![]() |
| প্রতীকী ছবি |
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের ডিগ্রির চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় পৌনে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত লক্ষীকুন্ডার চরকুড়লিয়া গ্রামের নছিরের ঘাট ও আকাতের ঘাট এলাকায় গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকাল থেকে দুই পক্ষের শক্তি প্রদর্শনের মহড়া শুরু হয়। এ সময় প্রতিপক্ষরা কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধামকি দেয়। রাস্তায় হামলার শিকার হন চরকুড়লিয়া গ্রামের সাহাবুল ইসলামসহ দু’জন, যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর গ্রামবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, অনেকে ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চরকুড়লিয়া গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান ও কুষ্টিয়ার হরিপুর ইউনিয়নের মুকুল গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এই দুই গ্রুপের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও জড়িত।
দুই দিন আগে লক্ষীকুন্ডার তালবাড়িয়া এলাকার সরকারি খাস জমি ইজারা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ওই জমির বণ্টন নিয়ে সাইদুর ও মুকুল গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। শুক্রবার রাতে এই দ্বন্দ্ব সংঘর্ষে রূপ নেয়।
রাত ১২টার দিকে দুই পক্ষ এলাকায় মহড়া দিতে শুরু করে এবং গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'শব্দ এত জোরালো ছিল যে আমরা ভয় পেয়ে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে ছিলাম। মনে হয়েছে গুলি ও ককটেলের শব্দ।'
সংঘর্ষের খবর পেয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল মিয়ার নেতৃত্বে তিনটি গাড়ি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, এলাকার আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় মুকুল গ্রুপের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সাইদুর রহমান দাবি করেছেন, এই ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং প্রতিপক্ষরা তাদের লোকজনকে চর এলাকায় যেতে দিচ্ছে না।
.jpg)
