জনদুর্ভোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জনদুর্ভোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

নিজ খরচে ঈশ্বরদীর সড়ক সংস্কার করলেন নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে নিজ অর্থায়নে ঈশ্বরদী শহরের গুরুত্বপূর্ণ কলেজ রোডের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করেছেন পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন।

শুক্রবার দিনব্যাপী চাঁদআলী মোড় থেকে আকবরের মোড় হয়ে অরণকোলা পশুর হাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন গর্তে রাবিশ, বালু, ইট ও খোয়া ফেলে এ সংস্কারকাজ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির ইট ও খোয়া উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ছোট যানবাহন চলাচলেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। বর্ষায় এই পথ দিয়ে চলাচল আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল।

ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশায় এলাকাবাসী দুর্ভোগে ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকলেও রফিকুল ইসলাম নয়ন নিজ তাগিদে কাজটির ব্যবস্থা করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, সাময়িক এই সংস্কারের ফলে চলাচলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। এর আগেও তিনি এলাকার সড়ক সংস্কার, অসচ্ছলদের সহায়তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করেছেন।

রফিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে সড়কটির করুণ দশার কারণে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। তাঁদের কষ্ট লাঘব করতেই এই সাময়িক চেষ্টা। এটি কোনো প্রচারণামূলক কাজ নয়।

ঈশ্বরদীতে বেহাল সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা একটি সড়ক মেরামতের দাবিতে বড় বড় গর্তে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচারা গোলচত্বর মোড় থেকে লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের কামালপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার সোনার বাংলা, বৈষম্যের ঠাঁই নাই; চাঁদা নিলে, চাঁদা নে—রাস্তা পাকা করে দে’ স্লোগান দিয়ে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সড়কটি সাহাপুর ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের অন্তত ১৫ হাজার মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। প্রতিদিন এ পথে ইঞ্জিনচালিত ত্রিরথ বা ভুটভুটি, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, ট্রাক্টর, পণ্যবাহী ট্রাক ও সবজিবাহী যানবাহন চলাচল করে। সড়কটি ব্যবহার করে দুই ইউনিয়নের মানুষ প্রায় সাত কিলোমিটার পথ সাশ্রয় করতে পারেন।

তাঁরা জানান, দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সড়কটি পাকা করে। তবে ইটভাটায় যাতায়াতকারী অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের কারণে নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সড়কের অধিকাংশ স্থানে দুই থেকে তিন ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ভরে যায় এবং পুরো সড়ক কাদাপানিতে ডুবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়ক আল আমিন প্রামাণিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়কটি মেরামতের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই জনদৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তাঁরা সড়কের গর্তে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

কর্মসূচিতে আজিবুল মণ্ডল, রবিন হোসেন, রুবেল হোসেন, সানমুন মণ্ডলসহ কয়েক শ গ্রামবাসী অংশ নেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে যানজট কমাতে পুরনো সাঁকো সংস্কারের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী শহরের তীব্র যানজট কমানোর জন্য বহুদিনের দাবি থাকলেও এখনই ফ্লাইওভার ব্রিজ তৈরি হচ্ছে না। তবে বিকল্পভাবে শহরের রেলগেটের উত্তর পাশে বন্ধ হয়ে থাকা পুরনো রাস্তার নিচের সাঁকো  সংস্কার করে খুলে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে।

সোমবার সকালে পাকশী রেলওয়ে বিভাগের প্রকৌশলী (ডিইএন-২) বীরবল মন্ডল, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কাজের উদ্বোধন করেন।

রেলওয়ের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ১৯১৫ সালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের পর দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের জন্য ঈশ্বরদী রেলস্টেশন তৈরি হয়। শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলগেট এবং রেললাইনের নিচ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করা হয়, যেটি দিয়ে মানুষ ও ছোট যানবাহন চলাচল করত কিন্তু ১৯৯৮-৯৯ সালের দিকে কিছু ব্যক্তি সাঁকোটির দুই পাশ দখল করে দোকান-পাট গড়ে তোলেন। তখন থেকে রাস্তার নিচের ওই পথটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শহরের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের যাতায়াত পুরোপুরি রেলগেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রতিদিন ২৫ বার রেলগেট বন্ধ রাখতে হয়, যার ফলে দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সিএনজি, অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা জানান, রেলগেটের কারণে দিনরাত যাত্রী নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। সাঁকোটি চালু হলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

মাদক বিরোধী সংগঠন মানাবের সভাপতি মাসুম পারভেজ কল্লোল বলেন, 'ঈশ্বরদী শহরের পূর্ব পাশে হাসপাতাল, পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিসসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পশ্চিম পাশে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়। রেলগেট বন্ধ থাকলে দুই পাশের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। নিচের সাঁকোটি চালু হলে শহর যানজটমুক্ত হবে।'

ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন বলেন, 'নিচ দিয়ে চলাচলের পথটি সংস্কার করে চালু করার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। দ্রুত কাজ শেষ করা উচিত।'

পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু বলেন, 'শহরে দিন দিন জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। ফ্লাইওভার না থাকায় রেলগেটের যানজট শহরবাসীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। নিচের রাস্তা খুলে দিলে যানজট অনেকটাই কমবে।'

পাকশী রেলওয়ে বিভাগের প্রকৌশলী বীরবল মন্ডল জানান, 'ফ্লাইওভার নির্মাণের কিছু জটিলতা রয়েছে। তাই আপাতত পুরনো সাঁকো সংস্কার করে ছোট ও মাঝারি আকারের যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এতে শহরের যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।'

দু-বেলা পাতে সবজি দেওয়াও দায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজারে সবজির দাম ক্রমেই বাড়ছে। ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজিই কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় চরমভাবে অস্বস্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যমআয়ের মানুষ। তারা ক্ষোভ ঝেড়ে বলছেন, মাছ-মাংস তো দূরের কথা এখন দু-বেলা পাতে সবজি দেওয়াও দায়।

রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে সিম। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বেগুন ও বরবটি। তার চেয়ে বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে গাজর ১৪০ টাকা ও টমেটো ১২০ টাকা। সেঞ্চুরির কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে (৮০ থেকে ৯০ টাকা) কচুরমুখি, কচুর লতি, করলা উচ্ছে ও করলা। চাল কুমড়া, লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস। এছাড়াও প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধা কপির দাম ৬০ টাকা। কাঁচা-কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গরিবের সবজি বলে খ‍্যাত ধুন্দলের কেজি ৬০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স ও পটলও। অর্থাৎ ৬০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজিই নেই বাজারে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন