পরিবেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পরিবেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

তেলকল চালুর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন মেসার্স আর.বি. রাইস ব্রান অয়েল মিল নামের একটি তেলকল চালুর অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই কারখানার আবেদন মঞ্জুর করার পর এর প্রতিবাদে নামেন তাঁরা। শনিবার সকালে ভেলুপাড়া এলাকায় ঈশ্বরদী উপজেলা পরিবেশ রক্ষা কমিটির ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সহসভাপতি শামীম আহমেদ লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার দাবিতে তাঁরা ২০১৮ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছেন। ২০২২ সালে এই তেলকলের মালিক মধু বিশ্বাসের পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদন পরিবেশ অধিদপ্তর নাকচ করে দেয়। পরে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়, ঢাকার প্রধান কার্যালয় এবং মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও সব জায়গাতেই তা নাকচ হয়। তবে গত ১১ জুন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় তাঁর আপিল আবেদন মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা এলাকাবাসীকে হতাশ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে রহস্যজনক উল্লেখ করে শামীম আহমেদ বলেন, কারখানাটি চালু হলে সেখান থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি, বিষাক্ত ধোঁয়া, ছাই, গরম পানি ও অন্যান্য শিল্পবর্জ্য এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ তৈরি করবে। এতে বাতাস, মাটি, পানি ও শব্দদূষণ বাড়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষ, গবাদিপশু এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। কারখানার ধোঁয়া বের হওয়ার নল বা চিমনি থেকে ওড়া ছাই বাতাসের মাধ্যমে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। ব্যক্তিস্বার্থে একটি কারখানা গড়ে তুলে ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বরদী পৌরসভা ও ছলিমপুর ইউনিয়নের একাংশের মানুষের জীবনযাত্রা, শান্তি ও ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। এই অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আব্দুস সাত্তার, শরিফা খাতুন, তরিকুল ইসলাম, আলহাজ তুহিন হোসেন, দুলাল মণ্ডল ও হাফিজুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনছারুল হক। এই মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেসার্স আর.বি. রাইস ব্রান অয়েল মিলের প্রধান বা চেয়ারম্যান মধু বিশ্বাস। তিনি বলেন, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিল্পায়ন ও উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছিলেন।

মধু বিশ্বাস আরও বলেন, তিনি নতুন করে কোনো আবেদন করেননি। আগে নাকচ হওয়া আপিল আবেদনটিই পুনর্বিবেচনার আওতায় এসেছে। দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে পুরোনো আপিল আবেদনগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তাঁর আবেদনটি শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুর করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিনে পর্যটক সীমিত ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা

পরিবেশ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সেন্টমার্টিনে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘পর্যটকের সংখ্যা সীমিত করা এবং দ্বীপে রাত্রীযাপন নিষিদ্ধসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সোমবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সেন্টমার্টিনের পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার এবং কুয়াকাটাকে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রবাল দ্বীপ আমাদের দেশে একটিই আছে, তাই একে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে আগের নির্দেশিকাগুলো মানতে হবে। এছাড়া, পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই হোটেল মালিক, ট্যুর অপারেটর ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে চাই। দ্বীপটিকে একটি কোলাহলমুক্ত এলাকা হিসেবে দেখার অভিপ্রায় ও ব্যক্ত করেন এই উপদেষ্টা।

মরা গাছের নামে কাটা হচ্ছে তাজা গাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-রাজশাহী সড়কের পাশের মরা গাছ কাটার নামে এবার তাজা গাছও কেটে নেওয়া হচ্ছে। পাবনা শহরের গাছপাড়া থেকে ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেলগেট সামনের সড়কের পাশ থেকে গত কয়েক দিনে প্রায় ১২টি শিশুগাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।

যাঁরা গাছ কাটছেন, তাঁরা শুরুর দিকে বলেছিলেন, তাঁরা মরা গাছ কাটছেন। এবার তাঁরা তাজা গাছও কাটছেন।

এর আগেও চলতি বছরের ১৮ জুন পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য অর্ধশতবর্ষী বটগাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। পাবনা মহাসড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে গাছ কাটা হলেও কখনোই বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি। অথচ বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অনুমতি ছাড়া কেউ গাছ কাটতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদের অধীনে ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিলামের মাধ্যমে মোট ছয়টি ধাপে মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছা কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এরমধ্যে পঞ্চম ধাপে পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কের গাছপাড়া থেকে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি রেলগেট পর্যন্ত ৭১টি গাছ সর্বোচ্চ নিলামে পেয়েছে দিনাজপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাগর ট্রেডার্স। যার নিলাম মূল্য দুই লাখ ২৩ হাজার ২৫০ টাকা। যেখানে প্রতিটি গাছের গড় মূল্য তিন হাজার ১৪৪ টাকা। তবে ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট নিলাম কার্যাদেশের ২৫ দিনের মধ্যে গাছ কাটার নির্দেশনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে গাছ কাটা হয়নি।

শনিবার দুপুরে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দক্ষিণ পাশের তাজা গাছ কেটে গাড়িতে তোলা হচ্ছে। সেখানে একজন লোক গাছ কাটার বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছিলেন। কেন তাজা গাছ কাটা হচ্ছে, এর জবাবে তিনি বললেন, উত্তর দিতে বাধ্য নয়।  

সড়ক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, করাত দিয়ে কাটা গাছের গোড়াগুলোর চার পাশের মাটি সরিয়ে গোড়া তুলে ফেলা হচ্ছে। মাটি দিয়ে আবার খোঁড়া জায়গা এমনভাবে ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে গাছ ছিল সেটা বোঝা না যায়।

দাশুড়িয়া ইউনিয়নের বাড়াহুসিয়া গ্রামের জুয়েল হোসেন জানান, ‘তাজা গাছ কাটার ঘটনা দুঃখজনক। যারা এসব দেখভাল করার দায়িত্বে রয়েছেন তাঁরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করার কারণেই তাজা গাছ কাটা হচ্ছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বকুল সরদার বলেন, ‘সরেজমিনে দেখছি মরা গাছ কাটার বদলে অনেক তাজা গাছ কেটে ফেলেছে। আমরা সওজ বিভাগকে লিখিত আকারে অভিযোগ করব, যাতে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

গাছ কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈশ্বরদী উপজেলা বন কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, ‘তাঁর কাছ থেকে ওই সড়কের গাছ কাটার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।’

পাবনা মহাসড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, ‘দরপত্রের মাধ্যমে শুকনো ও মরা গাছ কাটার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাজা গাছই কাটা হচ্ছে—বিষয়টি তাঁর নজরে আনলে তিনি বলেন, তাহলে বোধ হয় ভুল করে কেটেছে। তবে নিয়মের বাহিরে গাছ কাটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাগর ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বাবু বলেন, ‘নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারবো না।’

ঈশ্বরদীতে পরিপক্ক হওয়ার আগেই ফেটে যাচ্ছে লিচু, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিচু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদীতে গত বছরের তুলনায় এবছর লিচুর পরিমাণ অর্ধেকের কম। বৈরী আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে লিচুর ফলনে। ফলন নিয়ে চিন্তার সঙ্গে চাষিদের দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে চলমান দাবদাহে বোম্বাই লিচুর পরিপক্ক হওয়ার আগে গাছেই ফেটে যাওয়া। তীব্র দাবদাহে পাবনার ঈশ্বরদীতে গাছেই ফেটে ও শুকিয়ে যাচ্ছে লিচু। সপ্তাহজুড়ে ঈশ্বরদীতে বয়ে যাচ্ছে গরম বাতাস ও প্রচন্ড দাবদাহ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর এমন অবস্থায় চাষি ও ব্যাপারিরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

আবহাওয়া অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই প্রতিদিনই বেলা ১১টা বাজতে না বাজতেই তাপমাত্রার কাঁটা ৩৬ ডিগ্রী অতিক্রম করে। দুপুরের পর ৩৮-৪০ ডিগ্রীর মধ্যে উঠানামা করছে। এরআগে তাপমাত্রা ৪২-৪৩ ডিগ্রীতেও উঠেছিল।

লিচু চাষিরা জানান, এখানকার লিচুর কদর সারা দেশেই রয়েছে। লিচুর মৌসুম শুরুর আগেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগানের লিচু কিনে নেন। এরপর থেকে লিচু তোলা ও বাজারজাত করার দায়িত্ব তারাই পালন করেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় অর্ধেক মুকুল এসেছে। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে গাছ থেকে লিচুর গুটি ঝরে পড়ে। এখন তীব্র দাবদাহে লিচু ফেটে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেক চাষি লিচু পেড়ে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। বৈরী পরিস্থিতি চলতে থাকলে ঈশ্বরদীতে লিচু চাষে এবারে চরম বিপর্যয় ঘটবে। বেশীরভাগ লিচু চাষির গোটা বছরের সংসার লিচু চাষে উপার্জিত আয়ের উপর নির্ভরশীল।

সরজমিনে দেখা যায়, দেশি মোজাফ্ফরী জাতের লিচু রোদের তীব্রতায় পুড়ে কালচে হয়ে যাচ্ছে। ৫-৭ দিন ধরে দেশি লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। অপরিপক্কতার কারণে লিচু আকারে ছোট। স্বাদও তেমন নেই।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩১ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার সলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় রয়েছে শত শত লিচুর বাগান। ২০ মের পর থেকে পর্যায়ক্রমে সব জাতের লিচু বাজারে আসবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

সলিমপুর ইউনিয়নের ডাবলু মোল্লা বলেন, ‘ঈশ্বরদী উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফল ফসল লিচু। লিচুর ওপর নির্ভর এখানকার বহু কৃষক পরিবার। এবার লিচুর ফলন এমনিতেই কম। তার ওপর ফাটল দেখা দেওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।’ লিচুর পরিচর্যায় সময়মতো সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেছি। তারপরও লিচু কেন ফেটে যাচ্ছে তা বুঝি উঠতে পারছি না।

সাহাপুর এলাকার লিচুচাষি আবুল হাসেম বলেন, এবার লিচুর মুকুল কম হয়েছে। প্রচন্ড খরায় লিচুর গুটি ঝরে পড়ার পর শেষ মুহূর্তে দাবদাহে আর পানির অভাবে গাছেই লিচু ফেটে যাচ্ছে ও শুকিয়ে যাচ্ছে।

চরমিরকামারীর লিচুচাষি আহমাদুল্লাহ মিলন বলেন, আর কয়েকদিন পর লিচু পরিপক্ব হওয়ার কথা। তবে তীব্র দাবদাহে গাছেই ফেটে ও শুকিয়ে যাচ্ছে লিচু।

উপজেলার সবচেয়ে বড় লিচুর হাট জয়নগর শিমুলতলার ইজারাদার সোহেল বলেন, ‘লিচুতে ফাটল ও ঝরে পড়ায় কৃষক-ব্যবসায়ীর পাশাপাশি আড়তদাররাও চিন্তিত। লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গেলে বাজারে লিচুর আমদানি কমে যাবে। এতে আড়তদার ও ইজারাদার সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। লিচুর ফাটল রোধে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানান, তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে থাকলে লিচুর জন্য খুবই ক্ষতিকর। এবারে মুকুল হতে লিচুর গুটি যখন ধরতে শুরু হয়েছে, তখন থেকেই প্রায় এক মাস যাবত ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা ৩৮-৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। এতেই ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

তাপপ্রবাহের কারণে লিচু ফেটে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, লিচু ফাটা রোধে কার্যকরী কোনো স্প্রে এ মুহূর্তে ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি না। শুধু লিচু গাছে প্রচুর পরিমাণ পানি স্প্রে করতে হবে। শেষ বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি স্প্রে করতে হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন