নিরাপদ সড়ক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নিরাপদ সড়ক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঈশ্বরদীতে চালকদের প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা রোধে যানবাহন চালকদের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল শনিবার বিকেলে শহরের স্কুলপাড়া ঈদগাহ মাঠে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সম্প্রতি ঈশ্বরদী-লালপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। প্রধান বক্তার বক্তব্যে ঈশ্বরদী ট্রাফিক সার্কেলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুদ চালকদের ট্রাফিক আইন ও নিরাপদ ড্রাইভিং সংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

স্কুলপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সামাজিক সংগঠন ‘মানাব’-এর ঈশ্বরদী শাখার সভাপতি মাসুম পারভেজ কল্লোলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক মুকুল, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল আলীম খান, সাংবাদিক সেলিম সরদার, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি মো. দুখু মিয়া এবং সংবাদকর্মী মিথুন মাহবুব খান।

বক্তারা বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও নিয়ম না মানার প্রবণতার কারণে ঈশ্বরদীতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে চালকদের বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার মানসিকতা এর অন্যতম প্রধান কারণ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু প্রশাসনের অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি।

ঈশ্বরদী-লালপুর মহাসড়ক যেন মরণফাঁদ: নিরাপদ সড়কের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী-লালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ঈশ্বরদী অংশে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ঈশ্বরদী বিমানবন্দর ও স্কুলপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। ‘অনিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি’র দাবিতে শুক্রবার এই মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের মুসল্লিরা।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত এক বছরে এই মহাসড়কের স্কুলপাড়া ও বিমানবন্দর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ ঈদুল ফিতরের দিন নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মো. নুরুজ্জামান। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার ছয় দিন পর তিনি মারা যান। স্থানীয়দের দাবি, এই সড়কটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য রীতিমতো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ‘মানাব’-এর সভাপতি মাসুম পারভেজ কল্লোল। এতে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাসান আলী, স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম স্বজল, ইন্টু মল্লিক, সাদিকুল ইসলাম রাসেল, আশেকুল ইসলাম পিয়াস, মেহেদী হাসান মিরাজ, জালাল উদ্দিন, স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ ওমর ফারুক এবং নারী উদ্যোক্তা ফারজানা ফেরদৌস পুস্প।

কর্মসূচি সম্পর্কে মাসুম পারভেজ কল্লোল বলেন, এই আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে বেপরোয়া গতির যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকার মানুষ এই আতঙ্ক থেকে মুক্তি চায়। ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সড়ক বিভাগ দ্রুত স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হবে।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন