বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা সোহাগ হত্যার নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করা এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’—এমন স্লোগানে এই সময় থানা এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় প্রধান ফটক আটকে রাখায় থানার স্বাভাবিক কাজকর্মে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ছাত্রদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিটু, নাজমুল হাসান রিশাদ ও মাহমুদুল ইসলাম শাওন। বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত সোহাগের পরিবারকে বর্তমানে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো আওয়ামী লীগ নেতা মিলন চৌধুরী ও রাজীব ফরাজির বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে ঈশ্বরদীতে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সবকিছু অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান ও পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। সোহাগের হত্যাকারীদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে নেতা-কর্মীরা কর্মসূচি তুলে নেন।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর মন্নবীপাড়া এলাকায় ইমরান হোসেন সোহাগকে গুলি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি ওই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরদী শাখার অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন সোহাগ।

