নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, এই মেগা প্রকল্প দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
রোববার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) আয়োজিত ‘বেসিক প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গত ১১ অক্টোবর সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন (পরমাণু বিক্রিয়া) শুরু হলো। পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ক্ষমতায় চুল্লির কার্যক্রম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুতই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, নিখুঁত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দেশের নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক মানের গভীর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পারমাণবিক পদার্থবিদ্যা, বিকিরণ সুরক্ষা, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ডিজাইন, জ্বালানি চক্র, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তরুণদের দক্ষতা বাড়বে; যা দেশের নিরাপদ ও টেকসই পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) টেকনিক্যাল অফিসার রাহিলা হাম্মাদ।
চার সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সে বায়েরা, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বায়েক) এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ৪০ জন নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী অংশগ্রহণ করছেন। ১৮ অক্টোবর শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ আগামী ১২ নভেম্বর শেষ হবে।

