হরতাল-অবরোধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হরতাল-অবরোধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৩৯ দিনে ২৫৩ গাড়িতে আগুন


নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের দিন থেকে কয়েক ধাপে ঘোষণা করা হরতাল-অবরোধে কয়েকটি স্থাপনাসহ মোট ২৫৩টি গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. শাজাহান শিকদার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৮ অক্টোবর থেকে গতকাল ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার  পর্যন্ত মোট ৩৯ দিনে সকাল ৬টা পর্যন্ত দুর্বৃত্তদের দেওয়া মোট ২৫৩টি অগ্নিসংযোগের (কয়েকটি স্থাপনাসহ যানবাহনে) সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকা সিটিতে দুর্বৃত্তদের ১টি যানবাহনে আগুন লাগানোর সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে এ আগুনের ঘটনায় ‘তানজিল পরিবহনের’ ১টি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ২ ইউনিট ও ১০ জন জনবল কাজ করে। ওইদিন দেশের অন্য কোনো স্থানে গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনার সংবাদ পায়নি ফায়ার সার্ভিস।

আবারও দুই দিনের অবরোধ, সঙ্গে একদিনের মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক: আবারও দশম দফায় অবরোধ দিল বিএনপি। এবার অবরোধের সঙ্গে যোগ হয়েছে একদিনের মানববন্ধন। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল বাতিল, খালেদা জিয়াসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং সরকার পতনের এক দফা দাবিতে টানা দশম দফার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী  ৬ ও ৭ ডিসেম্বর বুধ ও বৃহস্পতিবার সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধের ডাক দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে আগামী ১০ ডিসেম্বর রোববার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

৪ ডিসেম্বর সোমবার বিকেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এদিকে ৪ ডিসেম্বর সোমবার সারাদেশে পালিত হচ্ছে নবম দফার দ্বিতীয় দিনের অবরোধ কর্মসূচি, যা শেষ হবে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায়। আগামী মঙ্গলবার বিরতি দিয়ে পরের দুইদিন নতুন কর্মসূচি দিলো দলটি।

২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির মহাসমাবেশ পুলিশ পণ্ড করে দিলে তারা এ সরকারের পদত্যাগের একদফাসহ মহাসমাবেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে। সমমনা জোটগুলোও এই কর্মসূচির যুগপৎভাবে পালন করেছে। এরপর থেকে পর্যায়ের ক্রমে তারা প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার এবং শুক্রবার-শনিবার ছুটির দুইদিন বিরতি দিয়ে ৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি করে যাচ্ছে। এই পর্যন্ত তারা ৯ম দফায় অবরোধের কর্মসূচি পালন করেছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতি জিম্মি: ব্যবসায়ী নেতারা


নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিরোধী দল বিএনপি এবং সমমনা দলগুলোর মহাসমাবেশ বানচাল হওয়ার এক দিন পর ২৯ অক্টোবর থেকে দফায় দফায় অবরোধ ও হরতাল দেয়া শুরু করেছে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম। প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুসারে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক খাতে ২০ দিনের হরতাল ও অবরোধের (২৯ অক্টোবর থেকে ২০ নভেম্বর) আর্থিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা (প্রতিদিন ৬৫০০ কোটি টাকা)। হরতাল-অবরোধের কারণে দিনে ৬৫০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে আর্থিক ক্ষতির কারণ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছি।’

হরতাল-অবরোধের প্রচার-প্রচারণা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি ব্যাহত করতে ব্যর্থ হলেও, এই অস্থিরতা পরিবহন খাতকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে এবং পণ্য পরিবহনকে ব্যাহত করেছে; যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দেশের আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি সরকার প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধীরা রাস্তায় অবস্থানের আশ্রয় নিয়েছে।

পরিবহন মালিকরা জানান, এ খাতের আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিন প্রায় ১৬১ কোটি টাকা। এ হিসাবে ২০ দিনের হরতাল-অবরোধে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা।

ক্ষতির বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘হরতাল ও অবরোধের ফলে আর্থিক ক্ষতি বহুমাত্রিক এবং আপনি এটি শুধু আর্থিক পরিসংখ্যানে হিসাব করতে পারবেন না।’

‘রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী দল ও বৈশ্বিক ক্রেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তারপর তারা তাদের ক্রয়াদেশ এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনাগুলো আরও সুরক্ষিত ও স্থিতিশীল এলাকায় সরিয়ে নেয়।’

থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘যখন একটি বড় বৈশ্বিক ক্রেতা একটি দেশ থেকে অর্ডার স্থানান্তর করে, তখন ছোট ক্রেতারাও তাদের অনুসরণ করে।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, একটি ক্রমবর্ধনশীল অর্থনীতির জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে প্রতিটি সেক্টরে স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রয়োজন। কারণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পূর্ণরূপে আর্থিক লাভ বা ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা সব সময়ই আর্থিক লাভের জন্য বিনিয়োগের জায়গা সন্ধান করে। তারা নিরাপদ স্থানে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করে।

বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে পরিবহন খাতে। দূরপাল্লার আন্তজেলা বাসগুলো স্টেশনে অলস বসে আছে। অগ্নিসংযোগের ভয়ে সিটি বাসগুলোকে কম যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। এতে অনেক পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারী বেতনহীন হয়ে পড়েছেন।

মহাখালী আন্তনগর বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, স্বাভাবিক সময়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ গাড়ি ছেড়ে যায়। হরতাল-অবরোধের কারণে তা এখন দিনে ১০০-তে নেমে এসেছে।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, সপ্তাহে মাত্র দুই দিন বাস চালানোর ফলে শ্রমিকদের মজুরি ও জ্বালানি খরচ মেটানো আর্থিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যবসার মালিকরা বাস পরিচালনার খরচ ও ব্যাংক ঋণের কিস্তিসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাস চলাচল করে। মালিক ও শ্রমিকরা মিলে প্রতিদিন ১ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা আয় করেন, গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এই আয় ৩২ দশমিক ৫০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে হরতাল-অবরোধের কারণে রাজধানীতে বাস চলাচলের জন্য দৈনিক ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে।

মাহবুবুর বলেন, সাধারণ পরিস্থিতিতে সারা দেশে প্রায় ২ লাখ দূরপাল্লার বাস ট্রিপে প্রত্যেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা আয় করে, যার ফলে দেশব্যাপী দৈনিক ২০০ কোটি টাকা আয় হতো।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ২২৮টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখা শুধু অগ্নিসংযোগের ঘটনা রেকর্ড করে। ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখার উপসহকারী পরিচালক শাহজাহান সিকদার বলেন, একটি গাড়িতে আগুন দেয়ার পর ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ঘটনাস্থল থেকে বা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থেকে তথ্য পায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সময়ে অগ্নিসংযোগের আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, তবে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমকে সেগুলো জানানো হয়নি।

যেসব ঘটনার তথ্য জানানো হয় না, সে ক্ষেত্রে স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলে। অর্থাৎ, পরিবহন কর্মচারীরা নিজেরাই বা যাত্রী ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নেভানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখার উপসহকারী পরিচালক বলেন, এ ক্ষেত্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

শাহজাহান সিকদার বলেন, গত এক মাসে ২৮ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত ২১৭টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

২৪ ঘণ্টায় ৮ যানবাহনে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা অবরোধ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত আছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আটটি যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম।

তিনি বলেন, ২৯ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৩০ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত আটটি যানবাহনে আগুন লাগানো সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে তিনটি, রাজশাহী একটি, বগুড়ায় একটি, কুমিল্লায় তিনটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় একটি কনটেইনার, পাঁচটি বাস ও দু'টি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট ও ৬৮ জন জনবল কাজ করে।

২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির মহাসমাবেশ পুলিশ পণ্ড করে দিলে তারা এ সরকারের পদত্যাগের একদফাসহ মহাসমাবেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে। সমমনা জোটগুলোও এই কর্মসূচির যুগপৎভাবে পালন করেছে। এরপর থেকে পর্যায়ের ক্রমে তারা প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার এবং শুক্রবার-শনিবার ছুটির দুইদিন বিরতি দিয়ে ৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছে। এই পর্যন্ত তারা ৮ম দফায় অবরোধের কর্মসূচি পালন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে দলটি। আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার বিরতি দিয়ে নবম দফায় আগামী রোববার ও সোমবার নতুন করে অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে দলটি।

সারা দেশে ১৬১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির ডাকা হরতাল, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীসহ সারা দেশে ১৬১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকা ও এর আশপাশের জেলায় ২২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনসহ সারা দেশে ১৬১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশনা না আসা এটি কার্যকর থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এবার অবরোধ ও হরতাল একসঙ্গে ডাকল বিএনপি


নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনের তফসিল বাতিল, সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকার গঠন এবং কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে আরও দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। 

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ২৭ নভেম্বর সোমবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, আগামী ২৯ নভেম্বর বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। আর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতাল পালিত হবে। 

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপির ৩৮৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে ১৫টি। 

বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সপ্তম দফায় ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি এখনো চলছে। ২৬ নভেম্বর রোববার সকাল ৬টায় শুরু হওয়া এ অবরোধ চলবে ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত।

চোরাগোপ্তা হামলা করে নির্বাচন বানচাল করা যাবে না : হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বাসে-ট্রেনে আগুন দিয়ে, চোরাগোপ্তা হামলা করে নির্বাচন বানচাল করা যাবে না।

২১ নভেম্বর মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘হরতাল-অবরোধ আর আগুন সন্ত্রাস : বন্ধ হোক এই অপরাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়ত যা করছে- এগুলো কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এগুলো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। তারা ভেবেছে- বাসে আগুন দিয়ে আর রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংস করে বোধহয় নির্বাচন বানচাল করা যাবে। নির্বাচন বানচাল করা যাবে না। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী উৎসবমুখর পরিবেশে হবে।

গৌরব’৭১ ও স্বাধীনতা সাংবাদিক ফোরাম যৌথ ভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, বিএনপির সাথে আছে আরেকটি দল জামায়াত। এদেরকে আমি কখনো রাজনৈতিক দল মনে করি না। ধর্মভিত্তিক জঙ্গি দল জামায়াতে ইসলামী। এরা একাত্তরে তাদের জঙ্গিপনা দেখিয়েছিল হত্যা, খুন ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে। তাদের এই ধারা এখনো অব্যাহত আছে। এদের সাথে বিএনপিও এখন জঙ্গি দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

হানিফ বলেন, পেট্রোল দিয়ে বাসে-ট্রেনে আগুন দেয়া, মানুষকে আহত করা- এগুলো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এই কর্মকান্ডের সাথে যারা জড়িত, তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে বিচার করা হবে। তাদের কি রাজনৈতিক সিল আছে, সেটা দেখা হবে না। যারা আগুন দেয়, তারা সন্ত্রাসী। এদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচিত করা হবে।

তিনি বলেন, আমরাও আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। বিএনপির সাথে কিছু সমমনা দল আন্দোলন করে বলছে- তারা গণতন্ত্র কায়েম করতে চায়। কোন গণতন্ত্র আপনারা কায়েম করতে চান? মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা, আগুন দিয়ে মানুষের সম্পত্তি ধ্বংস করা- এর নাম কি গণতন্ত্র? আপনারা কোন গণতন্ত্র কায়েম করতে চান?

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরো বলেন, ২৮ অক্টোবরের পর থেকে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ১৮৬টি বাস-ট্রাক আগুন পুড়িয়েছে। কেন? রাজনীতির সাথে আগুনের সম্পর্ক কী? এটা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এগুলো জঙ্গি বা সন্ত্রাসীদের কাজ, এটা কিভাবে গণতন্ত্র হয়। আপনারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, মানবতার কথা বলেন, অন্যদিকে আগুন দিয়ে নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেন, এটা কোন গণতন্ত্র, কোন মানবতা?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গৌরব ’৭১-এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন। সঞ্চালনা করেন স্বাধীনতা সাংবাদিক ফোরাম নেতা ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম।

আলোচনা সভার শুরুতে বক্তারা বিএনপি-জামায়াতের অবরোধে দেয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ বাস মালিক ও শ্রমিকরা তাদের নিজেদের অবস্থা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন