নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে পাবনার এসপি ছুফি উল্লাহকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে এবং অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফকে পাবনার নতুন এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. ছুফি উল্লাহর বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরে। তিনি চলতি বছরের ৭ মে পাবনার ১২৭তম পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এত অল্প সময়ের মধ্যে এসপি ছুফি উল্লাহর বদলির ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে কী কারণে এই হঠাৎ বদলি, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বদলির আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে ছুফি উল্লাহ বলেন, কেন বদলি করা হয়েছে, তা আমার বোধগম্য নয়। তবে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কর্তৃপক্ষ যেটি প্রয়োজন বা ভালো মনে করেছে, সেটিই করেছে।
এদিকে পুলিশ ও একাধিক সূত্র জানায়, পাবনায় যোগ দেওয়ার পরপরই ছুফি উল্লাহ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। গত দুই মাসে প্রায় দেড় হাজার মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাশাপাশি প্রভাবশালীদের অবৈধ বালু তোলার উৎসবেও ভাটা পড়ে। তবে এর মধ্যে কিছু নেতিবাচক ঘটনাও ঘটে। গত দুই সপ্তাহ ধরে পাবনা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। ১৬ জুলাই ভোরে সুজানগরের মথুরাপুর দোপপাড়ায় আসামি ধরতে গেলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওসিসহ দুই কর্মকর্তা আহত হন।
নবাগত পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তাঁর বাড়ি বরিশাল জেলায়। বর্তমানে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা আগে পিবিআইয়ে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি এক বছর যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেন।




