নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে বালু মহালের দখল ও বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সালমান হোসেন (৩৮) নামের এক স্পিডবোট চালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় তাঁর চালানো স্পিডবোটটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার ইসলামপাড়া ঘাট, আরামবাড়িয়া, গৌরীপুর ও বিলমাড়িয়া সংলগ্ন পদ্মা নদী ও তীরবর্তী এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া ও নাটোরের লালপুর অংশে পদ্মা নদীতে একাধিক বালুমহাল রয়েছে। এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে রয়েছেন লালপুরের যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম ও কাঁকন, অন্যদিকে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী বিশ্বাস টনি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান। গত কয়েক মাসে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মেহেদী ও টনির পক্ষের একটি ভাড়া করা স্পিডবোট পদ্মা নদীতে টহল দিচ্ছিল। তখন প্রতিপক্ষের একটি স্পিডবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ হন চালক সালমান হোসেন। তিনি স্পিডবোটটি তীরে নিয়ে থামান, তখন প্রতিপক্ষ সেটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ সালমান হোসেন জানান, তিনি ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের ইসলামপাড়া ঘাট থেকে আরামবাড়িয়া হয়ে বিলমাড়িয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গৌরীপুর এলাকায় পেছন দিক থেকে ধাওয়া করে গুলি ছোড়া হয়। তাঁর পিঠে একটি গুলি লাগে। পরে তিনি তীরে উঠতেই অস্ত্রধারীরা স্পিডবোটটি নিয়ে চলে যায়।
তরীমহল ঘাটের ইজারাদার মেহেদী হাসান বলেন, শহীদুল ও কাঁকন গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাঁদের একটি স্পিডবোট ছিনিয়ে নিয়েছে। চালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে শহীদুল ইসলাম ও কাঁকনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আ. স. ম. আব্দুন নূর বলেন, গুলির খবর পেয়ে নৌ পুলিশসহ অতিরিক্ত ফোর্স পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে।



