ঈশ্বরদীতে কারামুক্ত পিন্টুসহ নেতাদের গণসংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কারামুক্ত পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন নেতাকে বিশাল গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলি করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পিন্টুসহ পৌর যুবদলের সভাপতি নূরে মোস্তফা শ্যামল ও শহীদুল ইসলাম অটল পাবনা কারাগার থেকে মুক্ত হলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী তাঁদের বরণ করে বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে ঈশ্বরদীতে নিয়ে আসেন।

ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াবাসীর ব্যানারে দুপুরে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে কারামুক্ত নেতাদের জন্য আয়োজন করা হয় গণসংবর্ধনা। নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে শহরের রেলগেট থেকে চাঁদআলীর মোড় পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

গণসংবর্ধনায় জাকারিয়া পিন্টু ঈশ্বরদী বিএনপি’র সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "আপনাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমি নেতা হতে পেরেছি। আপনাদের ভালোবাসায় আজ সিক্ত হলাম। আমরা সামাজিকভাবেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবো। ঈশ্বরদীতে বিএনপি’র কেউ রাহাজানির সাথে যুক্ত থাকবে না। প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মব জাস্টিস প্রতিষ্ঠা করবেন না কেউ। নিজের হাতে আইন তুলে না নিয়ে আইন ও আল্লাহপাকের প্রতি সকলকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।"

পিন্টু এসময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "প্রথম থেকেই তিনি এই মিথ্যা মামলা দেখভাল করছেন। কারারুদ্ধ নেতাদের বাড়িতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। আমাদের মুক্ত করার জন্য এই মামলার যাবতীয় অর্থ তিনি ব্যয় করেছেন। মামলা পরিচালনা করে তাঁদের মুক্ত করে আনার জন্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও আইনজীবী জামিল আক্তার এলাহীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।"

গণসংবর্ধনায় বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, "বিএনপি’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আজ আওয়ামী লীগ মাইনাস হয়েছে। এখনও বিএনপি’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। যারাই ষড়যন্ত্র করবে তারাই মাইনাস হয়ে যাবে। যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন আমরা কারামুক্ত নেতা পিন্টুকে নিয়ে ঈশ্বরদীর মাটিতে দুর্গ গড়ে তুলবো।"

তিনি আরও বলেন, "অন্যায়ভাবে বিএনপি’র নেতাদের ফাঁসিসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। যে বিচারক রায় দিয়েছিলেন, জনতার আদালতে সেই বিচারকের বিচার করতে হবে।"

সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র ও এই মামলার অন্যতম আইনজীবী জামিল আক্তার এলাহী বলেন, "ঈশ্বরদীর প্রাণ ভোমড়া জাকারিয়া পিন্টু। পিন্টুর নির্দেশনায় এই মামলার জন্য মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। আমি ছিলাম আহ্বায়ক। সাড়ে ৫ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের সাথে ঈশ্বরদীবাসীর উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল বলেই আমরা এদের কারামুক্ত করতে পেরেছি। আর এই বিষয়টি দেখভাল করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান।"

পৌর বিএনপি’র প্রস্তাবিত কমিটির আহ্বায়ক এস এম ফজলুর রহমান গণসংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পাবনা জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, রেল শ্রমিক দলের আহসান হাবিব, পৌর বিএনপি’র প্রস্তাবিত সদস্য সচিব বিষ্টু কুমার সরকার, সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর যুবদলের ইসলাম হোসেন জুয়েল প্রমুখ।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন