কেনাকাটা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কেনাকাটা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে জমে উঠেছে ঈদ বাজার, মধ্যবিত্ত মার্কেটে ক্রেতার অভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতর যতই কাছে আসছে, ততই শহরের বিভিন্ন বাজারে বেড়ে গেছে কেনাকাটার ধুম। শহরের বড় বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিক্রি, তবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের মার্কেটগুলোতে এখনও তেমন জমজমাট হয়নি।

এবারের ঈদ বাজারে দেশীয় পোশাকের আধিপত্য বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। পূর্বের তুলনায় ভারতীয় সিরিয়াল বা সিনেমার নায়িকাদের নামে পরিচিত পোশাকের চাহিদা অনেকটাই কমেছে। দেশীয় ডিজাইনের পোশাকের বিক্রি বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ।

শহরের নামী বিপণিবিতানগুলোতে তরুণীদের পোশাকের দাম শুরু হয়েছে দেড় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। ছোটদের পোশাকের মধ্যে বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে লং ফ্রক, পার্টি ফ্রক, লেহেঙ্গা ও লং কামিজ। ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি বিক্রি হচ্ছে সুতি টি-শার্ট, বেবি স্যুট ও প্যান্ট।

নারীদের জন্য বাজারে এসেছে সারারা, গারারা, নায়রা, গাউন, থ্রি-পিস, লেডিস টপস ও কুর্তি-প্যান্ট। এসব পোশাকের দাম ১,৫০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে, নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পরিচিত হকার্স মার্কেটে বিক্রি কিছুটা কম হলেও বিক্রেতারা আশা করছেন, ২৫ রমজান পর বেচাকেনা বাড়বে। এখানে ২-৪ হাজার টাকার মধ্যেই ভালো মানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উপযোগী।

রেলওয়ে সুপার মার্কেটের বিক্রেতা আব্দুর রহিম জানান, 'এখনো বিক্রি কম, তবে আশা করছি ২৫ রমজান পর বিক্রি বেড়ে যাবে।'

অপর বিক্রেতা আক্তার হোসেন বলেন, "শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে কিছুটা, কিন্তু বড়দের পোশাকের বিক্রি কম। দেশের পরিস্থিতির কারণে বাজার কিছুটা মন্দা যাচ্ছে।"

প্রসাধনী ও জুয়েলারি দোকানগুলোতে ইফতারের পর ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। বাহারি ডিজাইনের চুড়ি, কৃত্রিম গয়না ও অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ।

পাকশী থেকে কেনাকাটা করতে আসা রবিউল দম্পতি বলেন, 'ভালো মানের পোশাক ২ হাজার টাকার নিচে পাওয়া কঠিন। গত বছরের তুলনায় দাম ৩০০-৫০০ টাকা বেশি, তাই বাজেটের মধ্যে সেটি ফিট করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।'

দিনমজুর তছলিম আলী বলেন, 'পরিবারের জন্য পোশাক কিনতে এসেছি, কিন্তু বড় মার্কেটে দাম বেশি হওয়ায় হকার্স মার্কেটেই কেনাকাটা করছি।'

ঈদ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন টেইলার্সে ব্যস্ততা বেড়েছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবি ও শার্ট তৈরির চাপ বেশি।

ডায়মন্ড টেইলার্সের মালিক হাসান আলী বলেন, 'এখন প্যান্টের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এখন শুধু শার্ট ও পাঞ্জাবির অর্ডার নিচ্ছি।'

মৌসুমী টেইলার্সের মালিক আব্দুর রহিম জানান, 'এবার কাজের চাপ অনেক বেশি। শবে বরাতের পর থেকেই অর্ডারের লাইন লেগে গেছে।'

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন