থানা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
থানা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে পাওনা টাকার দাবিতে ব্যবসায়ীর দাফনে বাধা, ৩ ঘণ্টা পর সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে উজ্জ্বল মল্লিক (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর পর পাওনা টাকার দাবিতে তাঁর লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন ঘণ্টা লাশের খাটিয়া অবরুদ্ধ করে রাখেন পাওনাদারেরা। পরে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পাওনা টাকা পরিশোধের আশ্বাসে দাফন সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত উজ্জ্বল মল্লিক ওই গ্রামের সফি মল্লিকের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উজ্জ্বল মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান।

মৃত ব্যক্তির দ্বিতীয় স্ত্রী চুমকি খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী ইটভাটা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ব্যবসার সুবাদে কিছু মানুষ টাকা পাওনা রয়েছে দাবি করে তাঁর মরদেহ দাফনে বাধা দেয়।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুকুল হোসেন জানান, পাওনাদারদের আপত্তির মুখে দাফনে বিলম্ব হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে পাওনা টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

ঈশ্বরদীতে কলাবাগানে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মী-পরিবারকে মারধর, অস্ত্রধারী মূল আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে একটি কলাবাগানে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে চারজনকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের দিয়াড় বাঘইল এলাকায় লাবলু বিশ্বাসের কলাবাগানে এই ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন নিরাপত্তাকর্মী মো. নাইমুল ইসলাম জিন্নাহ, তাঁর মা নাছিমা বেগম (৫০), বাবা মো. ছাইদুল ইসলাম খাঁ ও দাদি মোছা. জবেদা বেগম (৭০)। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মী নাইমুল বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি আব্দুর রব ওরফে আব্দুল্লাহকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে আব্দুর রব, শুভ্র (২২) ও রিমন (২৮) কলাবাগানে প্রবেশ করে নাইমুলের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে আব্দুর রব লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর শুরু করেন। এ সময় শুভ্র তাঁর বুকের ওপর বসে গলা চেপে ধরেন এবং রিমনও তাঁকে মারধর করেন।

ছেলের চিৎকার শুনে মা নাছিমা বেগম এগিয়ে গেলে তাঁকে রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এরপর বাবা ও দাদি বাঁচাতে এলে তাঁদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান।

আহত নাইমুলকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁর মা ও বাবাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইয়াদুর রহমানের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে চরসাহাপুর নতুনহাট গ্রিনসিটি এলাকা থেকে প্রধান আসামি আব্দুর রবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান: অস্ত্রসহ আটক ২৩ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি ওয়ান শুটারগান ও চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার ভোররাত থেকে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের ডিগ্রিরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার চারজন, নিয়মিত মামলার একজন এবং মাদক সেবনের অভিযোগে ১৮ জন রয়েছেন। উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, ঈশ্বরদীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ দলটি লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের ডিগ্রিরচরে অভিযান চালিয়ে দুটি ওয়ান শুটারগান ও তিনটি হাসুয়া উদ্ধার করে। এ ছাড়া অন্য একটি স্থান থেকে আরও একটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ জানায়, পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার পাঁচ আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মাদক সেবনের দায়ে গ্রেপ্তার ১৮ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন