নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নতুন একটি মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ ‘স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে।
শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি ভরার (লোডিং) মাধ্যমে প্রকল্পটি চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আধুনিক এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো।
রোসাটমের অটোমেশন ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ‘রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস’ এই প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ও বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ মোট ২২টি উপ-ব্যবস্থা (সাব-সিস্টেম) স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোসাটম জানায়, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু ও নিয়মিত পরিচালনার সময় যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, বিকিরণ পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য কারিগরি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে তদারকি করা হবে।
অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্লেব মুরাশভ বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বিশেষ চাহিদা বিবেচনা করে এই ব্যবস্থায় কয়েকটি উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এখানে ছোট ও সুবিধাজনক নকশার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সরবরাহ ও চালুর কাজ শেষ হয়েছে।’
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
‘থ্রি-প্লাস’ প্রজন্মের এই রিঅ্যাক্টর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান মেনে নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে একই প্রযুক্তির ছয়টি ইউনিট রাশিয়া ও বেলারুশে চালু রয়েছে। এ ছাড়া মিসর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও চীনেও একই প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।

