নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এক ভাষাসৈনিকের নামে তৈরি করা মুক্তমঞ্চ ভেঙে সেখানে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঞ্চটি আবার তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গত তিন বছরেও তার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
১৯৮৬ সালে তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুজ্জামান বাবুর উদ্যোগে ঈশ্বরদীর পুরোনো বাস টার্মিনাল এলাকায় রেলওয়ের পরিত্যক্ত জায়গায় ‘ভাষাসৈনিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চ’ তৈরি করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকে জায়গাটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
স্থানীয়রা জানান, এই মঞ্চকে ঘিরে ঈশ্বরদীবাসীর দীর্ঘদিনের আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ছাড়াও এখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হতো।
তবে ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মঞ্চটি ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি দোকানও উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বাসিন্দারা মঞ্চটি না ভাঙার অনুরোধ করলেও রেল কর্তৃপক্ষ তাতে কান দেয়নি।
মঞ্চটি ভাঙার কিছু দিন পর, অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই জায়গায় একটি আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে রেল কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি শৌচাগারটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি।
মঞ্চ ভেঙে শৌচাগার নির্মাণের ঘটনায় সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হয়। ঈশ্বরদী নাগরিক কমিটি ও স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মীরা এর প্রতিবাদে সমাবেশও করেন। আন্দোলনের মুখে রেল কর্তৃপক্ষ মঞ্চটি পুনরায় তৈরি করে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো বাস্তব উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
ঈশ্বরদী সম্মিলিত নাগরিক জোটের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, ভাষাসৈনিকের নামে থাকা একটি মঞ্চ ভেঙে সেখানে শৌচাগার নির্মাণ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দ্রুত একই জায়গায় মঞ্চটি পুনরায় নির্মাণের দাবি জানান।
পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, এই মঞ্চে একসময় সব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি পালন করা হতো এবং এটি ছিল স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র। হঠাৎ করে এটি ভেঙে শৌচাগার নির্মাণ করায় মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

