গোলাগুলি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গোলাগুলি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীর পদ্মায় জেলেদের ওপর হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন চার জেলে। হামলাকারীদের লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন তাঁরা।

শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া ইসলামপাড়া ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাটোরের লালপুর উপজেলার ১০ থেকে ১১ জন জেলে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে জেলেদের নৌকা থেকে পাড়ে তুলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রের ভোঁতা অংশ দিয়ে মারধর করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাইদুর মণ্ডল, সোহেল রানা ও মজনু বাড়ি ফিরে গেলেও শিশির আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন- লালপুর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের মোহাম্মদ মণ্ডলের ছেলে সাইদুর মণ্ডল (৬৫), সমতউল্লা প্রামাণিকের ছেলে সোহেল রানা (৩৭), মজেল প্রামাণিকের ছেলে মজনু (৪২) এবং সোহেল রানার ছেলে শিশির আহমেদ (১৮)। 

লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলেরা নৌকায় করে নদীতে মাছ ধরার সময় মাজদিয়ার ইসলামপাড়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে হামলার কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছে। 

অন্যদিকে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীর মাঝখানে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। 

ঈশ্বরদীতে বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলাগুলি, স্পিডবোট ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে বালু মহালের দখল ও বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সালমান হোসেন (৩৮) নামের এক স্পিডবোট চালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় তাঁর চালানো স্পিডবোটটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার ইসলামপাড়া ঘাট, আরামবাড়িয়া, গৌরীপুর ও বিলমাড়িয়া সংলগ্ন পদ্মা নদী ও তীরবর্তী এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া ও নাটোরের লালপুর অংশে পদ্মা নদীতে একাধিক বালুমহাল রয়েছে। এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে রয়েছেন লালপুরের যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম ও কাঁকন, অন্যদিকে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী বিশ্বাস টনি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান। গত কয়েক মাসে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মেহেদী ও টনির পক্ষের একটি ভাড়া করা স্পিডবোট পদ্মা নদীতে টহল দিচ্ছিল। তখন প্রতিপক্ষের একটি স্পিডবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ হন চালক সালমান হোসেন। তিনি স্পিডবোটটি তীরে নি‌য়ে থামান, তখন প্রতিপক্ষ সেটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ সালমান হোসেন জানান, তিনি ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের ইসলামপাড়া ঘাট থেকে আরামবাড়িয়া হয়ে বিলমাড়িয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গৌরীপুর এলাকায় পেছন দিক থেকে ধাওয়া করে গুলি ছোড়া হয়। তাঁর পিঠে একটি গুলি লাগে। পরে তিনি তীরে উঠতেই অস্ত্রধারীরা স্পিডবোটটি নিয়ে চলে যায়।

তরীমহল ঘাটের ইজারাদার মেহেদী হাসান বলেন, শহীদুল ও কাঁকন গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাঁদের একটি স্পিডবোট ছিনিয়ে নিয়েছে। চালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে শহীদুল ইসলাম ও কাঁকনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ. স. ম. আব্দুন নূর বলেন, গুলির খবর পেয়ে নৌ পুলিশসহ অতিরিক্ত ফোর্স পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে বালু মহাল দখল: কাকন বাহিনীর গুলিতে যুবক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বালু মহাল দখল নিতে গিয়ে আবারও গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে ‘কাকন বাহিনীর’ বিরুদ্ধে। এতে সোহান হোসেন (২৮) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার সাঁড়াঘাট ও ইসলামপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ সোহান উপেজলার মাজদিয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের সাহাবউদ্দিন মোল্লার ছেলে। তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, ভেড়ামারা, নাটোরের লালপুর ও ঈশ্বরদী এলাকার বালু মহাল দখলে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র প্রভাব বিস্তার করছে পদ্মার চরের কুখ্যাত পান্না বাহিনীর নেতা কাকন আলী ওরফে ইঞ্জিনিয়ারের লোকজন। সাঁড়াঘাট এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে না আসায় সম্প্রতি সেখানে একাধিকবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ৫ জুনও একইভাবে গুলি চালানো হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতেই আজ শনিবার সকালে কাকন বাহিনী আবারও স্পিডবোট আর নৌকা নিয়ে এসে গুলি চালায়। 

গুলিবিদ্ধ সোহান বলেন, ‘আমি গরুর জন্য ঘাস কাটছিলাম। হঠাৎ করে একটি স্পিডবোট ও নৌকা থেকে গুলি ছোড়া শুরু হয়। আমি একটু ওপরে উঠে দেখার চেষ্টা করলে গুলি এসে হাতে লাগে।’

এ ঘটনার পর ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। একজন যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জেনেছি। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে তদন্ত শুরু করেছি।’

সাঁড়াঘাটের ইজারাদার মেহেদী হাসান ও টনি বিশ্বাস বলেন, ‘কাকন বাহিনী নিয়মিত আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। রাজি না হলে সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে শুধু ব্যবসা নয়, কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারছে না।’

কাকন আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন