হামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসসহ আহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ হোসেন আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার মথুরাপুর এলাকার দোপপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি বিশেষ ম্যাচ থাকায় ভোররাত পর্যন্ত মথুরাপুর এলাকায় ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। পুলিশের কাছে গোপন তথ্য ছিল, এই সুযোগে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুল ওহাবের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সেখানে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি টহল দল দুটি গাড়িতে করে দোপপাড়া এলাকায় যায়।

পুলিশের দাবি, সেখানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত সন্দেহে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ওই দলের শতাধিক নেতা-কর্মী ও কয়েক শ সমর্থক দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

তবে পুলিশের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাব। তিনি বলেন, ‘পুলিশের অভিযানের কারণে আমি নিজেই এলাকায় যেতে পারি না, সেখানে উপস্থিত থাকার প্রশ্নই আসে না। আমি যতটুকু জেনেছি, রাতে খেলা দেখার পর স্থানীয় যুবকেরা সেখানে খিচুড়ি রান্না করে খাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ গিয়ে ১০-১৫ জনকে আটক করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও নারীরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তাঁদের ছাড়িয়ে নেন। এ সময় ধস্তাধস্তিতে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুজন পুলিশ সদস্য সামান্য চোট পান।’

এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, হামলায় ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান ভাঙচুর করে পণ্ড করল বিএনপির এক পক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অবসর নেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ভাঙচুর করে পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার তৈরি হলে একপর্যায়ে মঞ্চ, শামিয়ানা, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করা হয়। নষ্ট করে দেওয়া হয় অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা খাবারও।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ৭০ নম্বর জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের অবসর উপলক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সেখানে যান। তাঁরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে একপর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থলে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে মঞ্চের সাজসজ্জা, শামিয়ানা, চেয়ার ও টেবিল ভেঙে ফেলা হয় এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আর করা সম্ভব হয়নি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শেখ, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মো. ফজলুর রহমানের।

এই বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। অথচ দলের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন মানুষকে অতিথি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল এবং তা জেলা পর্যায়ের নেতাদেরও জানানো হয়েছিল। পরে সেখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তবে ভাঙচুরের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন।

বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর নেওয়া উপলক্ষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে দাওয়াত না দেওয়ায় তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার, সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকসহ ১২ থেকে ১৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে মঞ্চে উঠে ভাঙচুর চালান।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার বলেন, দলীয় বিরোধের জেরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা রাজনৈতিকভাবে নিন্দনীয়। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, স্থানীয় বিএনপির ভেতরের দলাদলির জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহীনা আক্তার বলেন, অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলা চালিয়ে পুরো আয়োজন পণ্ড করে দেওয়া হয়। একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার এবং সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওর্য়াড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশাদুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে কিন্ডারগার্টেনে হামলা, ওড়না পেঁচিয়ে শিক্ষিকাকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষার্থীকে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কিন্ডারগার্টেনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সহকারী শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় এনে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ওই শিক্ষককে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বয়স ২৫ বছর। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নের চর কুড়লিয়া গ্রামের ‘সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতন’ নামের একটি কিন্ডারগার্টেনে ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল ও তাঁর পরিবারের পাঁচ-ছয়জন সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্কুলে হামলা চালান। উজ্জ্বলের বয়স ৫৫ বছর। এতে সহকারী শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথী ছাড়াও স্কুলের অধ্যক্ষের মা ও বোন আহত হন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্কুলশিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে নিয়মিত না আসা ও পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধমক দিয়ে শাসন করেন স্কুলের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা। এতে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে যায়।এর কিছুক্ষণ পর বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্কুলে এসে অধ্যক্ষকে খুঁজতে থাকেন। তাঁকে না পেয়ে তাঁরা স্কুলের পাশের বাড়িতে থাকা অধ্যক্ষের মা ও বোনকে হুমকি দেন এবং মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথী এগিয়ে এলে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাঁর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও অন্য শিক্ষকেরা তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

স্কুলের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উজ্জ্বল মাল বিভিন্নভাবে তাঁদের বিরক্ত করতেন। তাঁর ভাষ্য, ‘ভাগনি নিয়মিত স্কুলে না আসায় আমি তাকে শাসন করে নিয়মিত আসতে বলেছিলাম। কিন্তু বিষয়টি না বুঝেই তাঁরা স্কুলে হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছেন।’ ঘটনার সময় তিনি স্কুলে না থাকায় রক্ষা পেয়েছেন বলেও জানান।

অধ্যক্ষ আরও জানান, আহত শিক্ষক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এতে উজ্জ্বল মালসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিক্ষার্থীকে শাসন করাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উজ্জ্বল মালের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদীতে ছাত্র আন্দোলনে হামলা: মহিলা শ্রমিক লীগ নেত্রীসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় পৃথক অভিযানে মহিলা শ্রমিক লীগ নেত্রীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঈশ্বরদী শহরের মধ্য অরণকোলা আলহাজ ক্যাম্প এলাকার আব্দুস সালামের স্ত্রী ও উপজেলা মহিলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মোছা. নাসিমা বেগম (৪৫) এবং উমিরপুর এলাকার গোলাম রসুলের ছেলে রাজু আহমেদ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিমা বেগম ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ৫০ নম্বর আসামি। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে, রাজু আহমেদ ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) ঈশ্বরদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। যদিও রাজু মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন, তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

মনিরুল ইসলাম জানান, 'গ্রেপ্তারের পর রাজুকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিকেলে গ্রেপ্তার দুইজনকে পাবনা আদালতে পাঠানো হয়েছে'।

ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রলীগের হামলা


নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় সমন্বয়ক ইব্রাহিম হোসেন আহতের ঘটনা তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ইব্রাহিম হোসেনের ওপর হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনার পর পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা সদরের ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ইব্রাহিম পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি পৌর শহরের পূর্বটেংরি এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে ইব্রাহিম এবং তার বন্ধু কলেজের সামনে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় ৩-৪ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ইব্রাহিমকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার বিষয়ে ইব্রাহিম ফেসবুকে লাইভে এসে বলেন, ‘পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল হোসেনসহ আরও কয়েকজন লাঠি নিয়ে তার ওপর হামলা করে। শাকিল তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি করার চেষ্টা করলেও স্থানীয়রা এগিয়ে আসায় পালিয়ে যায়। তিনি এর বিচার দাবী করেন’।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. কাবেরী জানান, 'আহত ইব্রাহিমকে রাতেই আমাদের এখানে আনা হয়। তার শরীরে তেমন গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কিছুটা ব্যথা ছিল, যা প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে সামলানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত আছেন।'

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, 'নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।'

রাতে ইরান, সকালে হিজবুল্লাহর হামলা ইসরায়েলে

ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৃষ্টি হওয়া বড় একটি গর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: গতকাল রাতে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সকালে হামলা চালিয়েছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। 

হিজবুল্লাহ বলছে যে, তারা আজ সকালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পর পর কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল ইসরায়েলি সামরিক ব্যারাকে রকেট হামলা। 

হিজবুল্লাহ একটি বিবৃতিতে এসব জানিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ আরও বলেছে যে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে ৭টা ২০ মিনিটের মধ্যে শুৎলা ও মাসকাফ আম সেটেলমেন্টে এবং শোমেরা ব্যারাকে ইসরায়েলি সেনাদের একটি জমায়েতে তিনটি মিসাইল হামলা চালানো হয়।  

হিজবুল্লাহ বলছে তারা যত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এর বেশ কয়েকটি সরাসরি ও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। 

এই হামলা চালানোর কিছুক্ষণ আগেই লেবাননের আদাইসেহ শহর থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পিছু হটিয়ে দেওয়ার কথা জানায় হিজবুল্লাহ।

হিজবুল্লাহর এসব দাবির বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি  ইসরায়েল। 

ইসরায়েলের পাশে থাকার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এক রাতে ১৮১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ায় ইরানের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যদি সত্যিই ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বেঁধে যায়, তাহলে ইসরায়েলের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। 

মঙ্গলবার রাতের হামলার পর বুধবার সকালে এক বিবৃতিতে লয়েড অস্টিন বলেন, “আমরা ইরানের এই ভয়াবহ আগ্রাসী হামলার নিন্দা জানাচ্ছি এবং ইরান এবং তার সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ইসরায়েলে আর কোনো হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

“সেই সঙ্গে স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সেনাঘাঁটি, ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের লক্ষ্য করে যদি পরবর্তীতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তাহলে আমরা ইসরায়েল ও আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের পাশে থাকব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সেই হামলার সমুচিত জবাব দেবে।” 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি এক বার্তায় জানিয়েছেন, “ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হবে। আমাদের পরিকল্পনা প্রস্তুত আছে, ঠিক সময়ে সেটির বাস্তবায়ন করা হবে।”

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরবৈরী দেশের পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব ওই অঞ্চলে অচিরেই যুদ্ধের আশঙ্কাকে উসকে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল বারনিয়ার এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানেলিনা বেয়ারবক।

যা বলছে জর্ডান

গতকাল ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হলেও ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অংশ পড়েছে জর্ডানেও। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সীমান্ত লাগোয়া জর্ডান বলছে, তারা কারও যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।    

জর্ডানকে মূলত পশ্চিমা মিত্রদেশ হিসেবে দেখা হয়। তবে সেখানে অনেক ফিলিস্তিনি জনগণ রয়েছে। গত এপ্রিলে ইসরায়েলে ইরান যখন হামলা করেছিল, তখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সাহায্য করছিল জর্ডান।

জর্ডানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী আম্মানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অংশ পড়েছে। 

দেশটির একজন মন্ত্রী মোহাম্মদ আল-মোমেনি আল-মালাকা টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, জর্ডানের অবস্থান সবসময়ই এটা ছিল যে এটি কারও জন্য যুদ্ধক্ষেত্র হবে না। জর্ডান এবং এর জনগণকে রক্ষা করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব। 

ক্ষেপণাস্ত্র এবং ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন আল-মোমেনি। 

রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় সম্প্রচারিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। আম্মানের উত্তর-পশ্চিমে বালকা গভর্নরেট থেকে একটি লাইভ প্রতিবেদনে একজন সাংবাদিক জানান, সেখানে ২ মিটার লম্বা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি টুকরো এসে পড়েছে। 

আশ্রয়ে নেওয়ার আদেশ: জর্ডানের সামরিক বাহিনী দেশের জনগণকে  বাড়িতে থাকতে এবং তার সব বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে।  

তেহরানে উৎসব 

ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানের রাস্তায় উদযাপন করতে দেখা গেছে বহু মানুষকে। ইরান এবং হিজবুল্লাহর পতাকা হাতে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। শুক্রবার লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হিজবুল্লাহ নেতার ছবিও ছিল অনেকের হাতে। 

ব্রিটিশ দূতাবাসের সামনে মূলত এই জমায়েত হয়। এর আগে এপ্রিলে ইসরায়েলে ইরানের হামলার পরও এই একই স্থানে জমায়েত লক্ষ্য করা যায়। 

সম্প্রতি হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সিনিয়র কমান্ডারদের হত্যার জবাবে গতকাল রাতে ইসরায়েলে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ড। তারা বলছে, ইসরায়েল যদি এই হামলার জবাব দেয় তবে আরও হামলা চালানো হবে। 

ঈশ্বরদীতে মিছিলে হামলা ও গুলিবর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল কর্মী সচীন বিশ্বাস সাজুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রাসেল হোসেনকে আসামী করার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর ব্যানারে বিক্ষোভ ও ঝাড়– মিছিল হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সাহাপুর জিগাতলা এলাকা থেকে এলাবাসীর ব্যানারে ঝাড়– নিয়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রূপপুরের দিকে যাচ্ছিল। মিছিলটি নতুন রূপপুর কড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে রূপপুর স্কুলের বাউন্ডারি মধ্যে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা আচমকা মিছিলে গুলিবর্ষন করে। এসময় ওই এলাকার দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের ছুটাছুটি করতে দেখা যায়। পর পর ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলিবর্ষনে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় মিছিলে থাকা শারিরিক প্রতিবন্ধী সজল প্রামানিককে পিটিয়ে আহত করে মিছিল প্রতিহতকারি দুর্বৃত্ত্বরা। 

এক পর্যায়ে মিছিলে হামলা করার অভিযোগে এলাবাসী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান সুমনের বাড়ি ও অফিসে হামলা ও ভাংচুর করে। রাস্তার পাশে থাকা দুটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় দুবর্ৃৃত্ত্বরা। আহত সজল প্রামানিক (২৫) নামে একজনকে আহত অবস্থায় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঈশ্বরদীর ভেলুপাড়া এলাকার শফি প্রামানিকের ছেলে ও কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, এলাকাবাসীর শান্তিপূর্ণ মিছিলে তানভীর হাসান সুমনের নেতৃত্বে নবী, দাদা সজিবসহ ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসিরা গুলিবর্ষন ও হামলা চালিয়েছে। 

তানভীর হাসান সুমন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিছিলে কারা গুলিবর্ষণ করেছে তা জানিনা তবে মিছিল থেকে একদল দূর্বত্ত আমার বাড়ি ও অফিসে হামলা ও ভংচুর করেছে। 

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, মিছিল, হামলা, গুলিবর্ষনের খবর পেয়েছি তবে এখনো এ বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসরায়েলে হামাসের হামলা- ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন বেড়েছে আরব বিশ্বের

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর আরব বিশ্বে ফিলিস্তিনিপন্থি মনোভাব প্রবল হয়ে উঠেছে। আরব দেশগুলোর মসজিদ, ফুটবল স্টেডিয়াম ও গ্রামীণ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে স্লোগান চলছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছে আরব জনতা।

ডয়চে ভেলে জানায়, আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে প্রক্রিয়া চলছিল, হামাসের হামলার পর সেটির প্রতি মনোযোগ সরে গেছে। এখন ফিলিস্তিনিদের প্রতি নতুন করে আরবদের সমর্থন দেখা যাচ্ছে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেছিলেন যে, দুই পক্ষ ‘প্রতিদিনই একটু একটু করে ঘনিষ্ঠ’ হচ্ছে। এখন সেসব কথা যেন বহু দিনের পুরোনো বাক্য বলে মনে হয়। ইসরায়েলি বাহিনী ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে ফোনালাপে জানিয়েছেন, সৌদি আরব ফিলিস্তিনিদের পাশে রয়েছে। সৌদি আরব এখন প্রকাশ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলছে এবং তাদের ফিলিস্তিনি জনগণের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করছে। ফলে ইসরায়েলে হামলা করে ফিলিস্তিনিদের বিষয়টি আবার সামনে নিয়ে আসা যে হামাসের একটি বড় সাফল্য- সেটা বললে অত্যুক্তি হবে না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো রিচার্ড লেব্যারন মনে করেন, এই হামলা সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্য সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের বিষয়ে পরিবর্তন আনবে।

হামাসের হামলাকাণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ‘প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার প্রতি সংহতি জানিয়েছে সাধারণ আরব জনতা। ফিলিস্তিনের রামাল্লা থেকে বৈরুত, দামাস্কাস, বাগদাদ এবং কায়রোতে মানুষ ফিলিস্তিনিদের সাফল্য কামনার জন্য প্রার্থনা জানিয়েছে। দখলকৃত পশ্চিমতীরের রামাল্লায় কফির দোকান পরিচালনা করেন ৫২ বছর বয়সী ফারাহ আল সাদি। তিনি বলেন, ‘সারা জীবন দেখেছি, ‘ইসরায়েলিরা আমাদের মারছে, আমাদের ভূমি কেড়ে নিচ্ছে আমাদের সন্তানদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে।’ সাদির নিজের ছেলে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি। সাদি জানান, হামাস যা করেছে, তাতে তিনি খুশি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি এই কফির দোকানদার গাজায় ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও রাজধানী বৈরুতে সাধারণ মানুষ উল্লাস করে। গত ২২ বছর ধরে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ইসরায়েলি বাহিনী দখল করে রয়েছে। দুই পক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। লেবাননের একটি মসজিদের সামনে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পক্ষে সমাবেশ হয়। সমাবেশে ‘ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা চমৎকার ও নায়কোচিত মহাকাব্য লিখছেন’ বলে স্লোগান দেয়া হয়। লেবানের কৌতুক অভিনেত্রী শাদেন ফাকিহি ইসরায়েলের প্রতি পশ্চিমা সমর্থনের সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আপনারা ফিলিস্তিনিদের কাছে কী আশা করেন? তারা প্রতিদিন নীরবে খুন হবেন আর কিছুই করবে না?’

তিউনিসিয়ার রাজধানীর স্কুলগুলোয় ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সংহতি সমাবেশের ডাক দেয়। তিউনিসিয়ার সরকার ‘ফিলিস্তিনিদের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে তাদের দাঁড়ানোর অধিকারের’ প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের অপেরা হাউসে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন