বাংলাদেশ ক্রিকেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ ক্রিকেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

দেশে ফিরছেন না সাকিব


সাকিব
সাকিব আল হাসান

টেস্ট ম্যাচ খেলতে ঢাকায় ফিরছেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

এর আগে তার শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলতে ঢাকায় আসবেন বলে জানালেও ছাত্র আন্দোলনে তার ভূমিকার জন্য জনরোষের আশঙ্কায় তিনি আসছেন না বলে জানান।

এর ফলে কানপুরে অনুষ্ঠিত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সিরিজের টেস্টটিই ছিল সাকিবের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট।

কানপুরে সেই ম্যাচের আগে সাকিব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। ঢাকায় দেশের দর্শকদের সামনে তার শেষ টেস্ট খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু সেই ইচ্ছে অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।

দুবাই থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রানজিট স্টপেজে থাকা সাকিব নিজের পরিকল্পনা পরিবর্তনের কথা জানান।

তিনি বলেন, 'আমার দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু এখন নিরাপত্তাজনিত কারণে, নিজের নিরাপত্তার কারণে আমি হয়তো তা করতে পারব না।

এটা স্পষ্ট যে, সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে চলমান বিক্ষোভের কারণে তার পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন একদল শিক্ষার্থী। আরেক দল সাকিবকে স্টেডিয়ামে ঢুকতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিসিবিকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাকিবের নীরবতার কারণেই শিক্ষার্থীদের এই প্রতিরোধ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন পতনের আগে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০০০ জনকে হত্যা করেছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেলিব্রেটি ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও সাকিব আন্দোলনের সময় নীরব ছিলেন। এর কারণে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা আশা করেছিলেন, সাকিব তাদের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য সাকিব আন্দোলন চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের হাসিখুশি ছবি পোস্ট করেন, যা তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উসকে দেয়।

কানপুরে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার সময় সাকিব দেশে ফেরার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কিন্তু বোর্ড ও ক্রীড়ামন্ত্রণালয় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক আসিফ মাহমুদ।

পরে ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, সাকিব দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন তারা। তবে সাকিবের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় সরকার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।

সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বুধবার রাতে নিশ্চিত করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাকিবকে তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এ অবস্থা থেকে বোঝা যায়, সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ার এখন হয়তো অনানুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে।

বরখাস্ত হচ্ছেন হাথুরুসিংহে, আসছেন ফিল সিমন্স

হাথুরুসিংহ
অসদাচরণের কারণে বরখাস্ত হচ্ছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচের পদ থেকে চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফলে দুই বছরের চুক্তিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত তার দায়িত্বের মেয়াদ থাকলেও আগেভাগেই সরে যেতে হচ্ছে এই লঙ্কান কোচকে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেটে স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন করে হাথুরুসিংহেকে বরখাস্ত করার কথা জানান বিসিবি সভাপতি ফারুক। পাশাপাশি তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান বিসিবি সভাপতি।

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক বলেন, ‘বরখাস্ত করার আগে আমরা তাকে নিয়ম মেনে শোকজ নোটিশ করেছি। ৪৮ ঘণ্টার জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে তাকে। এরপর আমরা বরখাস্ত করব।’

একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল সিমন্সকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

‘দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য আমরা অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফিল সিমন্সকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত কাজ করবেন।’

মূলত অসদাচরণের জন্যই হাথুরুসিংহেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। এমনকি চুক্তি নিয়ে বিসিবির সঙ্গেও তিনি অসদাচরণে জড়িয়েছিলেন।

এ বিষয়ে ফারুক বলেন, ‘দুই তিনটি ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে আমার জন্য খুব পীড়াদায়ক ছিল। পাশাপাশি এটা দলের জন্যও খুব একটা ভালো উদাহরণ ছিল না। সেসব বিবেচনা করে আজকে আমরা তাকে একটা কারণ দর্শাও নোটিশ এবং দায়িত্ব থেকে অব্যহতির চিঠি দিয়েছি।’

বরখাস্ত হচ্ছেন হাথুরুসিংহে, আসছেন ফিল সিমন্স
অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে ফিল সিমন্সকে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। ছবি: সংগৃহীত

উল্লেখ্য, বিসিবি সভাপতি হওয়ার আগেই হাথুরুসিংহেকে ছাঁটাই করবেন বলে জানিয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। পরবর্তীতে পাকিস্তান সফরে টাইগারদের দারুণ সাফল্যের কারণে টিকে গিয়েছিলেন ৫৬ বছর বয়সী এই কোচ। তবে ভারত সফরে ভরাডুবির পর শেষ রক্ষা আর হলো না তার।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে এটা ছিল হাথুরুসিংহের দ্বিতীয় অধ্যায়। এর আগে, ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম দফায় টাইগারদের কোচ হন তিনি। তবে, শ্রীলঙ্কার কোচ হতে সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝপথেই বাংলাদেশের দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। এ নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। অবশ্য নিজ দেশেও তিনি বেশি দিন স্থায়ী হতে পারেননি।

এরপর ২০২৩ সালে তৎকালীন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হোসেন পাপন দ্বিতীয় মেয়াদে ফের হাথুরুসিংহকে ফিরিয়ে আনলে বিষয়টি আবারও সমালোচনার জন্ম দেয়।

দ্বিতীয় দফায় তার সঙ্গে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত চুক্তি করা হয়েছিল। অর্থাৎ সেই মেয়াদ ছিল আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, কিন্তু তার আগেই বরখাস্ত করা হলো এই কোচকে।

হাথুরুসিংহের কোচিংয়ে ১০ টেস্ট, ৩৫ ওয়ানডে ও ৩৫ টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। টেস্টে জয়-হার সমান ৫টি করে। তবে ওয়ানডেতে জয় এসেছে মাত্র ১৩টি, আর হার ১৯টিতে। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে ১৯টি ম্যাচে জয়, ১৫টিতে হার এবং পরিত্যক্ত হয়েছে একটি ম্যাচ।

অন্যদিকে, দুই দফায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের দায়িত্বে ছিলেন সিমন্স। তার অধীনেই ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করে ক্যারিবীয়রা। এছাড়া জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডেরও প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। এরপর আফগানিস্তান দলের ব্যাটিং কোচের ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। এ ছাড়াও বিভিন্ন দলের পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞ কোচ হিসেবেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সিমন্সের।

আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে ফারজানার রেকর্ড


নিজস্ব প্রতিবেদক: আগের সপ্তাহেই বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ার সেরা রেটিং পেয়েছিলেন বাংলাদেশের স্পিনার নাহিদা আক্তার। এবার নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ার সেরা অবস্থানে উঠে এসেছেন ফারজানা হক পিংকি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার ১০২ রানের ইনিংসের পরও হারের তিক্ততা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ব্যক্তিগতভাবে সুফল পেয়েছেন ফারজান, দুই ধাপ এগিয়ে তিনি ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৩ নম্বরে উঠেছেন।

মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হালনাগাদকৃত এই র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। ফারজানার বর্তমান অবস্থান বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া অন্য কোনো টাইগ্রেস ব্যাটারই ২০-এর মধ্যেও ঢুকতে পারেননি। অন্যদিকে, একই র‌্যাঙ্কিংয়ে একধাপ করে পিছিয়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি (৩০তম), রুমানা আহমেদ (৫০তম) এবং মুর্শিদা খাতুন (৫৮তম)।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ এবার ইতিহাস গড়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে একটি করে জয় পেয়েছে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের সিরিজ সমতা দিয়ে শেষ হলেও, ওয়ানডে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ওই সিরিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বোলারদের তালিকায় এগিয়েছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। চার ধাপ এগিয়ে তিনি ৫২ নম্বরে উঠে গেছেন। এছাড়া দুই বিভাগেই এগিয়েছেন অলরাউন্ডার রিতু মনি। ব্যাটিংয়ে আট ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ৬৮তম স্থানে, বোলিংয়ে চার ধাপ এগিয়ে ৯০-এ অবস্থান তার।

ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক সময়ে কেবল বাংলাদেশ ও প্রোটিয়া মেয়েরা মুখোমুখি হয়েছিল। তাই এই দল দুটিরই বড় পরিবর্তন হয়েছে র‌্যাঙ্কিংয়ে। সিরিজে একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি করলেও প্রোটিয়া অধিনায়ক লরা উলভার্টের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। তিনি ব্যাটারদের তালিকায় চারে আছেন। আগে থেকেই শীর্ষে আছেন ইংল্যান্ডের নাতালি শাইভার-ব্রান্ট। এরপর যথাক্রমে অবস্থান অষ্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি ও শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তুর।

উলভার্ট অপরিবর্তিত থাকলেও, সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করা দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার তাজমিন ব্রিটস ৩২ ধাপ এগিয়ে ৪১ নম্বরে উঠেছেন। শেষ দুই ম্যাচে ৫০ ও ১১৮ রান করা আনিকা বোশ ৭১ ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ৭০ নম্বরে। এছাড়া দেশটির বোলারদের মধ্যে দারুণ পারফর্ম করা ম্যারিজান কাপ একধাপ এগিয়ে ৮ নম্বরে এসেছেন। নাদিনে ডি ক্লার্ক চার ধাপ এগিয়ে ১৯তম এবং নঙ্কুলুলেকো ম্লাবা ছয়ধাপ এগিয়ে হয়েছেন ২৪তম।

সৌম্যকে নিয়ে যা বললেন রাচিন রবীন্দ্র


নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ফসকে গেছে বাংলাদেশের হাত থেকে। তবে এখনও নাজমুল হোসেন শান্তদের সামনে ধবলধোলাই বাঁচানোর সুযোগ রয়েছে। এরপর আবার দু’দল টি-টোয়েন্টি সিরিজে লড়বে। সর্বশেষ ওয়ানডেতে প্রায় তিনশ ছোঁয়া পুঁজি নিয়েও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ম্যাচটিতে দারুণ ব্যাটিং করা সৌম্য সরকার সবার মনোযোগ কেড়েছেন। তার ১৬৯ রান সেদিন ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছিল। সেই রেকর্ডময় ইনিংস নিয়ে এবার কথা বলেছেন নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্র।

ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশ ভালো খেলেছে বলে দাবি তরুণ এই কিউই তারকার, ‘দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। কখনও কখনও তারাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। সৌম্য সেদিন যেভাবে খেলেছে, অবিশ্বাস্য। প্রথম ম্যাচে তো শূন্য রানে দুই ব্যাটার সাজঘরে। তারা আমাদের প্রতিনিয়ত চাপে রেখেছিল। তাদের দিনে তারা ভালো দল।’

একইসঙ্গে শেষ ম্যাচেও জয়ের আশা রাচিনের, ‘নেলসনে ভালো সময় কেটেছে। আশা করছি জয় দিয়েই সিরিজ শেষ করব। ফলাফল যাই হোক আমাদের প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে হবে। নিউজিল্যান্ড দলে আমার চেয়েও অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। আমরা সবাই নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলতে চাই। যখনই সুযোগ পাব সেটা কাজে লাগাতে হবে।’

এর আগে ম্যাচ শেষে সৌম্যের ওই ইনিংস নিয়ে আরেক কিউই ব্যাটার হেনরি নিকোলস বলেছিলেন, ‘ফ্যান্টাস্টিক ইনিংস, সৌম্যর ইনিংসটা দারুণ। আমাদের ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি করেছে সে। তার ১৬৯ রানে ভর করেই বাংলাদেশ ২৯০ রান করেছে, এটাই পুরো গল্প বলে দিচ্ছে। দুর্দান্ত ইনিংস। সে একজন কোয়ালিটি ক্রিকেটার, আজ সে এটা প্রমাণ করেছে। চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মুশফিকের সাঙ্গে দারুণ একটা পার্টনারশিপ গড়ে (সৌম্য)। এই পার্টনারশিপ তাদের বড় সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সে যে শুধুমাত্র পুরো ইনিংস জুড়ে ব্যাট করেছে এমনটাই নয়, একইসঙ্গে রানও বের করেছে।’

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আগামী শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) তারা কিউইদের মোকাবিলা করবে। এরপর দু’দল ২৭, ২৯ ও ৩১ ডিসেম্বর নেপিয়ার ও মাউন্ট মঙ্গানুইতে মুখোমুখি হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে।

যুব এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৮ সালে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে শেষ বলে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিল বাংলাদেশের যুবাদের। এবার সেই স্টেডিয়ামেই ইতিহাস লিখল নতুন প্রজন্মের যুবারা। ২০২০ সালে যুব বিশ্বকাপের পর আরও একবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় সাফল্য এল যুবাদের হাত ধরে। এবার এশিয়া মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। 

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি সাক্ষী হলেন জুনিয়র টাইগারদের নতুন কীর্তির। বিজয় দিবসের ঠিক একদিন পর দুবাই থেকে ভেসে এলো দেশের  ক্রিকেটের গৌরবমাখা অনন্য অর্জনের খবর। এশিয়া কাপের ফাইনালে আরব আমিরাতকে বাংলাদেশ হারাল ১৯৫ রানের বড় ব্যবধানে। আসরের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক আশিকুর রহমান শিবলির সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশ তুলেছিল ২৮৩ রান। জবাবে আরব আমিরাত অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ৮৭ রানে। 

গ্রুপপর্বেও আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৬০ রানে বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে হারিয়েছে টুর্নামেন্টে রেকর্ড আট বারের শিরোপাজয়ী ভারতকে। আসরজুড়ে অপরাজিত থেকে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিল জুনিয়র টাইগাররা। ফাইনালে সেই আমেজটা টাইগাররা ধরে রাখল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। একপেশে ফাইনালে কোনো সুযোগই তারা দেয়নি প্রতিপক্ষ আরব আমিরাতকে। 

শুরুতে ছিল আশিকুর রহমান শিবলীর ১২৯ রানের ম্যারাথন এক ইনিংস। তাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং আরিফুল ইসলাম। একজনের রান ৬০, আরেকজন করেছেন ৫০। এরপর বল হাতে গতি আর সুইংয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছেন রোহানাত দৌলা বর্ষণ-মারুফ মৃধারা। বর্ষণ নিয়েছেন তিন উইকেট। দুই উইকেট নিয়ে জয়ের মিছিলে শামিল হয়েছেন আরেক পেসার ইকবাল হোসাইন ইমন। 

৩৫ থেকে ৪৫, ১০ রানের ব্যবধানে আরও তিন উইকেট হারায় আরব আমিরাত। তিনবারই বাংলাদেশের নায়ক বর্ষণ। তার ইনসুইং আর আউটসুইংয়ে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের মিডল অর্ডার। ৪৫ রানে পঞ্চম উইকেটের পরেই বরং কিছুটা প্রতিরোধ দেখায় দলটি। ধ্রুব পরশহার এবং ইয়ায়িন রাই মিলে ১৬ রান যোগ করেন। এজন্য দুজনে খেলেছেন ৫ ওভারের বেশি। 

তাদের সেই জুটি ভেঙেছেন ইমন। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ একেবারেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন এই পেসার। ৬১ রানে পতন ঘটে ৭ম উইকেটের। এরপর ৭১ রানে হার্দিক পাইকে ফেরান স্পিনার জীবন। আর ৭২ রানে মারুফের বলে আউট হন আইমান আহমেদ। বাংলাদেশের জয় তখন ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। 

শেষ উইকেটের জন্য খানিকটা সংগ্রাম করতে হয়েছে টাইগার বোলারদের। ধ্রুব প্রতিরোধ করতে চেয়েছেন ১১তে নামা অমিদ রহমানকে সঙ্গে নিয়ে। সেখানে এসেছে আরও কিছু রান। তবে তাতে ম্যাচের গল্প বদলানো যায়নি। আরব আমিরাত আউট হয় ৮৭ রানে। বাংলাদেশ হয়ে যায় যুব এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতে ১ উইকেট হারালেও খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হয়নি। দলীয় ১৪ রানের মাথায় জিশানের উইকেট হারানোর পর দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় জুনিয়র টাইগাররা। 

চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১২৫ রানের বড় এক পার্টনারশিপ গড়েন ফর্মের তুঙ্গে থাকা শিবলী। দুজনের এই জুটিই অনেকটা এগিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। দুজনেই রান তোলেন সাবলীল গতিতে। ফিফটির দেখা পান দুজনই। পরে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেন ওপেনার শিবলী।

২য় উইকেটে বড় জুটি করার পর ৬০ রানে ফিরে যান ওয়ান ডাউনে খেলা রিজওয়ান। 

এরপরে ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন আরিফুল ইসলাম। শিবলীর সঙ্গে তার জুটি হয় ৮৬ রানের। ৫০ রান একাই নেন আরিফুল। ৩৯ বলে তুলে নেন ফিফটি।

এই জুটি চলার সময় অপর প্রান্তে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন শিবলী। টুর্নামেন্টে এটি তার দ্বিতীয় শতক। ৪৯তম ওভারে গিয়ে আউট হওয়ার আগে করেছেন ঝলমলে ১২৯ রান।

আরিফুল অবশ্য আউট হয়েছেন ফিফটির পরের বলেই। এরপর কিছুটা ধুঁকেছে বাংলাদেশ। আহরার আমিন এবং মোহাম্মদ শিহাব দুজনেই আউট হয়েছেন দ্রুত।

তবে শেষদিকে দ্রুতগতির এক কার্যকরী ইনিংস উপহার দিয়েছেন অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বি। ১০ বলে ২১ রান করে দলের ইনিংসে রেখেছেন কার্যকরী ভূমিকা।

বিপিএল শুরু ১৯ জানুয়ারি


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আসন্ন আসরের জন্য প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৪ সেপ্টেম্বর। এবার চূড়ান্ত হয়েছে আসরের সময় সূচিও। ১৯ জানুয়ারি থেকে মাঠে গড়াবে বিপিএলের দশম আসর। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত হবে একটি ম্যাচ। যেখানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মুখোমুখি হবে দূরন্ত ঢাকা। ৭ দলের এই আসরে মোট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৪৬টি। প্রায় দেড় মাসের এই আসরের পর্দা নামবে ১ মার্চ ফাইনালের মধ্য দিয়ে।

প্রত্যেক শুক্রবার দিনের ম্যাচ শুরু দুপুর ২টায়, রাতের ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয় দিনই দিনের ম্যাচ শুরু হবে দুপুর দেড়টায়, রাতের ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

মোট তিনটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে আসরের সবগুলো ম্যাচ। এই তালিকায় আছে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

এদিকে বিপিএলের এবারের আসরের ড্রাফটে সাত ক্যাটাগরিতে মোট ২০৩ জন দেশি ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছিল। আর পাঁচ ক্যাটাগরিতে বিদেশি ক্রিকেটার ছিলেন ৪৪৮ জন। এর আগে একজন দেশি এবং একাধিক বিদেশি ক্রিকেটারকে সরাসরি চুক্তিতে দলে ভেড়ানোর সুযোগ পেয়েছে ফ্যাঞ্চাইজিগুলো। তাছাড়া গত আসর থেকে ৩ জন ক্রিকেটার করে ধরে রাখারও সুযোগ ছিল তাদের।

আউটের পর নিজের ব্যাট ভাঙলেন লিটন!

 ক্রীড়া প্রতিবেদক: সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপের আগে ভাইরস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন লিটন। যে কারণে আসরের শুরুতে খেলতে পারেননি। সুপার ফোরে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে যে কয়টা ম্যাচ খেলেছিলেন, সেখানে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। আজ ঘরের মাঠে কিউইদের বিপক্ষেও ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে পারেননি। আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার পথে নিজের ব্যাট ভেঙেছেন তিনি।

গত কয়েক ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাটিং করেছিলেন লিটন দাস। আজ আবারও ওপেনিংয়ে ফিরলেন তিনি। ইনিংস ওপেন করতে নেমে তার খেলা প্রথম বলেই ফিরতে পারতেন। ট্রেন্ট বোল্টের সিমের ওপর করা ডেলিভারিতে ব্যাটে খেলতে পারেননি। বল প্যাডে আঘাত হানলে আম্পায়ার আউট দেন। তবে বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় স্টাম্প মিস করত। ফলে এ যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার।

ইনিংসের প্রথম ওভারে রিভিউ নিয়ে বাঁচার পরও বেশি দূর এগোতে পারেননি লিটন। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে জেমিসনের বাউন্সারে আপার কাট করতে গিয়ে থার্ড ম্যানে ধরা পড়েছেন। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৬ বলে মাত্র ৬ রান।

আউটের পর মাঠ ছাড়ার সময় বেশ হতাশ ছিলেন তিনি। সীমানা দড়ি পার হয়ে ড্রেসিংরুমের সামনে নিজের ব্যাট দিয়ে একাধিকবার মাটিতে আঘাত করেন। মনের সব ক্ষোভ যেন ব্যাটের ওপর ঝাড়লেন এই ওপেনার! এরপর সেখানেই ব্যাট ফেলে ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন