ঈদুল আজহা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঈদুল আজহা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীবাসীকে জানাই পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের শেখায় ত্যাগ, ধৈর্য ও মানবতার মহান আদর্শ। এই দিনে আসুন আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের পাশে দাঁড়াই, ভুলে যাই হিংসা-বিদ্বেষ, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার বন্ধনে আবদ্ধ হই।

ত্যাগের মহিমায় আলোকিত হোক প্রতিটি জীবন, জেগে উঠুক মানবিক বাংলাদেশ। আপনাকে ও আপনার প্রিয়জনকে জানাই ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

আল্লাহ্‌ আমাদের ত্যাগ কবুল করুন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করুন।

মোখলেসুর রহমান বাবলু

সাবেক মেয়র, ঈশ্বরদী পৌরসভা

ত্যাগের আদর্শে উদ্ভাসিত হোক প্রতিটি হৃদয়

আত্মত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল বার্তা বহন করে।

এই পবিত্র দিনে আসুন আমরা হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াই—ভাগ করে নিই ঈদের খুশি, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই অসহায়-দুঃখীদের প্রতি।

ত্যাগের শিক্ষা আমাদের করুক আরও মানবিক, উদার ও সংবেদনশীল।

আপনাকে ও আপনার পরিবারকে জানাই পবিত্র ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

আল্লাহ আমাদের সবার ত্যাগ কবুল করুন।

মাহবুবুর রহমান পলাশ
সভাপতি, পূর্বটেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ
সাবেক নেতা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল

ঈশ্বরদী পৌর যুবদল পরিবারের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগ ও কোরবানির মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। এই দিনে সমাজে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহানুভূতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। আসুন, আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিই পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের সবার সঙ্গে।

এই পবিত্র দিনে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করছি। আল্লাহ আমাদের ত্যাগ কবুল করুন এবং ঈদটি নিয়ে আসুক অফুরন্ত আনন্দ ও প্রশান্তি।

ঈদ মোবারক!

জাকির হোসেন জুয়েল
সাধারণ সম্পাদক, ঈশ্বরদী পৌর যুবদল
সহসাধারণ সম্পাদক, পাবনা জেলা যুবদল

ঈশ্বরদীতে জমে উঠেছে ঈদ বাজার, মধ্যবিত্ত মার্কেটে ক্রেতার অভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতর যতই কাছে আসছে, ততই শহরের বিভিন্ন বাজারে বেড়ে গেছে কেনাকাটার ধুম। শহরের বড় বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিক্রি, তবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের মার্কেটগুলোতে এখনও তেমন জমজমাট হয়নি।

এবারের ঈদ বাজারে দেশীয় পোশাকের আধিপত্য বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। পূর্বের তুলনায় ভারতীয় সিরিয়াল বা সিনেমার নায়িকাদের নামে পরিচিত পোশাকের চাহিদা অনেকটাই কমেছে। দেশীয় ডিজাইনের পোশাকের বিক্রি বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ।

শহরের নামী বিপণিবিতানগুলোতে তরুণীদের পোশাকের দাম শুরু হয়েছে দেড় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। ছোটদের পোশাকের মধ্যে বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে লং ফ্রক, পার্টি ফ্রক, লেহেঙ্গা ও লং কামিজ। ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি বিক্রি হচ্ছে সুতি টি-শার্ট, বেবি স্যুট ও প্যান্ট।

নারীদের জন্য বাজারে এসেছে সারারা, গারারা, নায়রা, গাউন, থ্রি-পিস, লেডিস টপস ও কুর্তি-প্যান্ট। এসব পোশাকের দাম ১,৫০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে, নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পরিচিত হকার্স মার্কেটে বিক্রি কিছুটা কম হলেও বিক্রেতারা আশা করছেন, ২৫ রমজান পর বেচাকেনা বাড়বে। এখানে ২-৪ হাজার টাকার মধ্যেই ভালো মানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উপযোগী।

রেলওয়ে সুপার মার্কেটের বিক্রেতা আব্দুর রহিম জানান, 'এখনো বিক্রি কম, তবে আশা করছি ২৫ রমজান পর বিক্রি বেড়ে যাবে।'

অপর বিক্রেতা আক্তার হোসেন বলেন, "শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে কিছুটা, কিন্তু বড়দের পোশাকের বিক্রি কম। দেশের পরিস্থিতির কারণে বাজার কিছুটা মন্দা যাচ্ছে।"

প্রসাধনী ও জুয়েলারি দোকানগুলোতে ইফতারের পর ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। বাহারি ডিজাইনের চুড়ি, কৃত্রিম গয়না ও অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ।

পাকশী থেকে কেনাকাটা করতে আসা রবিউল দম্পতি বলেন, 'ভালো মানের পোশাক ২ হাজার টাকার নিচে পাওয়া কঠিন। গত বছরের তুলনায় দাম ৩০০-৫০০ টাকা বেশি, তাই বাজেটের মধ্যে সেটি ফিট করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।'

দিনমজুর তছলিম আলী বলেন, 'পরিবারের জন্য পোশাক কিনতে এসেছি, কিন্তু বড় মার্কেটে দাম বেশি হওয়ায় হকার্স মার্কেটেই কেনাকাটা করছি।'

ঈদ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন টেইলার্সে ব্যস্ততা বেড়েছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবি ও শার্ট তৈরির চাপ বেশি।

ডায়মন্ড টেইলার্সের মালিক হাসান আলী বলেন, 'এখন প্যান্টের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এখন শুধু শার্ট ও পাঞ্জাবির অর্ডার নিচ্ছি।'

মৌসুমী টেইলার্সের মালিক আব্দুর রহিম জানান, 'এবার কাজের চাপ অনেক বেশি। শবে বরাতের পর থেকেই অর্ডারের লাইন লেগে গেছে।'

আজ ঈদ: ‘মনের পশুকে’ কোরবানির দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা বা ত্যাগের উৎসব। মুসলিমদের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ ঈদ যতটা না আনন্দের তার চেয়ে বেশি ত্যাগের। সামর্থ্যবান মুসলমানরা পরিশুদ্ধি, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করবেন। এর মাধ্যমে নিজেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে সমর্পণ করাই ঈদুল আযহার মূল মর্মবাণী।

ত্যাগের এই উৎসবে পশুরহাটে ঘুরে ঘুরে কোরবানির পশু কেনায় আনন্দ পান মুসল্লিরা। সামর্থ্যবানরা কোরবানির পশু কিনেছেন। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই শহর থেকে হাজারো ভোগান্তি পেরিয়ে গেছেন গ্রামের শিকড়ের কাছে।

ঈদগাহে জামাত আদায়ের মধ্যদিয়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের সব ইদগাহে প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সকাল সকাল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন, এরপর পশু কোরবানি করবেন।

ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ত্যাগের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিরোধীদলীয় নেতা জি এম কাদের, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ রাজনীতিকরাও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশবাসীকে।

কোরবানির রীতি অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়াও পরের দু’দিনও পশু কোরবানি করার সুযোগ রয়েছে। সে হিসেবে বুধবার আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে। সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি করা ফরজ। কোরবানির পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ বিলিয়ে দিতে হয় গরিব-মিসকিনকে। আত্মীয়দের দিতে হবে এক ভাগ।

ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। এ ছাড়া, মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এখানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম মসজিদসহ রাজধানীতে ১৮৪টি ঈদগাহ ও প্রায় দেড় হাজার মসজিদে ঈদের নামাজ পড়বেন মুসল্লিরা। দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ। এবার ১৯৭তম ঈদের জামাত হবে এ ঈদগাহে। অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে। ঈদের জামাতের সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) এর ঐতিহাসিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোরবানি ইবাদতের মর্যাদা লাভ করেছে। আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-কে পরীক্ষা করার জন্য স্বীয় পুত্রকে কোরবানি করতে বললেন, তখন কোনো সংশয় তথা বিনা প্রশ্নে নিজ স্নেহাস্পদ সন্তানকে কোরবানি করার জন্য প্রস্তুত হন। কিন্তু আল্লাহর আদেশে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। তারপর থেকে পশু কোরবানির রেওয়াজ চালু হয়। মানবজাতিকে একনিষ্ঠ শিক্ষা দেয়াই হলো এর মর্মার্থ।

ভোগে নয়, ত্যাগেই হোক ঈদের শিক্ষা

ঈদ মানেই আনন্দ। এ আনন্দ ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে সার্বজনীন করার বার্তা দিয়েছেন মহান সৃষ্টিকর্তা। আর ঈদুল আজহা মানেই ত্যাগের উৎসর্গ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি করে তার মনের পরিশুদ্ধিতা অর্জন করবেন।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাতে তারা ওই পশুদের জবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। আর তোমাদের প্রতিপালক তো এক আল্লাহই, তোমরা তারই অনুগত হও। (সুরা হজ : ৩৪)

কোরবানির শিক্ষা সম্পর্কে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুর রশীদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, পশু কোরবানি মানুষের মনে আত্মত্যাগের শিক্ষাকে প্রোথিত করে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলে। এটা শুধু উৎসব না, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার একটি মেলবন্ধন। এটি সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যকে এক কাতারে নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে অস্থিরতা, ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা থেকে মুক্তির দিশারী হতে পারে পশু কোরবানি। অনেক শিক্ষা দিতে পারে। ঈদের দিন একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়। এই শিক্ষা যদি সারা বছর জাগ্রত রাখতে পারি তবেই মানবতা মুক্তি মিলবে। সমাজ ও রাষ্ট্রে ভ্রাতৃত্ববোধ ও জাতীয় ঐক্য গড়া শিক্ষা হতে পারে ঈদে পশু কোরবানি। 

চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ১৭ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে আগামী ১৭ জুন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। শনিবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১৭ জুন সারাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

১৭ জুন ঈদ হবে ধরে নিয়েই ১৬ থেকে ১৮ জুন কোরবানি ঈদের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছে সরকার।

তবে তার আগে দুদিন শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় একটানা পাঁচদিন ছুটি মিলে যাচ্ছে সরকারি চাকুরেদের জন্য।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখে বিশ্বের মুসলমানরা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদ উদযাপন করেন। এই উৎসবে পশু কোরবানি দেওয়া হয়, যার মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের কলুষতাকে বর্জন এবং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভই ইসলামের শিক্ষা।

সৌদি আরবে বৃহস্পতিবার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় ১৬ জুন সেদেশে কোরবানির ঈদ উদযাপন হবে, তার আগের দিন ১৫ জুন হবে হজ। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন হয়ে থাকে।

চাঁদ দেখা গেছে, সৌদিতে ঈদুল আজহা ১৬ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের আকাশে বৃহস্পতিবার ১৪৪৫ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই হিসেবে দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ১৬ জুন। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার এই ঘোষণা দিয়েছে।

তবে সৌদিতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার কিছুটা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, সৌদিতে জিলহজের চাঁদ দেখা যায়নি। এর কিছুক্ষণ পর দুই পবিত্র মসজিদভিত্তিক ওয়েবসাইট ইনসাইড দ্য হারামাইন জানায়, সৌদি আরবের আল-হারিকে এক প্রত্যক্ষদর্শী চাঁদ দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ইনসাইড দ্য হারামাইনের পোস্টে বলা হয়, সৌদির আকাশে ১৪৪৫ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ১৬ জুন সৌদিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। আর ১৫ জুন পবিত্র আরাফাত দিবস।

কিছুক্ষণ পর গালফ নিউজ জানায়, সৌদিতে জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে বলে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী ১৬ জুন পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিন উদযাপন করা হবে।

সাধারণত সৌদি আরবে ‍উদযাপনের পরদিন বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়। তবে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা কবে অনুষ্ঠিত হবে তা আগামীকাল (শুক্রবার) জানা যাবে। হিজরি ১৪৪৫ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা ও ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে শুক্রবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ইসলামের ১২ মাসের সূচনা হয়। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে হজ ও পবিত্র ঈদুল আজহার দিন নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী, ঈদুল আজহার প্রথম দিন জিলহজ মাসের ১০ম দিনে পড়ে। আর পবিত্র আরাফাহ দিবস পালন করা হয় জিলহজ মাসের নবম দিনে।

আজ থেকে প্রায় ১৫ শ’ বছর আগে সৌদি আরবে উত্থান ঘটেছিল ইসলাম ধর্মের, বর্তমানে যা বিশ্বের প্রধান ধর্মগুলোর একটি। পবিত্র ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি হজ। প্রত্যেক বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ সামর্থ্যবান মুসলিম সৌদি আরবের মক্কায় হজ পালন করতে যান।

পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের সামর্থ্যবান মুসলিমরা গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট প্রভৃতি কোরবানি করেন। আরাফাহর দিনে হজযাত্রীরা আরাফাহ ময়দানে প্রার্থনা করার জন্য একত্রিত হন; যেখানে ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার চূড়ান্ত খুতবা দিয়েছিলেন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই দিনে রোজাও রাখেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার নাগরিকদের চাঁদ দেখার আহ্বান জানায় সৌদির সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়া চাঁদ দেখার দুই প্রধান কেন্দ্র সুদাইর এবং তুমাইরেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়। যদিও স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত এই দুই স্থানে চাঁদ দেখা যায়নি। কিন্তু পরবর্তীতে চাঁদ দেখা যাওয়ার ঘোষণা আসে। 

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন