প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

বুধবার সকালে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারসহ অন্যরা।

লিখিত বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, পরিচালনা কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৩০ জুন প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা এবং তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, পাবনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শেখ, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানের প্রায় এক ঘণ্টা আগে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী আবুল কাশেম এবং উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মইনুল ইসলাম সরদার, আলম ওরফে দালাল আলম, মনিকাসহ ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে আসেন। তাঁরা হাবিবুর রহমান হাবিবকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণ জানতে চান এবং একপর্যায়ে মঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ও ব্যানার ভাঙচুর করেন। এ সময় অতিথি ও শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবারও নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ফজলুর রহমান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হতে হবে, তা তিনি কখনো কল্পনা করেননি। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সিরাজুল ইসলাম সরদার ঈশ্বরদী অঞ্চলে বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁকে উপেক্ষা করে ঈশ্বরদীতে বিএনপির একটি পক্ষ রাজনীতি করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন ফজলুর রহমান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার এবং সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওর্য়াড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন