এনসিপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এনসিপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

এনসিপি নেতাদের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি পাবনা বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে সারোয়ার আলম তুষার ও সারজিস আলমকে পাবনায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাবনা জেলা বিএনপি।

সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন।

পাবনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবর্ষণে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা বিএনপি।

লিখিত বক্তব্যে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার বলেন, গত ৯ জুলাই এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও মুখ্য আহ্বায়ক সারোয়ার আলম তুষার পাবনা সদর ও চাটমোহরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। একটি গণতান্ত্রিক দলের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে আগে থেকেই অবহিত করা হয়েছিল এবং বিএনপির পক্ষ থেকে সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখা হয়।

তিনি বলেন, ওই সফরের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এসব বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

মাসুদ খন্দকার আরও বলেন, এনসিপির দুই নেতাকে অবিলম্বে এসব বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিমুল বিশ্বাস ও পাবনাবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় পাবনার মানুষ তাঁদের কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে দেবে না এবং অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবে।

এনসিপির নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে জামায়াতের বক্তব্যের মিল রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মাসুদ খন্দকার। তিনি বলেন, ‘দুই দলের বক্তব্যের ভাষায় অনেক মিল রয়েছে। কে কোন সুরে কথা বলছে, তা জনগণ বুঝতে পারছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবু, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু, নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু ও বর্তমান আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৯ জুলাই পাবনা সফর শেষে ১০ জুলাই নাটোরে এক পদযাত্রায় এনসিপির মুখ্য আহ্বায়ক সারোয়ার আলম তুষার অভিযোগ করেন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পাবনায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে দুই শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ খান ওরফে সাঈদ চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন।

একই অভিযোগ তুলে ওই দিন সারজিস আলম তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন।

এমপি শিমুল বিশ্বাসকে ‘কটূক্তি’, এনসিপিকে পাবনায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে পাবনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার কথা বলেন।

শনিবার সন্ধ্যায় পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে শহরের থানা রোড থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি আব্দুল হামিদ রোডের বাণী সিনেমা হল এলাকা ঘুরে শহীদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়ামিন খান, সদস্যসচিব কমল শেখ টিটু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক দীপঙ্কর সরকার জিতুসহ অন্য নেতারা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে কটূক্তি ও মিথ্যাচারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁরা ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে সারোয়ার তুষারের নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করেন।

পথসভায় বক্তারা আরও বলেন, তাঁরা পাবনা জেলায় এনসিপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছেন এবং দলটির কোনো কর্মকাণ্ড জেলায় পরিচালনা করতে দেবেন না।

আওয়ামী লীগের দাফন দিল্লিতে হয়ে গেছে : সারজিস আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাটমোহর (পাবনা): জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের দাফন দিল্লিতে হয়ে গেছে। এই দলের পতন ঘটেছে, এখন দেশের মানুষকে বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক শক্তিকে বেছে নিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পাবনার চাটমোহর উপজেলার বালুচর মাঠে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে দালালতন্ত্র, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতে রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হতে হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শিক্ষা খাতের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করে তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের খাবারের দরপত্রসহ (টেন্ডার) বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যোগ্য ব্যক্তিদের পরিবর্তে অযোগ্যদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমাজ থেকে মাদক, চাঁদাবাজি, অবৈধ ব্যবসা ও ক্ষমতার অপব্যবহার দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা থাকার কারণে কোনো দলের নেতা-কর্মীরা প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি জনগণকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।

এনসিপির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক অপপ্রচার।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, তাঁর শাসনামলে প্রশাসনের দলীয়করণ, গুম, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রশাসনকে কোনো দলের হয়ে নয়, দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, পাবনা জেলা আহ্বায়ক আক্তার হোসেন লেবু, দলটির নেতা বরকতুল্লাহ ফাহাদ এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত জাহিদুল ইসলামের বাবা দুলাল উদ্দিন মাস্টারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন