ঈশ্বরদীতে কিন্ডারগার্টেনে হামলা, ওড়না পেঁচিয়ে শিক্ষিকাকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষার্থীকে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কিন্ডারগার্টেনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সহকারী শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় এনে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ওই শিক্ষককে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বয়স ২৫ বছর। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নের চর কুড়লিয়া গ্রামের ‘সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতন’ নামের একটি কিন্ডারগার্টেনে ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল ও তাঁর পরিবারের পাঁচ-ছয়জন সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্কুলে হামলা চালান। উজ্জ্বলের বয়স ৫৫ বছর। এতে সহকারী শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথী ছাড়াও স্কুলের অধ্যক্ষের মা ও বোন আহত হন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্কুলশিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে নিয়মিত না আসা ও পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধমক দিয়ে শাসন করেন স্কুলের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা। এতে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে যায়।এর কিছুক্ষণ পর বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্কুলে এসে অধ্যক্ষকে খুঁজতে থাকেন। তাঁকে না পেয়ে তাঁরা স্কুলের পাশের বাড়িতে থাকা অধ্যক্ষের মা ও বোনকে হুমকি দেন এবং মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথী এগিয়ে এলে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাঁর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও অন্য শিক্ষকেরা তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

স্কুলের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উজ্জ্বল মাল বিভিন্নভাবে তাঁদের বিরক্ত করতেন। তাঁর ভাষ্য, ‘ভাগনি নিয়মিত স্কুলে না আসায় আমি তাকে শাসন করে নিয়মিত আসতে বলেছিলাম। কিন্তু বিষয়টি না বুঝেই তাঁরা স্কুলে হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছেন।’ ঘটনার সময় তিনি স্কুলে না থাকায় রক্ষা পেয়েছেন বলেও জানান।

অধ্যক্ষ আরও জানান, আহত শিক্ষক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এতে উজ্জ্বল মালসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিক্ষার্থীকে শাসন করাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উজ্জ্বল মালের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন