
নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সেন্টমার্টিনে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সেন্টমার্টিনে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-রাজশাহী সড়কের পাশের মরা গাছ কাটার নামে এবার তাজা গাছও কেটে নেওয়া হচ্ছে। পাবনা শহরের গাছপাড়া থেকে ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেলগেট সামনের সড়কের পাশ থেকে গত কয়েক দিনে প্রায় ১২টি শিশুগাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।
যাঁরা গাছ কাটছেন, তাঁরা শুরুর দিকে বলেছিলেন, তাঁরা মরা গাছ কাটছেন। এবার তাঁরা তাজা গাছও কাটছেন।
এর আগেও চলতি বছরের ১৮ জুন পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য অর্ধশতবর্ষী বটগাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। পাবনা মহাসড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে গাছ কাটা হলেও কখনোই বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি। অথচ বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অনুমতি ছাড়া কেউ গাছ কাটতে পারবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদের অধীনে ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিলামের মাধ্যমে মোট ছয়টি ধাপে মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছা কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এরমধ্যে পঞ্চম ধাপে পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কের গাছপাড়া থেকে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি রেলগেট পর্যন্ত ৭১টি গাছ সর্বোচ্চ নিলামে পেয়েছে দিনাজপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাগর ট্রেডার্স। যার নিলাম মূল্য দুই লাখ ২৩ হাজার ২৫০ টাকা। যেখানে প্রতিটি গাছের গড় মূল্য তিন হাজার ১৪৪ টাকা। তবে ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট নিলাম কার্যাদেশের ২৫ দিনের মধ্যে গাছ কাটার নির্দেশনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে গাছ কাটা হয়নি।
শনিবার দুপুরে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দক্ষিণ পাশের তাজা গাছ কেটে গাড়িতে তোলা হচ্ছে। সেখানে একজন লোক গাছ কাটার বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছিলেন। কেন তাজা গাছ কাটা হচ্ছে, এর জবাবে তিনি বললেন, উত্তর দিতে বাধ্য নয়।
সড়ক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, করাত দিয়ে কাটা গাছের গোড়াগুলোর চার পাশের মাটি সরিয়ে গোড়া তুলে ফেলা হচ্ছে। মাটি দিয়ে আবার খোঁড়া জায়গা এমনভাবে ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে গাছ ছিল সেটা বোঝা না যায়।
দাশুড়িয়া ইউনিয়নের বাড়াহুসিয়া গ্রামের জুয়েল হোসেন জানান, ‘তাজা গাছ কাটার ঘটনা দুঃখজনক। যারা এসব দেখভাল করার দায়িত্বে রয়েছেন তাঁরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করার কারণেই তাজা গাছ কাটা হচ্ছে।’
ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বকুল সরদার বলেন, ‘সরেজমিনে দেখছি মরা গাছ কাটার বদলে অনেক তাজা গাছ কেটে ফেলেছে। আমরা সওজ বিভাগকে লিখিত আকারে অভিযোগ করব, যাতে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’
গাছ কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈশ্বরদী উপজেলা বন কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, ‘তাঁর কাছ থেকে ওই সড়কের গাছ কাটার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।’
পাবনা মহাসড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, ‘দরপত্রের মাধ্যমে শুকনো ও মরা গাছ কাটার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাজা গাছই কাটা হচ্ছে—বিষয়টি তাঁর নজরে আনলে তিনি বলেন, তাহলে বোধ হয় ভুল করে কেটেছে। তবে নিয়মের বাহিরে গাছ কাটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাগর ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বাবু বলেন, ‘নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারবো না।’
নিজস্ব প্রতিবেদক: লিচু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদীতে গত বছরের তুলনায় এবছর লিচুর পরিমাণ অর্ধেকের কম। বৈরী আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে লিচুর ফলনে। ফলন নিয়ে চিন্তার সঙ্গে চাষিদের দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে চলমান দাবদাহে বোম্বাই লিচুর পরিপক্ক হওয়ার আগে গাছেই ফেটে যাওয়া। তীব্র দাবদাহে পাবনার ঈশ্বরদীতে গাছেই ফেটে ও শুকিয়ে যাচ্ছে লিচু। সপ্তাহজুড়ে ঈশ্বরদীতে বয়ে যাচ্ছে গরম বাতাস ও প্রচন্ড দাবদাহ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর এমন অবস্থায় চাষি ও ব্যাপারিরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
আবহাওয়া অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই প্রতিদিনই বেলা ১১টা বাজতে না বাজতেই তাপমাত্রার কাঁটা ৩৬ ডিগ্রী অতিক্রম করে। দুপুরের পর ৩৮-৪০ ডিগ্রীর মধ্যে উঠানামা করছে। এরআগে তাপমাত্রা ৪২-৪৩ ডিগ্রীতেও উঠেছিল।
লিচু চাষিরা জানান, এখানকার লিচুর কদর সারা দেশেই রয়েছে। লিচুর মৌসুম শুরুর আগেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগানের লিচু কিনে নেন। এরপর থেকে লিচু তোলা ও বাজারজাত করার দায়িত্ব তারাই পালন করেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় অর্ধেক মুকুল এসেছে। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে গাছ থেকে লিচুর গুটি ঝরে পড়ে। এখন তীব্র দাবদাহে লিচু ফেটে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেক চাষি লিচু পেড়ে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। বৈরী পরিস্থিতি চলতে থাকলে ঈশ্বরদীতে লিচু চাষে এবারে চরম বিপর্যয় ঘটবে। বেশীরভাগ লিচু চাষির গোটা বছরের সংসার লিচু চাষে উপার্জিত আয়ের উপর নির্ভরশীল।
সরজমিনে দেখা যায়, দেশি মোজাফ্ফরী জাতের লিচু রোদের তীব্রতায় পুড়ে কালচে হয়ে যাচ্ছে। ৫-৭ দিন ধরে দেশি লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। অপরিপক্কতার কারণে লিচু আকারে ছোট। স্বাদও তেমন নেই।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩১ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার সলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় রয়েছে শত শত লিচুর বাগান। ২০ মের পর থেকে পর্যায়ক্রমে সব জাতের লিচু বাজারে আসবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
সলিমপুর ইউনিয়নের ডাবলু মোল্লা বলেন, ‘ঈশ্বরদী উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফল ফসল লিচু। লিচুর ওপর নির্ভর এখানকার বহু কৃষক পরিবার। এবার লিচুর ফলন এমনিতেই কম। তার ওপর ফাটল দেখা দেওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।’ লিচুর পরিচর্যায় সময়মতো সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেছি। তারপরও লিচু কেন ফেটে যাচ্ছে তা বুঝি উঠতে পারছি না।
সাহাপুর এলাকার লিচুচাষি আবুল হাসেম বলেন, এবার লিচুর মুকুল কম হয়েছে। প্রচন্ড খরায় লিচুর গুটি ঝরে পড়ার পর শেষ মুহূর্তে দাবদাহে আর পানির অভাবে গাছেই লিচু ফেটে যাচ্ছে ও শুকিয়ে যাচ্ছে।
চরমিরকামারীর লিচুচাষি আহমাদুল্লাহ মিলন বলেন, আর কয়েকদিন পর লিচু পরিপক্ব হওয়ার কথা। তবে তীব্র দাবদাহে গাছেই ফেটে ও শুকিয়ে যাচ্ছে লিচু।
উপজেলার সবচেয়ে বড় লিচুর হাট জয়নগর শিমুলতলার ইজারাদার সোহেল বলেন, ‘লিচুতে ফাটল ও ঝরে পড়ায় কৃষক-ব্যবসায়ীর পাশাপাশি আড়তদাররাও চিন্তিত। লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গেলে বাজারে লিচুর আমদানি কমে যাবে। এতে আড়তদার ও ইজারাদার সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। লিচুর ফাটল রোধে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানান, তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে থাকলে লিচুর জন্য খুবই ক্ষতিকর। এবারে মুকুল হতে লিচুর গুটি যখন ধরতে শুরু হয়েছে, তখন থেকেই প্রায় এক মাস যাবত ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা ৩৮-৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। এতেই ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
তাপপ্রবাহের কারণে লিচু ফেটে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, লিচু ফাটা রোধে কার্যকরী কোনো স্প্রে এ মুহূর্তে ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি না। শুধু লিচু গাছে প্রচুর পরিমাণ পানি স্প্রে করতে হবে। শেষ বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি স্প্রে করতে হবে।
