ–সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, 'বিপৎসীমা অতিক্রম করবে কিনা এখনই নিশ্চিত নয়, তবে পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে।' 

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, লক্ষ্মীকুন্ডার কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি ডুবে গেছে, বিশেষ করে কলাবাগান ক্ষতির মুখে। কৃষকদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হতে পারে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন