ঈশ্বরদীর সাবেক মেয়র বাবলুর জানাজা দুই দফায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মখলেসুর রহমান বাবলুর দুটি জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানাজার আগে তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার রাত ১০টায় ঈশ্বরদী শহরের ফতেহমোহাম্মদপুর লোক ফুটবল মাঠে প্রথম এবং পরে রাত সাড়ে ১০টায় ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা হবে।

শনিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মখলেসুর রহমানের বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঈশ্বরদীতে চলমান একটি কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে ফতেহমোহাম্মদপুরের বাসভবনে ছুটে যান সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ। পরে সেখানে যান পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। 

বাবলুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ইছাহক আলী মালিথা এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

পারিবারিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, মখলেসুর রহমান বাবলু ১৯৯৩, ১৯৯৭, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালে ঈশ্বরদী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। আশির দশকে পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিন দশকের বেশি সময় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি ‘বাবলু ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই আদালত মখলেসুর রহমান বাবলুকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে পাঁচ বছর কারাভোগের পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন। একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন