প্রিমিয়ার লিগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রিমিয়ার লিগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে স্যার ফার্গুসনের

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন যেন একই সূত্রে গাঁথা। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে অবশেষে সম্পর্কচ্ছেদ হতে চলেছে ক্লাবটির ইতিহাসের সেরা ম্যানেজার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের। খরচ কমানোর অংশ হিসেবে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্লাবটির মালিকদের অন্যতম অংশীদার স্যার জিম র‌্যাটক্লিফ।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দীর্ঘ ২৬ বছর (১৯৮৬-২০১৩) কোচিং করানোর পর থেকে ক্লাবটির বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন ৮২ বছর বয়সী এই ফুটবলবোদ্ধা। তবে চলতি মৌসুম শেষে অবশেষে ইউনাউটেডের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হচ্ছে তার।

শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ইউনাইটেড থেকে প্রতি বছর ২৬ লাখ (২.৬ মিলিয়ন) পাউন্ড করে পারিশ্রমিক নিতেন স্যার ফার্গুসন। পাশাপাশি ক্লাবের পরিচালকের পদেও ছিলেন এই কিংবদন্তি কোচ।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে স্যার র‌্যাটক্লিফ ইউনাইটেডের শেয়ার কেনার পর থেকে ক্লাবের খরচ কমানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ক্লাবের আড়াইশ জনের বেশি কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার স্যার ফার্গুসনের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন হতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

অবশ্য স্যার জিম র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে স্যার ফার্গুসনের সরাসরি আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খেলোয়াড়দের উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাবের একটি সূত্র।

গত মাসে ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তারা ১১৩ মিলিয়ন পাউন্ড লোকসানে আছে, যা প্রিমিয়ার লিগের তিন বছরের লোকসান সীমার (১১৫ মিলিয়ন পাউন্ড) খুব কাছাকাছি।

এ বিষয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়ম মানতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কোচিং ছাড়লেও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারিতে নিয়মিত মুখ ছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। ছবি: সংগৃহীত
২০১৩ সালে স্যার ফার্গুসন দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে ঘরোয়া লিগ ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খুব বেশি ভালো করতে পারছে না ম্যানটচেস্টার ইউনাইটেড। স্যার ফার্গুসনই তাদের সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতান। অন্যদিকে, এই সময়ে পেপ গার্দিওলার অধীনে দুহাত ভরে সাফল্য কুড়িয়ে চলেছে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি।

ফার্গুসন-পরবর্তী দশ বছরে একবারও প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ইউনাইটেড, অন্যদিকে এই সময়ে ৬ বার প্রিমিয়ার লিগ জিতে ইংলিশ ফুটবলে একক আধিপত্য বিস্তার করেছে গার্দিওলার দল।

গত দশ বছরে ইউনাইটেডের শিরোপা জয় বলতে গেলে একটি করে এফএ কাপ ও লিগ কাপ এবং তিনটি কমিউনিটি শিল্ড। এই সময়ে তাদের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি ছিল ২০১৬-১৭ মৌসুমের ইউরোপা লিগ জয়।

অন্যদিকে, সিটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাই জিতেছে ৬টি, যার মধ্যে সর্বশেষ চার মৌসুম ধরে টানা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা।

এছাড়া, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুটি এফএ কাপ, ৭টি লিগ কাপ ও ৩টি কমিউনিটি শিল্ডসহ এই সময়ের মধ্যে মোট ১৯টি প্রধান শিরোপা জিতেছে তারা। এর মধ্যে ২০২২-২৩ মৌসুমটি ছিল সিটি সমর্থকদের জন্য স্মরণীয়। সেবার প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম ট্রেবল জয় করে সিটি।

ফার্গুন-পরবর্তী সময়ে ম্যানচেস্টার ডার্বিতেও ঈর্ষণীয়ভাবে এগিয়ে রয়েছে সিটি। বিগত ১০ বছরে প্রিমিয়ার লিগে ২০ বার মুখোমুখি হয়ে ১২টি ডার্বি জিতেছে সিটি, ইউনাইটেডের জয় তার অর্ধেক, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

অথচ, শক্তিশালী দল গঠনে খরচের কমতি রাখেনি ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ। এরিক টেন হাগের তত্ত্বাবধায়নে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করেও ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে (অষ্টম) অবস্থানে থেকে গত মৌসুম শেষ করে তারা। চলতি মৌসুমে সপ্তম রাউন্ডের খেলা শেষে তাদের অবস্থান আরও নিচে, চতুর্দশ। সাত ম্যাচের মাত্র দুটি জিততে পেরেছে এরিক টেন হাগের শিষ্যরা।

ডাচ এই কোচ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে খেলোয়াড় কিনতে এ পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করেছে ইউনাইটেড, কিন্তু মাঠের খেলায় পরিবর্তন আনতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন টেন হাগ।

কোচিং ক্যারিয়ারে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে বিশ্ব ফুটবলে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর একটিতে পরিণত করেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। ছবি: সংগৃহীত
উল্লেখ্য, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সময়কালে শুধু ইংল্যান্ড নয়, ইউরোপের অন্যতম সেরা দলে পরিণত হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে ক্লাবটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইউনাইটেডকে একটি বিশ্বমানের দল হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

তার হাত ধরেই ডেভিড বেকহ্যাম, পল স্কোলস, রায়ান গিগস, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও ওয়েন রুনির মতো তরুণ খেলোয়াড়দের একেকজন তারকা থেকে মহাতারকা হয়েছেন।

শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও মানসিক দৃঢ়তার জন্য সুপরিচিত ছিলেন স্যার ফার্গুসন। শুধু কৌশলগত দিক থেকে নয়, শারীরিক ও মানসিকভাবেও শিষ্যদের শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছিলেন এই কিংবদন্তি কোচ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হার না মানা ছিল তার খেলোয়াড়ি দর্শন। শেষ মুহুর্তে গোল করে ম্যাচ জেতা কিংবা হার এড়াতে তার দল এত পটু হয়েছিল যে ম্যাচের অন্তিম পর্ব সে সময় ‘ফার্গি টাইম’ নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে ২০১৩ সালে অবসর গ্রহণের আগে ইউনাইটেডকে ১৩টি প্রিমিয়ার লিগ, ৫টি এফএ কাপ, ২টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৪টি লিগ কাপ এবং ইউরোপীয় সুপার কাপ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপসহ অসংখ্য শিরোপা জেতান স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন