ভাষা আন্দোলন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভাষা আন্দোলন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ঈশ্বরদীতে মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে শহরের খাইরুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান এবং ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুমিনুজ্জামানসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব, উপজেলা বিএনপি, পাকশী হাইওয়ে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কৃষি বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল ১০টায় ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াত শহরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করে।

সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন   আবু তালেব মন্ডল। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেহাব উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের আমির ড. নুরুজ্জামান প্রামানিক ও পৌর জামায়াতের আমির গোলাম আজম খানসহ অন্যান্যরা।

আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।

ঈশ্বরদীতে ভাষা শহীদদের প্রতি বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পাবনার ঈশ্বরদীতে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তারা পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

শনিবার সকালে শহরের পোস্ট অফিস মোড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও শোক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, বিএনপি নেতা জিয়াউল হক সন্টু সরদার, আজমল হোসেন ডাবলু, মাহবুবুর রহমান পলাশ, ঈশ্বরদী কলেজ ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন,সাবেক ভিপি ও ছাত্রনেতা রেজাউল করিম শাহীন, যুবদল নেতা মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল, ইমরুল কায়েস সুমন,ছাত্রদল নেতা তানভীর আহমেদ সুমন সহ বিএনপির অনান্য নেতাকর্মীরা।

ভাষাসৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চের জায়গায় টয়লেট, তিন বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে এক ভাষাসৈনিকের নামে তৈরি করা মুক্তমঞ্চ ভেঙে সেখানে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঞ্চটি আবার তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গত তিন বছরেও তার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

১৯৮৬ সালে তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুজ্জামান বাবুর উদ্যোগে ঈশ্বরদীর পুরোনো বাস টার্মিনাল এলাকায় রেলওয়ের পরিত্যক্ত জায়গায় ‘ভাষাসৈনিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চ’ তৈরি করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকে জায়গাটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।

স্থানীয়রা জানান, এই মঞ্চকে ঘিরে ঈশ্বরদীবাসীর দীর্ঘদিনের আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ছাড়াও এখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হতো।

তবে ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মঞ্চটি ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি দোকানও উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বাসিন্দারা মঞ্চটি না ভাঙার অনুরোধ করলেও রেল কর্তৃপক্ষ তাতে কান দেয়নি।

মঞ্চটি ভাঙার কিছু দিন পর, অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই জায়গায় একটি আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে রেল কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি শৌচাগারটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি।

মঞ্চ ভেঙে শৌচাগার নির্মাণের ঘটনায় সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হয়। ঈশ্বরদী নাগরিক কমিটি ও স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মীরা এর প্রতিবাদে সমাবেশও করেন। আন্দোলনের মুখে রেল কর্তৃপক্ষ মঞ্চটি পুনরায় তৈরি করে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো বাস্তব উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

ঈশ্বরদী সম্মিলিত নাগরিক জোটের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, ভাষাসৈনিকের নামে থাকা একটি মঞ্চ ভেঙে সেখানে শৌচাগার নির্মাণ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দ্রুত একই জায়গায় মঞ্চটি পুনরায় নির্মাণের দাবি জানান।

পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, এই মঞ্চে একসময় সব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি পালন করা হতো এবং এটি ছিল স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র। হঠাৎ করে এটি ভেঙে শৌচাগার নির্মাণ করায় মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন