ক্যানসার আক্রান্ত মেধাবী ছাত্র ছাবিদের পাশে বিএনপি নেতা শাহীন
ঈশ্বরদীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলেও হাসপাতালের শয্যায় মেধাবী ছাবিদ, ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘আমি বড় হয়ে বুয়েটে প্রকৌশলী হব। তুমি হবে একজন প্রকৌশলীর মা।’—মাকে এমন স্বপ্নের কথাই বলেছিল ইবনে ছাবিদ। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যানসার। মাত্র ১১-১২ বছর বয়সের ছোট্ট শরীরে বাসা বেঁধেছে এই মরণব্যাধি।
এরই মধ্যে এসেছে একটি সুখবর। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে (মেধাতালিকায়) বৃত্তি পেয়েছে ছাবিদ। তবে সেই সাফল্যের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে তার অসুস্থতা। রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শয্যায় শুয়েই বৃত্তি পাওয়ার খবর শুনেছে সে। আনন্দের বদলে তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়েছে অশ্রু।
ছাবিদ ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর গ্রামের আশরাফুল আলম রোকনের একমাত্র ছেলে। সে ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিবারই শ্রেণিতে প্রথম হয়েছে ছাবিদ। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ক্যানসার ধরা পড়ে।
ছাবিদের বাবা আশরাফুল আলম রোকন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। এ অবস্থায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।
প্রতিবেশীরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াত করত ছাবিদ। শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের এই শিশুর অসুস্থতায় প্রতিবেশীরাও মর্মাহত।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছাবিদের মা লিজা খাতুন বলেন, ‘এই বয়সে বই-খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে থাকার কথা ছিল আমার ছেলের। অথচ সে আজ হাসপাতালের বিছানায়। ওকে এভাবে দেখতে খুব কষ্ট হয়। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে সুস্থ করে দেন।’
ঈশ্বরদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ছাবিদের মতো একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তার সুযোগ রয়েছে। পরিবার আবেদন করলে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।
ঈশ্বরদীতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আন্তঃউপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ২০২৫ সালের বৃত্তি ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান হয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার পাকশীর হাসেম আলী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মো. আরজাহান আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন পাকশি রেলওয়ে ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা ইমরুল কায়েস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. তানবীর সুমন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান, সহসভাপতি সেলিম সরদার এবং আন্তঃউপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
আয়োজকেরা জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বৃত্তি পরীক্ষায় ৩৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে ৮২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ টাকা, সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন সংগঠনের সভাপতি মজিবুর রহমান।
ঈশ্বরদীতে বৃত্তি পেয়ে সম্মানিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা
.jpg)



.jpg)
