ঈশ্বরদীতে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, হুমকিতে কৃষি ও সড়ক


নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। দিন-রাত এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে পরিবহনের ফলে একদিকে যেমন আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ পাকা সড়ক।
 
বুধবার সরেজমিনে ঈশ্বরদী উপজেলার অরনকোলার বাগবাড়িয়া ও মুলাডুলির প্রতিরাজপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমিতে পুকুর খননের নামে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। অন্তত ১০টি ট্রাক্টর অবিরাম মাঠ ও রাস্তা দিয়ে মাটি বহন করছে। এতে এলাকায় প্রচণ্ড ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রতিরাজপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরিষা খেত থেকে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে তিন থেকে চার ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি যাচ্ছে পাশের ইটভাটাগুলোতে। ভেকু চালক দেলোয়ার হোসেন জানান, অরনকোলা এলাকার মাটি ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম তাঁদের ভাড়া করেছেন। ঘণ্টা ও দিন চুক্তিতে তাঁরা মাটি কেটে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দিচ্ছেন।

মাটি ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম জানান, জমির মালিক সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারি এলাকার জহুরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গেই পুকুর খননের চুক্তি হয়েছে। তবে ফসলি জমির মাটি কাটা বা বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনের কোনো অনুমতি তাঁর নেই। তবে সব পক্ষকে 'ম্যানেজ' করেই কাজ চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে মাটি ক্রেতা ইটভাটা মালিক জিন্নাহ আলী বলেন, ইট তৈরির জন্য মাটির প্রয়োজন, তাই আশরাফুলের কাছ থেকে কিনছি। তিনি কার জমি কাটছেন বা অনুমতি আছে কি না, তা আমাদের জানা নেই।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন বলেন, জমির উপরিভাগের মাটিতেই ফসল উৎপাদনের মূল শক্তি থাকে। এই মাটি কেটে ফেললে সেই জমিতে পুনরায় আগের মতো ফলন পেতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগে। অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি আরও জানান, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা এখানে মানা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে।
স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন