ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন, পরে গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।  মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার দিয়ার বাঘাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন্নবী আলমকে প্রধান আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জিয়াউল হাসান বিপ্লব।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রূপপুর কড়ইতলা এলাকায় নিজেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে নুরুন্নবী লিখিত বক্তব্যে জানান, ঝুট ব্যবসার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তাঁরা প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ বা আসল মূলধন—কোনোটিই তাঁরা পাননি। পাওনা অর্থ দাবি করায় ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরাতে তাঁদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে তাঁদের 'ডাকাত' হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এ সময় জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রধান আসামি নুরুন্নবীসহ অন্য অভিযুক্তরা সেখান থেকে দ্রুত সরে যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, ডাকাতির ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতেই গাছপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত ট্রাক দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। মামলায় নুরুন্নবীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার আসামি মো. নিজামকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন