আইন ও বিচার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আইন ও বিচার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঈশ্বরদীতে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাসুদ রানা মদন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর নানি ঈশ্বরদী থানায় লিখিত এজাহার দেওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মাসুদ রানা উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে অভিযুক্ত ব্যক্তির মেয়ের কাছে বেসরকারিভাবে পড়ার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে তাঁদের বাড়িতে খেলাধুলা করতে যেত।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৩১ জুলাই সকালে শিশুটি খেলাধুলার উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে যায়। সে সময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে ঘরে নিয়ে নির্যাতন চালান। পরে বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখান।

পরদিন ১ আগস্ট বিকেলে শিশুটির জ্বর এলে নানি তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকের কাছে শিশুটি তার ওপর ঘটা নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। হাসপাতাল থেকে স্বজনেরা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

শিশুটির নানি বলেন, আমার অবুঝ নাতনিকে লোভ ও ভয় দেখিয়ে এই অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থানায় মামলা করেছি। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যা: বিচারের দাবিতে ঈশ্বরদী থানা ঘেরাও


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব ইমরান হোসেন সোহাগ (২৬) হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদী থানার প্রধান ফটকের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা সোহাগ হত্যার নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করা এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’—এমন স্লোগানে এই সময় থানা এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় প্রধান ফটক আটকে রাখায় থানার স্বাভাবিক কাজকর্মে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ছাত্রদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিটু, নাজমুল হাসান রিশাদ ও মাহমুদুল ইসলাম শাওন। বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত সোহাগের পরিবারকে বর্তমানে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।

নেতারা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো আওয়ামী লীগ নেতা মিলন চৌধুরী ও রাজীব ফরাজির বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে ঈশ্বরদীতে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সবকিছু অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান ও পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। সোহাগের হত্যাকারীদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে নেতা-কর্মীরা কর্মসূচি তুলে নেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর মন্নবীপাড়া এলাকায় ইমরান হোসেন সোহাগকে গুলি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি ওই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরদী শাখার অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন সোহাগ।

ঢাকা যুগ্ম জেলা জজ হলেন মামুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান সিরাজুল ইসলাম মামুন পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ  হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

গতকাল সোমবার আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৩-এর অনুমোদনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ. এফ. এম. গোলজার রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

সিরাজুল ইসলাম মামুন ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেন। এরপর ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর সহকারী জজ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পদোন্নতির আগে তিনি কিশোরগঞ্জ সদর জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ঈশ্বরদীর ঈদগাহ রোডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম মামুন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমির আলী সরকারের চতুর্থ সন্তান। 

প্রয়াত বাবার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন আমার বাবা। তিনি ছিলেন সৎ, পরিশ্রমী এবং ন্যায়নিষ্ঠ একজন মানুষ। তিনি সবসময় আমাকে বলতেন, ‘সত্যের পথে চলো, কঠোর পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই।’ তাঁর শেখানো নৈতিক মূল্যবোধ আমাকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আজ বাবা যদি বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি এই সাফল্যে গর্বিত হতেন এবং আমাকে আরও উৎসাহিত করতেন।’

নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই পদোন্নতি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব, যাতে বিচারিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন