গণসংবর্ধনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গণসংবর্ধনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে তুহিনের মুক্তিতে নেতাকর্মীদের আনন্দ, সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি হত্যা মামলায় ২২ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে তিনি পাবনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।

কারাগার চত্বরে তুহিনকে বরণ করতে ভিড় করেন কয়েক হাজার নেতা-কর্মী। ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু হয় আনন্দমিছিল। পরে তাঁকে নিয়ে নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে যান। সেখানে দলের পক্ষ থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন  চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং কারামুক্ত শরিফুল ইসলাম তুহিন।

উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুল হক বাবু, নুর মাসুম বগা, সাবেক সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান এবং সাবেক পৌর মেয়র মোকলেছুর রহমান বাবলু।

পরে তুহিনকে বহনকারী গাড়িবহর ঈশ্বরদীর উদ্দেশে রওনা হয়। পথে পথে নেতাকর্মীরা তাঁকে অভিনন্দন জানান। ঈশ্বরদীর পুরাতন মোটরস্ট্যান্ডে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে তাঁর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হাবিবুর রহমান হাবিব।

তিনি বলেন, 'তুহিনের মুক্তির মধ্য দিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত হলো। বিএনপিকে নিয়ে যারা খেলতে চায়, তাদের রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে কটাক্ষ করার অধিকার কারও নেই।' 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক পৌর মেয়র মোকলেছুর রহমান বাবলু। সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম শাহীন।

বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন বিশ্বাস, আজমল হোসেন ডাবলু, নূরুল ইসলাম আক্কেল, যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম রকি এবং ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোস্তফা ইমরুল কায়েল সুমন।

সংবর্ধনায় দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় শরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। দেরিতে হলেও আমি আজ মুক্ত। এই মুহূর্তে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ, বিশেষ করে ঈশ্বরদীর নেতাকর্মী এবং জেলা বিএনপির প্রতি। সামনে দলের সঙ্গে থেকে জনগণের পক্ষে কাজ করাই আমার অঙ্গীকার।' 

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম নয়ন।

জানা যায়, ২০০৩ সালের ৯ আগস্ট দাশুড়িয়ার ইউপি সদস্য আবদুল খালেক হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় শরিফুল ইসলাম তুহিনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে র‍্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বছরখানেক কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। কিন্তু ২০০৭ সালে আবার গ্রেপ্তার হন এবং টানা ১৮ বছর কারাগারে ছিলেন।

চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে ১০ এপ্রিল ২৯ জন কয়েদির সাজা মওকুফ করা হয়। এর মধ্যে শরিফুল ইসলাম তুহিনের নামও ছিলো। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী সাজা কমানো হয়েছে।

এদিকে তাঁর মুক্তির খবরে গত এক সপ্তাহ ধরে ঈশ্বরদী ও দাশুড়িয়া এলাকায় বইছিল উৎসবের আবহ।

সোমবার সকালে শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পাবনায় গিয়ে কারাগারের সামনে অপেক্ষা করেন। পরে গাড়িবহর নিয়ে তুহিনকে ঈশ্বরদীতে নিয়ে আসা হয়। রাস্তাঘাটে মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন তাকে একনজর দেখতে। সংবর্ধনা শেষে তুহিন নিজ বাড়ি দাশুড়িয়ায় ফেরেন এবং প্রয়াত মায়ের কবর জিয়ারত করেন।

ঈশ্বরদীতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঈশ্বরদী উপজেলা শাখা। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের আলহাজ মোড়ে দারুস সালাম ট্রাস্ট মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের পাবনা জেলা সভাপতি মো. ইসরাইল হোসেন শান্ত। 

ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা অফিস সম্পাদক মো. আবুল বাসার, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল আমিন, ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন আলী এবং আইবিডাব্লিউএফ-এর উপজেলা সভাপতি মো. জামিলুর রহমান সবুজ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রশিবির নেতা মো. ইসতিয়াক আহমেদ। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিবির সেক্রেটারি তারিকুজ্জামান তামিম, নেতা রিফাত খানসহ অন্যরা।

ঈশ্বরদীতে কারামুক্ত পিন্টুসহ নেতাদের গণসংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কারামুক্ত পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন নেতাকে বিশাল গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলি করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পিন্টুসহ পৌর যুবদলের সভাপতি নূরে মোস্তফা শ্যামল ও শহীদুল ইসলাম অটল পাবনা কারাগার থেকে মুক্ত হলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী তাঁদের বরণ করে বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে ঈশ্বরদীতে নিয়ে আসেন।

ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াবাসীর ব্যানারে দুপুরে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে কারামুক্ত নেতাদের জন্য আয়োজন করা হয় গণসংবর্ধনা। নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে শহরের রেলগেট থেকে চাঁদআলীর মোড় পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

গণসংবর্ধনায় জাকারিয়া পিন্টু ঈশ্বরদী বিএনপি’র সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "আপনাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমি নেতা হতে পেরেছি। আপনাদের ভালোবাসায় আজ সিক্ত হলাম। আমরা সামাজিকভাবেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবো। ঈশ্বরদীতে বিএনপি’র কেউ রাহাজানির সাথে যুক্ত থাকবে না। প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মব জাস্টিস প্রতিষ্ঠা করবেন না কেউ। নিজের হাতে আইন তুলে না নিয়ে আইন ও আল্লাহপাকের প্রতি সকলকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।"

পিন্টু এসময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "প্রথম থেকেই তিনি এই মিথ্যা মামলা দেখভাল করছেন। কারারুদ্ধ নেতাদের বাড়িতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। আমাদের মুক্ত করার জন্য এই মামলার যাবতীয় অর্থ তিনি ব্যয় করেছেন। মামলা পরিচালনা করে তাঁদের মুক্ত করে আনার জন্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও আইনজীবী জামিল আক্তার এলাহীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।"

গণসংবর্ধনায় বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, "বিএনপি’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আজ আওয়ামী লীগ মাইনাস হয়েছে। এখনও বিএনপি’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। যারাই ষড়যন্ত্র করবে তারাই মাইনাস হয়ে যাবে। যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন আমরা কারামুক্ত নেতা পিন্টুকে নিয়ে ঈশ্বরদীর মাটিতে দুর্গ গড়ে তুলবো।"

তিনি আরও বলেন, "অন্যায়ভাবে বিএনপি’র নেতাদের ফাঁসিসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। যে বিচারক রায় দিয়েছিলেন, জনতার আদালতে সেই বিচারকের বিচার করতে হবে।"

সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র ও এই মামলার অন্যতম আইনজীবী জামিল আক্তার এলাহী বলেন, "ঈশ্বরদীর প্রাণ ভোমড়া জাকারিয়া পিন্টু। পিন্টুর নির্দেশনায় এই মামলার জন্য মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। আমি ছিলাম আহ্বায়ক। সাড়ে ৫ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের সাথে ঈশ্বরদীবাসীর উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল বলেই আমরা এদের কারামুক্ত করতে পেরেছি। আর এই বিষয়টি দেখভাল করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান।"

পৌর বিএনপি’র প্রস্তাবিত কমিটির আহ্বায়ক এস এম ফজলুর রহমান গণসংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পাবনা জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, রেল শ্রমিক দলের আহসান হাবিব, পৌর বিএনপি’র প্রস্তাবিত সদস্য সচিব বিষ্টু কুমার সরকার, সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর যুবদলের ইসলাম হোসেন জুয়েল প্রমুখ।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন