ঈশ্বরদীতে কলাবাগানে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মী-পরিবারকে মারধর, অস্ত্রধারী মূল আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে একটি কলাবাগানে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে চারজনকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের দিয়াড় বাঘইল এলাকায় লাবলু বিশ্বাসের কলাবাগানে এই ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন নিরাপত্তাকর্মী মো. নাইমুল ইসলাম জিন্নাহ, তাঁর মা নাছিমা বেগম (৫০), বাবা মো. ছাইদুল ইসলাম খাঁ ও দাদি মোছা. জবেদা বেগম (৭০)। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মী নাইমুল বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি আব্দুর রব ওরফে আব্দুল্লাহকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে আব্দুর রব, শুভ্র (২২) ও রিমন (২৮) কলাবাগানে প্রবেশ করে নাইমুলের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে আব্দুর রব লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর শুরু করেন। এ সময় শুভ্র তাঁর বুকের ওপর বসে গলা চেপে ধরেন এবং রিমনও তাঁকে মারধর করেন।

ছেলের চিৎকার শুনে মা নাছিমা বেগম এগিয়ে গেলে তাঁকে রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এরপর বাবা ও দাদি বাঁচাতে এলে তাঁদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান।

আহত নাইমুলকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁর মা ও বাবাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইয়াদুর রহমানের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে চরসাহাপুর নতুনহাট গ্রিনসিটি এলাকা থেকে প্রধান আসামি আব্দুর রবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন