স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

স্বাস্থ‍্য সমস‍্যার ৪৮% মানসিক ফিরে আসা প্রবাসীদের

ছবিঃ সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ফিরে বিভিন্ন সেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৮৩০ জন প্রবাসী কর্মী। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ১ হাজার ৯৬ জন এসেছেন স্বাস্থ‍্যসেবা নিতে। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশ এসেছেন মানসিক সমস্যা নিয়ে। যাঁরা এসেছেন, তাদের মধ্যে ৬১ শতাংশ নারী এবং ৩৯ শতাংশ পুরুষ। নারী বেশি এলেও তাঁদের চেয়ে পুরুষ কর্মীরা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে বেশি এসেছেন। মানসিক সমস্যা নিয়ে যাঁরা এসেছেন, তাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ পুরুষ।

মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশ থেকে ফেরা ১ হাজার ৯৬ জন বিদেশফেরত কর্মীর ওপর জরিপ চালিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন তাঁরা। কুমিল্লা, ঢাকা, ফরিদপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত জরিপের তথ্য সংগ্রহ করেছে তৃণমূল অভিবাসীদের সংগঠন অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ)।

আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ‘বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্য: আর্থসামাজিক উন্নয়নে গোপন অভিবাসন খরচের বোঝা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপের পাশাপাশি বিশদ সাক্ষাৎকার ও দলবদ্ধ আলোচনার মাধ্যমে গবেষণাটি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ফিরে আসা প্রবাসীদের স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা প্রতিবেদনটি সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে। সরকারের আরও অনেক কিছু করার আছে। কোথাও একটা সমন্বয়ের ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে নিয়মিত উপায়ে অভিবাসন নিশ্চিত করতে পারলেই সমস্যার ৫০ শতাংশের বেশি সমাধান হয়ে যাবে। প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানোর একটা সমাধান বের করতে হবে।

গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, অধিকাংশ কর্মী গেছেন মধ‍্যপ্রাচ‍্যের দেশগুলোয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ কর্মী ফিরে এসেছেন সৌদি আরব থেকে। প্রবাসীরা কেউ কেউ চিকিৎসার জন্য দেশ থেকে ঋণ করে টাকা নিয়েছেন। চিকিৎসা করাতে না পেরে দেশে ফিরে এসেছেন অনেকে। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা নিয়েছেন। এসব খরচের কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব নেই। তাই সামাজিক খরচের বিষয়টি পুরোপুরি বের করা যায়নি। এর ফলে অভিবাসনের গোপনীয় খরচের হিসাব করা কঠিন। দৃশ্যমান অভিবাসন খরচও অনেক চড়া। নারীদের কোনো অভিবাসন খরচ নেই। অথচ ৬৬৬ জনের মধ্যে ২১ শতাংশ নারী বলেছেন, দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে তাঁদের। আর ২৯ শতাংশ পুরুষ কর্মী বলেছে, ৬ লাখ টাকার বেশি খরচ করতে হয়েছে।

যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে প্রবাসীরা ফিরে এসেছেন, তার মধ্যে আছে পিঠে ব্যথা, কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনায় আঘাত, হৃদ্‌রোগ, কিডনি সমস্যা, ক‍্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ, টিউমার, ত্বকের রোগ। আর মানসিক সমস্যার অভিযোগ করেছেন বেশি গৃহকর্মীরা। এরপর আছে কৃষি, নির্মাণ অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

দালালের প্রলোভনে পড়ে পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে সৌদি আরবে যান নরসিংদীর শেফালি বেগম। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে অনেক কাজ করাত, কিন্তু খাবার দিত না। শারীরিকভাবে নিপীড়ন করতেন গৃহকর্তা। অভিযোগ করলে উল্টা মারধর করতেন। হাত ভেঙে দেন, চিকিৎসা করাতেন না। পরে শেফালি দেশে ফিরে আসেন। মামলা করলেও পরে স্থানীয় লোকজনের চাপে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণে দালালের সঙ্গে সমঝোতা করে মামলা প্রত‍্যাহার করে নেন।

এক দালালের মাধ্যমে কোম্পানির চাকরি করতে চার লাখ টাকায় সৌদি আরবে যান নারায়ণগঞ্জের মোছা. হানিফা। তিনি বলেন, গিয়ে চাকরি পাননি। একটি কক্ষে তাঁকে ২০ থেকে ২৫ জনের সঙ্গে রাখা হয় কিছুদিন। এক মাস হাজিদের বাসায় কাজ  করিয়ে বের করে দেয়। এরপর হানিফা অবৈধভাবে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিডনির সমস্যা ও বহুমূত্র রোগ নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন।

বিএমইটির উপপরিচালক রেজওয়ানুল হক চৌধুরী বলেন, সবচেয়ে কম বাজেট ও জনবলের মন্ত্রণালয় এটি, তবে প্রত‍্যাশা বেশি। সীমাবদ্ধতা অনেক। সবাইকে ঐক‍্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, বিদেশে যাওয়া কর্মীদেরও কিছুটা দায়িত্ব নিতে হবে। যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে সচেতন হয়ে গেলে সমস্যা কমে যায়।

বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, যে পরিমাণ কর্মী গেছেন মধ‍্যপ্রাচ‍্যে, সেভাবে প্রবাসী আয় বাড়েনি; তার মানে সবাই গিয়ে কাজ পাননি। নারী কর্মী তো ওখানে ঘর থেকেই বের হতে পারেন না। কল্যাণ বোর্ডের টাকা ফেলে না রেখে প্রবাসী কর্মীদের জন্য কোনো সহায়তার ব্যবস্থা করা উচিত।

গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন ওকাপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, একজন কর্মীও যদি স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে দেশে ফেরত আসেন, তার মানে তাঁদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মানসিক সমস্যায় নারীদের নানা সেবা দেওয়া হলেও পুরুষদের বিষয়টা উপেক্ষিত থাকে। অথচ এ গবেষণা বলছে, পুরুষের মানসিক সমস্যা বেশি।

ভিমরুলের কামড় কতটা ভয়ংকর? সাবধানতা ও করণীয়

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব মানুষের বসবাসের পরিবেশকে অনায়াসেই প্রতিকূল করে তোলে। বোলতা ও মৌমাছির মতো কীটপতঙ্গগুলোর হুল ফোটানো বা কামড় থেকে প্রচণ্ড ব্যথা, এমনকি  সংক্রমণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। একসঙ্গে অনেকগুলোর আক্রমণ প্রাণঘাতী হতে পারে। যাদের পতঙ্গ নিয়ে গুরুতর অ্যালার্জি রয়েছে তাদের জন্য দু-একটির কামড়ই মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। তবে এই বিষাক্ত পতঙ্গগুলোর মধ্যে আক্রমণাত্মক প্রকৃতি ও বিষের ভয়াবহতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভিমরুল। চলুন, বিষাক্ত পতঙ্গ ভিমরুল থেকে নিরাপদ থাকার উপায় এবং আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক।


ভিমরুল কতটা বিপজ্জনক

মূলত বৈশিষ্ট্যগত কারণে ভিমরুলের ভয়াবহতা অন্য সব কীটপতঙ্গ থেকে বেশি। এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে আকার-আকৃতি, একাধিকবার কামড়ানোর প্রবণতা, প্রতি কামড়ে নির্গত বিষের তীব্রতা এবং তাতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। চলুন, এই বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা যাক।


ভিমরুল কেন অন্যান্য বিষাক্ত পোকামাকড় থেকেও বিপজ্জনক

প্রায় সময় বোলতার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হলেও ভিমরুল একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি। এরা বোলতার সমগোত্রের; তবে আকারের দিক থেকে এগুলো অপেক্ষাকৃত বড় হয়ে থাকে। এগুলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে আঁকড়ে পড়ে থাকে। নিজেদের আবাস বাঁচানোর ক্ষেত্রে এরা ভয়ংকর রকম রক্ষণাত্মক হয়। যার কারণে যেকোনো পরিস্থিতে হুমকি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে শিকারের প্রতি ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণ চালায়। এতে শিকারের শরীরে বেশ অল্প সময়ের মধ্যেই অসংখ্য হুল ফোটে।

সমগোত্রের অন্যান্য কীটপতঙ্গের হুল ফোটানো বা কামড়ানোর ক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্যগত সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই শুধু প্রাণনাশের হুমকি থাকলেই সেগুলো মরিয়া হয়ে আক্রমণ করে। কিন্তু ভিমরুলে এমন কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। কোনো রকম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই এগুলো একের পর এক হুল ফোটাতে পারে। এমনকি এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমার জন্য অত্যন্ত নগণ্য কারণই যথেষ্ট।

ভিমরুলের কামড়ে বিষের তীব্রতা

যে ধরনের পোকামাকড় হুলের মাধ্যমে বিষ ছড়ায়, সেগুলোর মধ্যে ভিমরুলের বিষের শক্তি সর্বাপেক্ষা বেশি। এগুলোর বিষে অ্যাসিটাইলকোলিনসহ বিষাক্ত কিছু পদার্থের মিশ্রণ থাকে। একটি ভিমরুল কামড়ের ফলে মানুষের দেহে ২ থেকে ৩ মিলিগ্রাম বিষ প্রবেশ করে। সাধারণত মানবদেহের প্রতি কেজি ওজনে ১০ মিলিগ্রাম বিষ ঢুকলে মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। অর্থাৎ ৬০ কেজি ওজনের সুস্থ একজন ব্যক্তির দেহে ৬০০ মিলিগ্রাম বিষ প্রবেশ করলেই তার মৃত্যু হবে। আর বলাই বাহুল্য যে, একটি ভিমরুল শুধু একবার হুল ফুটিয়েই ক্ষান্ত হয় না।


ভিমরুলের কামড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

অ্যাসিটাইলকোলিনসহ বিষাক্ত পদার্থ শরীরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবেই কামড়ের স্থানটি ফুলে গিয়ে লাল বর্ণ ধারণ করে। তারপর ধীরে ধীরে সেখানে চুলকানি বাড়তে থাকে। এভাবে একে একে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, অতঃপর কিডনি বা লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে সারা দেহ ক্রমশ অবনতির দিকে এগোতে থাকে।

যাদের অ্যালার্জি আছে তাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের এই অবনতি আরও দ্রুততর হয়। চিকিৎসা শাস্ত্রে এই অবস্থা অ্যানাফিল্যাক্সিস নামে পরিচিত। এতে শ্বাসনালী ফুলে যেতে পারে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং রক্তচাপ দ্রুত হ্রাস পেতে পারে। অ্যানাফিল্যাক্সিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে।

ভিমরুলের কামড় থেকে নিরাপদ থাকার উপায়

.
ভিমরুলের আবাসস্থলগুলো এড়িয়ে চলা

সাধারণত গাছের ডালে এই পতঙ্গের বসতি বেশি দেখা যায়। এছাড়াও দালানের বাইরের দেওয়ালে সানশেডে, টালি দেওয়া ছাতের ফাঁকে এরা বাসা করে। গ্রীষ্মের শেষের দিকে এবং শরতের প্রথম দিকে এরা সংখ্যায় বেশি থাকে। সেই সঙ্গে এই মৌসুমগুলোতে বেশ সক্রিয়ও থাকে এরা। এই সময়ে বাড়ির আশেপাশে এদের আবাসস্থলের উপস্থিতি টের পেলেই সাবধান হয়ে যাওয়া উচিত।


উজ্জ্বল রঙের পরিধেয় এবং কড়া সুগন্ধি ব্যবহার না করা

ভিমরুল উজ্জ্বল রঙ বিশেষ করে হলুদ রঙ এবং কড়া সুগন্ধির প্রতি আকৃষ্ট হয়। এছাড়া মৌমাছির মতো এরাও অমৃতের জন্য ফুলের দিকে ধাবিত হয়। তাই ঘরের ভেতর বাগান থাকাটাও বিপজ্জনক। উপরন্তু, পারফিউম, কোলোন বা সুগন্ধি লোশনের তীব্র ঘ্রাণ শুঁকে ভিমরুল কাছাকাছি চলে আসতে পারে। ঠিক একই কারণে খাবারের মিষ্টি গন্ধও এদের আকৃষ্ট করে। তাই পরিধানের ক্ষেত্রে সাদা বা হাল্কা রঙ এবং ব্যবহারের জন্য হাল্কা সুগন্ধি বেছে নেওয়া উচিত।


খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখা

মিষ্টি গন্ধ যেন চারপাশ ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য খাবার বা পানীয় ঢেকে রাখা জরুরি। বিশেষ করে বাইরে খোলা আকাশের নিচে ভোজের সময় এই বিষয়টি খেয়াল রাখা দরকার। এক্ষেত্রে সিল করা পাত্র ব্যবহার করা উত্তম। আর খাওয়া শেষে অবশ্যই সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে তার ওপর ঢাকনা লাগিয়ে দিতে হবে। এর জন্য কোনোভাবেই উন্মুক্ত ডাস্টবিন ব্যবহার করা সমীচীন নয়।

প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরিধান করা

বাগান বা পার্কের মতো স্থানে বিচরণের সময় প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরা আবশ্যক। লম্বা হাতার শার্ট, লম্বা প্যান্ট, গ্লাভ্স ও ক্যাপ প্রভৃতির মাধ্যমে শরীরের ত্বক তুলনামূলকভাবে কম উন্মুক্ত হয়।

এগুলো ভিমরুল দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাল্কা ঢিলেঢালা কাপড় বেছে নেওয়া যেতে পারে। এমনকি জুতা পরার ক্ষেত্রেও কেডসের মতো পুরো পা ঢেকে রাখে এমন কিছু জুতাগুলো পড়া উচিত।

প্রাকৃতিক প্রতিরোধক ব্যবহার করা

সিট্রোনেলা, ইউক্যালিপ্টাস ও পেপারমিন্টের তেলগুলোতে ভিমরুল প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো পানির সঙ্গে মিশিয়ে বাড়ির আঙিনা বা বাগানে স্প্রে করা যায়। চিলেকোঠা, স্টোর রুম, বা বাইরের সিঁড়ি ঘরে সিট্রোনেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখলে তা ভিমরুলকে দূরে রাখতে পারে।


বাড়ির আশেপাশে ভিমরুলের বসতি ধ্বংস করা

ভিমরুলের উপদ্রব থেকে বাঁচার সর্বোত্তম পন্থা হলো তাদের সমূলে উৎপাটন করা। এর জন্য বাড়ির আঙ্গিনায় মিষ্টি টোপ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করতে হবে। ফাঁদগুলো জনাকীর্ণ স্থান থেকে যথেষ্ট দূরে রাখা উচিত। অন্যথায় কোলাহলপূর্ণ জায়গায় ফাঁদ পাতা মানে উল্টো মানুষকে কামড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে। এর জন্য বসন্তের প্রথম দিকের মাসগুলোকে বেছে নেওয়া যায়। কারণ এ সময় ভিমরুল সংখ্যা সবেমাত্র বাড়তে শুরু করে।

ভিমরুল কামড়ালে করণীয়

.
দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়া

ভিমরুল কামড়ানোর পর সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণঘাতী পতঙ্গগুলোর কাছ থেকে দূরে সরে পড়তে হবে। অন্যথায় একাধিক কামড় খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া আশেপাশে ভিমরুলের বাসা থাকতে পারে। সেখান থেকে আরও ভিমরুল আক্রমণ চালাতে পারে।

মূলত একবার কামড়ানোর পর ভিমরুলের শরীর থেকে ফেরোমোন নিঃসৃত হয়। এই রাসায়নিক শিকারের ব্যাপারে অন্যান্য ভিমরুলদের জানান দেয়। ফলে তারাও আক্রমণ করতে উদ্দত হয়।


ক্ষত স্থান পরিষ্কার করে তাতে ঠান্ডা কম্প্রেস লাগানো 

সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাবান ও পানি দিয়ে ক্ষত স্থানটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। অতঃপর একটি ঠান্ডা কম্প্রেস বা কয়েকটি বরফ টুকরা একটি কাপড়ে পেঁচিয়ে জায়গাটিতে চেপে ধরতে হবে। এই শীতল পরশ ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করবে, ব্যথা উপশম করবে এবং বিষের বিস্তার রোধে সহায়তা করবে।

ব্যথা উপশমকারী ব্যবহার

তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথা কমানোর জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। যেমন কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল, তুলসি পাতার রস, অ্যালোভেরা জেল, ইউক্যালিপ্টাস তেল প্রভৃতি ক্ষত স্থানে লাগানো যেতে পারে। এগুলোতে থাকা প্রদাহবিরোধী উপাদান ব্যথা, জ্বালাভাব, চুলকানি, ও ফোলা অবস্থা কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়া অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ও বেকিং সোডার মিশ্রিত পেস্ট ব্যবহার করা যায়। ভিনেগারে সাধারণত বিষের অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা থাকে। শুধু ভিনেগার তুলোয় ভিজিয়েও আক্রান্ত স্থানে আলতো করে বুলিয়ে দেওয়া যায়।

ফোলা ভাব ও ব্যথা কমাতে কার্যকর একটি ওষুধ হচ্ছে অ্যান্টিহিস্টামিন বা আইবুপ্রোফেন। তবে ব্যবহারের আগে ঠিক কতটুকু ডোজ ব্যবহার করতে হবে সে ব্যাপারে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।


আক্রান্ত স্থান উঁচু করে রাখা

 হাতে বা পায়ে কামড়ালে বিষ যেন সারা দেহে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ক্ষত স্থানযুক্ত অঙ্গটিকে উঁচু করে ধরতে হবে। এতে আক্রান্ত জায়গাটির অভ্যন্তর ভাগে বিষ জমাট বাঁধার গতি কমে গিয়ে ফুলে যাওয়ার তীব্রতা হ্রাস পায়। একই সঙ্গে উঁচু করে রাখলে অঙ্গটিতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হওয়া 

গুরুতর প্রভাবগুলো সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না। যেমন অ্যানাফিল্যাক্সিসের লক্ষণগুলো কেবল একজন বিশেষজ্ঞই ধরতে পারেন। এ অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে এপিনেফ্রিন অটো-ইনজেক্টর (এপিপেন) ব্যবহারের প্রয়োজন পড়তে পারে।

তাছাড়া অ্যালার্জি না থাকলেও যাদের শরীরে একাধিক হুল ফুটেছে তাদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই অবিলম্বে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য।


পরিশিষ্ট 

ভিমরুলের কামড়ে তীব্র ব্যথা ও ফুলে যাওয়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পর্যায়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই বিষাক্ত পতঙ্গ থেকে নিরাপদে থাকতে এগুলোর আবাসস্থল থেকে দূরে থাকা এবং প্রয়োজনে এগুলোর বাসা ধ্বংস করা জরুরি। উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরিধান বা কড়া সুগন্ধি মাখা ত্যাগ করা এবং খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখা উচিত। কেননা উজ্জ্বল রঙ ও কড়া গন্ধের মাধ্যমে ভিমরুল আকৃষ্ট হয়। ভিমরুল দ্বারা আক্রান্ত হলে কামড়ের স্থানটি পরিষ্কার করা, এবং সর্বাত্মক ভাবে জায়গাটি ঠাণ্ডা রাখা দরকার। এ অবস্থায় নানা রকম স্বাস্থ্য জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে, তাই অনতিবিলম্বে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রদান আবশ্যক।

সকালে নাস্তা করছেন না? ডেকে আনছেন যেসব বিপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সকালের নাস্তা না করলে হয়ত ওজন কমানো সম্ভব— এমনটি ভেবে থাকেন অনেকে। তবে এটি একদমই ভুল ধারণা। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বিপাকক্রিয়ার হার বেশি থাকায় যা খাওয়া হয় সবই সহজে হজম হয়। কিন্তু অনেকে ওজন কমাতে বা অন্য কোনো কারণে সকালে নাস্তা করেন না। ফলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয় শরীরে। এ থেকে ছোট ছোট বিভিন্ন অসুখেরও জন্ম নিয়ে থাকে। 

সকালে নাস্তা না করলে যেসব রোগ হয় তা জেনে নেওয়া যাক-

ওজন বৃদ্ধি: অনাকাঙ্ক্ষিত বেড়ে যাওয়া ওজন যারা কমাতে চান তারা ভুলেও সকালের নাস্তা এড়াবেন না। কেননা, সকালের নাস্তা না করলে ক্ষুধাভাব বাড়বে। সেই সময় সামনে যা পাবেন তাই খাওয়ার ইচ্ছা হবে আপনার। এতে যেমন ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আবার একইভাবে হজমজনিত অসুখও হতে পারে।

চুলের ক্ষতি: প্রতিদিন সকালে নাস্তা না করলে শরীরে ভয়ঙ্করভাবে প্রোটিনের মাত্রা হ্রাস পায়। এতে ক্যারোটিনের মাত্রায় প্রভাব ফেলে। আর ক্যারোটিন নামক এই উপাদান কমে গেলে চুলের বৃদ্ধি কমে যায়। ফলে চুল পড়তে শুরু করে।

মাইগ্রেনের যন্ত্রণা: যাদের মাইগ্রেনজনিত সমস্যা রয়েছে তারা খাওয়ার ব্যাপারে অনেক সংবেদনশীল। তবে দিনের শুরুতে সকালের নাস্তাই যদি না করা হয় তাহলে তা মাইগ্রেনের জন্য আরও ভয়ের কারণ হতে পারে। কারণ, নাস্তা না করলে শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। এতে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং মাইগ্রেনের যন্ত্রণাও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হৃদরোগ: স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে সকালের নাস্তা করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। সেদিক থেকে নাস্তা না করলে হাইপার টেনশন, ওবেসিটি, হাই ব্লাড সুগার ও হাই কোলেস্টেরলে প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আর এ থেকে হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়: নিয়মিত সকালের নাস্তা না করলে দিনের বাকি অংশে অতিরিক্ত ক্যালোরির ওপর চাপ পড়ে। এতে দিনের বাকি অংশে প্রয়োজনের থেকে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। যে কারণে ওজন বৃদ্ধি বা স্থূলতার দিকে ধাবিত করে। আর স্থূলতা শরীরকে গুরুতর অসুস্থতার উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রাখে। আর ক্যানসার এই ধরনের একটি ঝুঁকি। এ জন্য ক্যানসারকে দূরে রাখার জন্য নিয়মিত সকালের নাস্তা করা উচিত।

কাঁচা রস বিক্রি বন্ধের অনুরোধ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদক: খেজুরের রসে মারাত্মক প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকায় খেজুরের রস বিক্রেতাদের কাঁচা রস বিক্রি বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জরুরি এক স্বাস্থ্য বার্তায় অধিদপ্তর জানায়, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি। ২০২২-২৩ সালে দেশে এই রোগে আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনই মৃত্যুবরণ করেন। তাই প্রতিরোধই হচ্ছে এই রোগ থেকে বাঁচার উপায়।

১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম) ডা. শ. ম. গোলাম কায়ছার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নিপাহ একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ। সাধারণত শীতকালে নিপাহ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কাঁচা খেজুরের রসে বাদুড়ের বিষ্ঠা বা লালা মিশ্রিত হয় এবং ওই বিষ্ঠা বা লালাতে নিপাহ ভাইরাসের জীবাণু থাকে। ফলে খেজুরের কাঁচা রস পান করলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে যে কেউ।

স্বাস্থ্য বার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরেরা নিপাহ ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই খেজুরের কাঁচা রস সংগ্রহ, বিক্রয় ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গাছিকে এবং জনসাধারনগণকে প্রাণিবাহিত সংক্রামক ব্যাধি রোগ নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে অবহিত করা হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তবে খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় খেতে কোনো বাধা নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নিপাহ রোগের প্রধান লক্ষণ সমূহ- ১. জ্বরসহ মাথা ব্যাথা ২. খিচুনি ৩. প্রলাপ বকা ৪. অজ্ঞান হওয়া ৫. কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট হওয়া

নিপাহ রোগ প্রতিরোধে করণীয়- খেজুরের কাঁচা রস খাবেন না।  কোনো ধরনের আংশিক খাওয়া ফল খাবেন না ।ফল-মূল পরিস্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাবেন । নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে অতি দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পর সাবান ও পানি দিয়ে দুই হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলবেন

প্রসঙ্গত, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি। ২০২২-২৩ সালে দেশে এ রোগে আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনই মৃত্যুবরণ করেন। অধিদপ্তর জানায়, প্রতিরোধই হচ্ছে এই রোগ থেকে বাঁচার উপায়। খেজুরের রস বিক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ কেউ কাঁচা রস খেতে চাইলে বিক্রি করবেন না।

স্বাস্থ্যের যন্ত্রপাতিও জলবায়ুবান্ধব হওয়া উচিত : জাহিদ মালেক

নিজস্ব প্রতিবেদক:  জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যখাত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সেক্টরে আমরা নানা রকম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করি, এইসব যন্ত্রপাতিও জলবায়ুবান্ধব হওয়া উচিত। তা না হলে চিকিৎসা সেবায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন-২০২৩ (কপ ২৮) এর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এটিএসিএইচ কর্তৃক আয়োজিত ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ: সাপ্লাই চেইন’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বিগত দশকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন এবং জলবায়ুবান্ধব যন্ত্রপাতি কেনা, সাপ্লাই এবং ব্যবহারের কথা বলে জলবায়ুবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিনির্মাণে বিজ্ঞানসম্মত এবং যেসব যন্ত্রপাতি জলবায়ুর ক্ষতি করে না সেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন।

তিনি ডব্লিউএইচও এবং এটিএসিএইচকে জলবায়ুবান্ধব যন্ত্রপাতি সাপ্লাই এবং হাসপাতাল বিনির্মাণে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবর্তন বিশেষ করে লবণাক্ত বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এর ফলে নানা ধরনের রোগ বৃদ্ধি হওয়ার কথা বর্ণনা করেন তিনি। বিশেষ করে অসংক্রামক রোগ এবং মহিলা ও নারীদের নানা স্বাস্থ্য সমস্যা হচ্ছে তার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ এবং পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী উন্নয়ন সহযোগীদের জলবায়ুবান্ধব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিনির্মাণে আর্থিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

পরে বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত 'স্যালিনিটি কিউসড বাই ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ইটস ইম্পেক্ট অন এনসিডিএস অ্যান্ড এসআরএইচআর' শীর্ষক সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির। তিনি তার উপস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তন বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা এবং এর প্রভাবে এসব এলাকায় অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করেন। এছাড়া এর প্রভাবে গর্ভবতী মায়েদের নানা রকম সমস্যা হয় যার কারণে কোস্টাল এলাকায় মাতৃমৃত্যু বেড়ে যায় বলে জানান।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব জাহাঙ্গীর আলম তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জসমূহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

উপকূলীয় এলাকায় অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে এবং এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।

এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন— ডেনিয়েল নোভাক, ফার্স্ট সেক্রেটারি, সুইডেন অ্যাম্বাসি, ঢাকা, বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে ছিলেন মিস খুশবু পাওডেল, প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর, আইপাস, নেপাল, এবং ডা. হুসাইন রশিদ, আঞ্চলিক উপদেষ্টা, ওয়াশ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সচিব স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আহমেদুল কবির, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মামুনুর রশিদ প্রমুখ।

একদিনে ৬৮২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত, ঢাকার বাইরে ৫৪৭


নিজস্ব প্রতিবেদক: রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে এই সময়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৬৮২ জন রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩৫ জন আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪৭ জন।

৪ ডিসেম্বর সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৬৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৭৮৮ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৯০১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৮৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ৮ হাজার ৪০৪ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার ৯৮৪ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ লাখ ১০ হাজার ৬৫ জন। ঢাকায় ১ লাখ ৬ হাজার ৬৭১ এবং ঢাকার বাইরে ২ লাখ ৩ হাজার ৩৯৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৬৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় কাঁচা ছোলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছোলায় ভিটামিন, ফাইবার, প্রোটিন – তিনটিই থাকে। ছোলাতে ফ্যাটের পরিমাণ খুব কম। তাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বেশ উপকারী এটি। তবে সকালে খালি পেটে ভেজানো কাঁচা ছোলা খেলে কী হয় জানেন?

ভেজানো ছোলায় রয়েছে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফাইবার। যা হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং শরীরে শর্করার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে। খালি পেটে কাঁচা ছোলা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রাও কমায় এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

প্রোটিন, ফাইবারে পরিপূর্ণ ছোলা! এতে ক্যালোরিও খুব কম। ছোলায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম থাকে। ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। ফলে বেশি খেতে ইচ্ছে করে না! ওজন কমাতে সাহায্য করে!
ঝকঝকে চুল পেতে চাইলে রোজ ভেজানো ছোলা খান। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৬, জিঙ্ক এবং ম্যাঙ্গানিজ। এই সব উপাদানই চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ছোলায় রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো খনিজ। যা উচ্চ রক্তচাপ এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে হার্ট সুস্থ থাকে। এ ছাড়াও ছোলায় আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কোলন যা সত্ন ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি একেবারে কমায়।

আয়রন সমৃদ্ধ কাঁচা ছোলা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করতে সাহায্য করে। যারা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন, তাদের জন্য খুব উপকারী কাঁচা ছোলা।

বলিরেখা, ফাইন লাইনস কমাতে রোজ কাঁচা ছোলা খান। এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা বার্ধক্য রোধ করতে সাহায্য করে।

দাঁতের ব‍্যথা থেকে মুক্তি দেবে রসুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঋতু পরিবর্তনের সময়ে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। তবে রান্নাঘরের একটি মশলাই হয়ে উঠতে পারে ঠান্ডাসহ হরেক সমস‍্যার সমাধান।

প্রত‍্যেক রান্নাঘরেই মজুদ থাকে রসুন। এই একটি মশলার প্রচুর গুণ। চিকিৎসকের মতে, কেবলমাত্র সর্দি কাশিতেই নয়, দাঁতের ব‍্যথার সমস‍্যায়ও এটি বিশেষ উপকারী। শুধু তাই নয়, হার্টের জন‍্যও অত‍্যন্ত উপকারী রসুন।

রসুন শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো করে। দেহের টক্সিন দূর করতেও রসুনের ভূমিকা রয়েছে। রসুন ওজন কমাতেও সহায়ক। তবে কাঁচা রসুন অনেকেই খেতে পারেন না। কারণ এর তীব্র গন্ধ। তবে এই গন্ধের মোকাবিলা করতে চাইলে রসুনকে শুকনো খোলায় ভেজে নিতে পারেন। এতে রসুনের তীব্র গন্ধ অনেকটাই চলে যাবে।

এ ছাড়া রসুনে প্রোটিন, চর্বি, কার্বোহাইড্রেট, আয়রন পাওয়া গেলেও এর পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ, বি, সি এবং সালফিউরিক অ্যাসিড রয়েছে।

যেসব কারণে শীতে ওজন বাড়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শীতের শুরুতেই এই বিষয়টি সাবধান না করলে পরে বিপদে পড়তে পারেন যে কেউ। শীতকালে ওজন বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে প্রতিটি মানুষের গড়ে প্রায় দেড় কেজি পর্যন্ত ওজন বাড়ে। ফলে শুরুতেই এ নিয়ে সাবধান হতে হবে। এর পাশাপাশি শীতকালে মেদ ঝরানো ও ওজন কমানো যেন একটা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। জেনে নিন কেন শীতকালে বাড়তে পারে ওজন।

শীতকালে লেপ বা কম্বলের তলায় বই পড়ে অনেকেই সময় কাটাতে ভালোবাসি। অনেকে ঠান্ডার কারণে হাঁটা ও জগিং ছেড়ে দেন। এতে খাবার খাওয়ার মাধ্যমে শরীরে যে ক্যালোরি যোগ হয় তা ক্ষয় হয় না। ফলে তা ফ্যাট আকারে শরীরে জমা হতে থাকে। সবচেয়ে ভালো হয় আপনি একজন ওয়ার্কআউট পার্টনার খুঁজে বের করুন। এতে হাঁটা বা জগিংয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। ফলে ওজন কমবে।
দিন ছোট-রাত বড়

গরমকালে দিন বড় হয়। বেশিক্ষণ সূর্যের আলো থাকায় আমরা বেশি সময় সক্রিয় থাকি। শীতকালে দিন ছোট হয়। ফলে তাড়াতাড়ি কাজকর্ম শেষ করে লেপের তলায় ঢুকে পড়ি। ফলে শীতে পরিশ্রম কম হয়।

গরমকালে আমরা টাটকা সবজি ও তাজা ফল অনেক বেশি খাই। শীতকালে আমাদের গরম খাবার খেতে বেশি ইচ্ছা করে। হট চকোলেট, হট পিৎজা ও বারবার চা-কফি আমাদের ভালো লাগে। সঙ্গে তেল-মশলাদার খাবারের প্রতিও ঝোঁক বাড়ে। ফলে শীতকালে ওজন কমানো কিছুটা কঠিন হয়ে ওঠে।

শীতকালে হাইড্রেট থাকাই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময় শরীর সুস্থ রাখতে দিনে ২ থেকে ৩ লিটার জল পান করুন। কারণ জলের অভাবে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। আর ডিহাইড্রেশনের ফলে শরীর দুর্বল অনুভব হয় ও খিদে বাড়ে। যার প্রভাব পড়ে ওজনে।

সূর্যের আলোর অভাবে বেশিরভাগ মানুষ সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডারে ভোগেন। এর ফলে মানুষ অনেক বেশি সময় মন ভালো রাখতে খাবার খান। গরমকালে আমাদের মুড ভালো থাকে। যা মস্তিষ্কে হ্যাপি সিরোটোনিন বা হ্যাপি হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে। যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। শীতে আবহাওয়ার কারণে মুড অফ থাকায় সিরোটোনিনের ক্ষরণ কমে। আমরাও মুড ভালো করতে বেশি খাই। ফলে ওজন বাড়ে।

ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে যেসব কারণে

নিজস্ব প্রতিবেদক: যেকোনো বয়সে যে কারোরই ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। এক টানা বেশিক্ষণ ল্যাপটপে কাজ বা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল দেখাও এ ব্যথার কারণ হতে পারে। ভারী জিনিস তোলার সময়ে অসাবধানতায় ঘাড়ে চোট পেলেও ব্যথা হতে পারে। প্রথম অবস্থায় অগ্রাহ্য করলে ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই ফেলে না রেখে ঘাড়ে ব্যথা কেন হচ্ছে, আগে তার উৎস খুঁজে বার করা প্রয়োজন। 

হঠাৎ করে একদিনে বাড়ির সমস্ত কাজ করলেও ঘাড়ের পেশির ওপর চাপ পড়তে পারে। বিরতি না নিয়ে একটানা অনেক ক্ষণ গাড়ি চালালেও কিন্তু ঘাড়ের পেশির উপর চাপ পড়ে। 

যোগাসন, জিমে গিয়ে ভুল শরীরচর্চা কিংবা শোয়ার ভুলেও ঘাড়ে চোট লাগতে পারে। যা থেকে ঘাড়ের ব্যথা দীর্ঘায়িত হয়। দীর্ঘ দিন একই ভাবে কাঁধে ভারী ব্যাগের বোঝা নিলেও কিন্তু ঘাড়ের পেশিতে চোট লাগতে পারে।

এবড়ো খেবড়ো রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে হঠাৎ ঝাঁকুনিতে বা দুর্ঘটনায় ঘাড়ে চোট লেগে থাকলে, সেই ব্যথাই ঘুরে ফিরে আসতে পারে বার বার। সেই দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

বাতের নাম শুনলে প্রথম হাঁটু, কোমরের কথাই মাথায় আসে। তবে ঘাড়ের ভার্টিব্রাল অস্থিসন্ধিতেও কিন্তু আর্থ্রাইটিস হতে পারে। সে ক্ষেত্রেও ঘাড়ে কষ্ট হয়।

মানসিক চাপের সঙ্গে মাথা এবং ঘাড়ের সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, উদ্বেগ, মানসিক চাপ, অবসাদের মতো ঘটনাও কিন্তু ঘাড়ের পেশির উপর চাপ ফেলে। রক্তচাপ বেড়ে গেলেও কাঁধে, ঘাড়ে কষ্ট হতে পারে। তাই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে ঘাড়ের যন্ত্রণা দীর্ঘায়িত হয়।

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত আরও ৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ হাজার ৫৯৮ জন মারা গেলেন।

২৬ নভেম্বর রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ নভেম্বর  শনিবার সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৯৭১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ২১৭ এবং ঢাকার বাইরে ভর্তি আছেন ৭৫৪ জন।বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩ হাজার ৫৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৯ জন। ঢাকার বাইরে ২ লাখ ১ হাজার ৮৮ জন। চলতি বছর ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ লাখ ২ হাজার ৯৭৪ জন।দেশে গত ১৫ নভেম্বর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৪ জন মারা গেছেন, যা একদিনে এ বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একদিনে ২১ জন মারা যান, যা ডেঙ্গুতে এ বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। তারও আগে গত ২ সেপ্টেম্বরও ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সুপার স্পেশাইলাইজড হাসপাতালে অ্যান্ডোস্কপি চালু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীন সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধীনে অ্যান্ডোস্কপি মেশিন চালু করা হয়েছে। 

বুধবার অ্যান্ডোস্কপি মেশিনের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

উদ্বোধন শেষে উপাচার্য বলেন, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি স্বপ্নের প্রকল্প। হাসপাতালটিতে ধীরে ধীরে সব কয়টি সেবা চালু করা হচ্ছে। এ হাসপাতালটির মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা। সব কয়টি সেবা চালু করা গেলে রোগীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমানো যাবে। এতে করে দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে। এখানে সব ধরনের ট্রান্সপ্লান্ট করা সম্ভব। আমরা ইতোমধ্যে সপ্তাহে দুটি করে কিডনি প্রতিস্থাপন করছি।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে প্রথম অ্যান্ডোস্কপি সম্পন্ন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. চঞ্চল কুমার ঘোষ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, সুপার স্পেশালাইডজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. ডা. মো. আব্দুল্লাহ্-আল হারুন, সুপার স্পেশালাইজড হাসাপতাল ফেস-২ এর প্রকল্প পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. এসএম ইয়ার-ই-মাহাবুবসহ ইআরডির কর্মকর্তারা।

বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার, ঘোষণা হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে বলেছেন, বাংলাদেশ নামক এ রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। প্রত্যেক নাগরিককে তার সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার প্রদানের নিমিত্তে আমরা ঘোষণা করছি যে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের বিনামূল্যে সকল প্রকার চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। তেমনি বিনামূল্যে ভেজালমুক্ত তথা নির্ভেজাল ওষুধ পাওয়াও প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

ভেজাল প্যারাসিটামল সেবন করে মৃত্যুর ঘটনায় ১০৪ শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের রায়ে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ঘোষণা দেন। ৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় আজ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত রায়ের অনুলিপি হাতে এসেছে।

রায়ে আদালত বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও অবকাঠামো প্রশংসনীয় স্তরে উন্নীত হয়েছে। আমাদের ওষুধ শিল্প দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশ থেকে ওষুধ নিয়মিত আমদানি করছে। অনেক প্রতিবেশী দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়ালেখা করতে আসছে। তা সত্ত্বেও আমাদের দেশের বর্তমান বাস্তব অবস্থা এমন যে, উন্নত ও সু-চিকিৎসা কেবলমাত্র ধনী এবং উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমিত। মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তসহ দেশের আপামর সাধারণ জনগণ বলতে গেলে উন্নত চিকিৎসা ও সু-চিকিৎসা হতে বঞ্চিত। তারা কেবল নামেমাত্র সামান্য চিকিৎসা পায়।

হাইকোর্ট বলেন, দেশের আপামর জনসাধারণের করের টাকায় সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তিসহ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিদেশে হরহামেশা উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। এমনকি বাংলাদেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের উচ্চপর্যায়ের নেতা ও নেত্রীদেরও আমরা দেখি হরহামেশা বিদেশে চিকিৎসার জন্য গমন করতে। কিন্তু সাধারণ জনগণের বিদেশে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের ন্যূনতম সুযোগ নেই। অর্থাৎ যে জনগণের টাকায় উপরোল্লিখিত ব্যক্তিরা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য গমন করেন সেই জনগণের কিন্তু বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, যারা সংবিধান মোতাবেক এ দেশটির মালিক, তারা কিন্তু বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে চান না। তারা চান দেশে বিদেশের মতো উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থাকুক সকলের জন্য। 

সংবিধানের রেফারেন্স দিয়ে হাইকোর্ট রায়ে বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ক) অনুযায়ী নাগরিকদের জীবন ধারণের অন্যতম মৌলিক উপকরণ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ঘ) অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিককে তার অন্যতম সামাজিক অধিকার ব্যাধি তথা রোগ থেকে আরোগ্য লাভের নিমিত্তে সকল প্রকার সরকারি সাহায্য প্রদান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ মোতাবেক রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি হলো “জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধন” এবং রাষ্ট্র এটিকে অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে গণ্য করবে।

সাংবিধানিকভাবে প্রত্যেক ব্যক্তির জীবন তথা বেঁচে থাকার অধিকার সংরক্ষিত। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এ বলা হয়েছে যে, আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন হতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তিকে তার বেঁচে থাকার অধিকার হতে বঞ্চিত করা যায় না। অপর কথায় বেঁচে থাকার অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। বিনামূল্যে সকল প্রকার চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া না গেলে ব্যক্তি তার জীবন তথা বেঁচে থাকার অধিকার হতে বঞ্চিত হতে বাধ্য। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির বিনামূল্যে সকল প্রকার চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া তার সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার তথা বেঁচে থাকার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ মোতাবেক প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। অর্থাৎ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মালিক এ দেশের প্রতিটি নাগরিক। 

রায়ে আদালত বলেন, বিনামূল্যে সকল প্রকার চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়ায় নাগরিকের জীবন তথা বেঁচে থাকার অধিকার আজ হুমকির সম্মুখীন। বাংলাদেশ নামক এ রাষ্ট্রের মালিক জনগণ তথা প্রত্যেক নাগরিককে তার সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার প্রদানের নিমিত্তে আমরা ঘোষণা করছি যে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের বিনামূল্যে সকল প্রকার চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া তার সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। তেমনি বিনামূল্যে ভেজালমুক্ত তথা নির্ভেজাল ওষুধ পাওয়াও প্রতিটি নাগরিকের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার।

কমিউনিটি ক্লিনিকে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে কার্যকরী ও ব্যয়-সাশ্রয়ী পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে অ্যাডভোকেসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত ‘উচ্চ রক্তচাপজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ কথা জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোয় উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের সব জনগোষ্ঠীকে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টের সহ-সভাপতি ডা. মাখদুমা নার্গিস বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত নিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধের তালিকায় উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত লোকবল নিশ্চিত এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিয়লজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান বলেন, সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। রোগীদের ওষুধের পাশাপাশি মোটিভেশন দিতে হবে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে এ সঙ্কট থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব।

ওয়েবিনার থেকে আরও জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৩০ ভাগই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পায় না। এছাড়া প্রায় ২০০ কোটি মানুষ ভয়াবহ স্বাস্থ্য ব্যয়ের মুখোমুখি হয়। তবে তথ্য-উপাত্ত বলছে এক্ষেত্রে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার (পিএইচসি) ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকরী এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।

ওয়েবিনারে আরও আলোচনা করেন, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের হাইপারটেনশন কন্ট্রোল প্রোগ্রামের ম্যানেজার ডা. শামীম জুবায়ের ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক জনাব এবিএম জুবায়ের।

ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রজ্ঞার কোঅরডিনেটর সাদিয়া গালিবা প্রভা। এ আয়োজনে সহযোগিতা করেছে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)।

দেশে এক বছরে স্ট্রোকে মৃত্যু বেড়ে দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে অসংক্রামক রোগের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশে এক বছরে স্ট্রোকে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, দেশে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ২০১৯ সালে মারা গিয়েছিলেন ৪৫ হাজার ৫০২ জন। ২০২০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ৮৫ হাজার ৩৬০ জনে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার ঘাটতি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য সেবনের প্রবণতা, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনসহ নানা কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে মৃত্যুও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে আজ ২৯ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বে অসংক্রামক ব্যাধির মধ্যে হৃদ্‌রোগের পরেই স্ট্রোকের অবস্থান। এ ছাড়া পঙ্গুত্ব বা শারীরিক অক্ষমতার জন্য স্ট্রোককেই বেশি দায়ী করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, স্ট্রোক দুই ধরনের। এক, রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং দুই, রক্তনালি ফেটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। স্ট্রোকের লক্ষণগুলো হলো শরীরের ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হঠাৎ করে চোখে কম দেখা, মাথা ঘোরানো, অচেতন হয়ে পড়া, শরীরের এক দিক অবশ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বে বছরে দেড় কোটি মানুষ স্ট্রোকজনিত সমস্যায় ভোগে। এর মধ্যে স্ট্রোকে মৃত্যু হয় প্রায় ৫০ লাখের। বাকিদের স্ট্রোকের কারণে পক্ষাঘাতজনিত সমস্যা বরণ করে নিতে হয়। এই রোগীরা পরিবারের বোঝা হয়ে যান। চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে শিশুদেরও স্ট্রোক হতে পারে।

দেশে স্ট্রোকের রোগী বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক মো. বদরুল আলম বলেন, মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। বয়স বাড়লে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। সে হিসেবে মৃত্যুও বাড়বে। এ ছাড়া ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি বেশি থাকা, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য গ্রহণ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। দেশে এসব গ্রহণের হার বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের প্রবণতা। করোনার সময়ে অনেকেই দুশ্চিন্তা ও নানা মানসিক চাপে ছিল। স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির এটিও একটি কারণ। সে কারণেও ২০২০ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল ২০১৮ সালে স্ট্রোক নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে। দেশের ৬৪টি জেলার ২৫ হাজার ২৮৭ মানুষের ওপর করা ওই জরিপের ফলাফলে বলা হয়, দেশে এখন প্রতি হাজারে ১১ দশমিক ৩৯ জন মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ স্ট্রোকের রোগী আছে। ৬০ বছরের বেশি মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি ৭ গুণ বেশি। নারীর চেয়ে পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ। স্ট্রোকের প্রকোপ শহরের চেয়ে গ্রামে কিছুটা বেশি।

ময়মনসিংহে স্ট্রোকের রোগী বেশি

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের গবেষণায় বলা হয়, অন্যান্য বিভাগের তুলনায় ময়মনসিংহ বিভাগে স্ট্রোকের রোগী বেশি। এ বিভাগে প্রতি হাজারে ১৪ দশমিক ৭১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত। সবচেয়ে কম রাজশাহী বিভাগে, ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন এখানে ২০ থেকে ২৫ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। এ হাসপাতালে মাসে ৬০০ জনের বেশি স্ট্রোকের রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহ বিভাগে রোগী বেশি থাকার বিষয়ে অধ্যাপক মো. বদরুল আলম বলেন, গবেষণায় এই কারণ খোঁজা হয়নি। তবে ধারণা করা হয়, এই অঞ্চলে গ্রামের মানুষের মধ্যে তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া অনেকে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়েও সচেতন নন।

সচেতনতার অভাব ও ধূমপানের কারণের কথা বললেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও। এ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের প্রধান মানবেন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। দারিদ্র্যের হারও বেশি। এদিকে শিক্ষার হার তুলনামূলক কম। ফলে সচেতনতার অভাব রয়েছে। স্ট্রোক হওয়ার পর রোগী জানতে পারেন যে আগে থেকেই তিনি ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। এ ছাড়া ধূমপানও একটি কারণ।

হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান হারুন উর রশিদ বলেন, ভর্তি রোগীদের অধিকাংশই প্রবীণ। তাঁদের অনেকেই শারীরিক সমস্যা অনুভব করলেও নিয়মিত চিকিৎসা নেন না। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন না।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জাহিদ মালেক।ফাইল ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রতিদিনই দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২১ জুলাই দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই অবস্থায় সবাইকে পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি।

তিনি বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। ধর্মীয় একটা বিষয় থাকে। জীবন-জীবিকার একটা বিষয় রয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই (লকডাউন শিথিল) নির্দেশনা দিয়েছেন। আশা করি, ঈদের এই কয়েকটা দিন আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব।

শনিবার  দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমের লেখা সার্জারি বিষয়ক ‘খুরশীদস ডিকোডিং সার্জারি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ১৫ হাজার শয্যা রয়েছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে এরই মধ্যে এসব শয্যা রোগীতে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। ঈদের এই কয়েকটা দিনের মধ্যে আশা করব, যাতে সংক্রমণটা বৃদ্ধি না পায়। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মনে ঢাকায় ফিরবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে হাসপাতালের শয্যা প্রায় শেষ হয়ে আসছে। সেবা দিতে দিতে চিকিৎসকরাও ক্লান্ত। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন নির্দেশনা দিচ্ছেন। তার নির্দেশনায় নতুন আরও চার হাজার চিকিৎসক নিয়োগ হচ্ছে। চার হাজার নার্স নিয়োগ হচ্ছে।

তবে আমার যতই নিয়োগ দেই না কেনো, সংক্রমণে হার তিন-চারগুণ বেড়ে যায়। যদি ১০ থেকে ১৫ হাজার শয্যার পরিবর্তে ৪০ হাজার রোগী হয়, তখন সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না। কাজেই সমালোচনা যাই করেন, বাস্তবতা এটাই।

তিনি বলেন, অনেকেই আমাদের অনেকভাবে সমালোচনা করেন। কিন্তু চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে হাসপাতালে। যারা সমালোচক তারা হাসপাতালে এসে চিকিৎসা দিচ্ছে না। সমালোচনা না করে কীভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়ে কাজ করা উচিত।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচিব আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের সার্জানরা অংশ নেন।

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

টিকার বয়সসীমা ১৮ করার কথা ভাবা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাহিদ মালেক।ফাইল ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনার টিকা দেওয়ার বয়সসীমা ১৮ বছর করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা আছে। আর করোনা–বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এ ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীন থেকে সম্প্রতি ২০ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। ওই দেশ থেকে আরও দেড় কোটি টিকা আসবে। চীনের এই টিকার পাশাপাশি কোভ্যাক্স থেকে চলতি মাসেই অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও মডার্নার টিকা আসবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৮ বছরের ঊর্ধ্বের বয়সীদের টিকা দেওয়ার যুক্তি হলো আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে চাই। শিক্ষকদের আমি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

জাহিদ মালেক আরও বলেন,শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি বছর নষ্ট হয়েছে। তারা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। এটি দেশের জন্য, জাতির জন্য ঝুঁকি হয়ে যাবে। সে জন্য এই বয়সীদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা হাতে নিয়েছি।

গ্রামের লোকের টিকার নিবন্ধন করতে অসুবিধা হয়। এ জন্য তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে টিকা নেওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়ার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি পরে চালু করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে তিন কোটি ডোজ টিকা সংরক্ষণের সক্ষমতা আছে। আরও টিকা রাখার বন্দোবস্ত করার জন্য চেষ্টা চলছে। টিকা কার্যক্রম ভালোভাবে চালু হয়ে গেছে। দেড় বছর যাবৎ স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। নার্স ও চিকিৎসকেরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। অনেকে মারা যাচ্ছেন।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘এই করোনার মধ্যেও আমরা ৫০ হাজার লোক নিয়োগ দিয়েছি। চার হাজার নার্স ও দুই হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হবে।

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

১৪ দিনের মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে না এলে শয্যার সংকট হতে পারে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

করোনা রুগি ফাইল ছবি।
নিজস্বপ্রতিবেদন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি যদি আগামী ২ সপ্তাহে নিয়ন্ত্রণে না আসে এবং বর্তমান অবস্থা চলতে থাকে তাহলে পরিস্থিতি করুণ হয়ে যাবে। হাসপাতালে শয্যার সংকট দেখা দিতে পারে। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন এ কথা বলেন।

রোবেদ আমিন বলেন, বছরের ২৬ সপ্তাহের তুলনায় ২৭তম সপ্তাহে করোনা রোগী শনাক্তের হার ৩১ শতাংশে বেড়েছে। এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী কয়েক দিনে দৈনিক শনাক্ত ১৪ বা ১৫ হাজার হওয়ার আশঙ্কা আছে।

তিনি আরও বলেন, ২৭ সপ্তাহে অর্থাৎ ৪-১০ জুলাইয়ের মধ্যে মৃত্যু অনেক বেড়েছে। এ সময় মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৭৭ জনের। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি। এদের বেশির ভাগেরই কমরবিডিটি (ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগ) ছিল। এ ছাড়া ৩১-৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃতের হার ৫ শতাংশ। ডেল্টা ভেরিয়েন্টের কারণে সংক্রমণ ও মৃতের হার বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস 

আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ১ কোটির বেশি টিকা আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদন:  আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ১ কোটি ১০ লাখ টিকা আসবে। সব মিলিয়ে আগামী দেড় মাসের মধ্যে প্রায় পৌনে দুই কোটি বা আরও বেশি টিকা আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিকার সংকট হয়েছিল, তা আমরা কাটিয়ে উঠছি। আমরা ইতিমধ্যে ৪৫ লাখ টিকা পেয়েছি। শুনে আনন্দিত হবেন, গতকালই চিঠি পেয়েছি আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছ থেকে, আমরা আরও ৬০ লাখ ফাইজারের টিকা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পাব। আমরা চীন থেকেও আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ৫০ লাখ টিকা পাব। আগস্টের মধ্যেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও ১০ লাখ বা তার অধিক আমরা পেয়ে যাব। অর্থাৎ, আগামী দেড় মাসের মধ্যে প্রায় পৌনে দুই কোটি টিকা থাকবে। তার থেকেও বেশি থাকতে পারে। কারণ, আগস্ট মাসে এর বাইরে আরও কিছু টিকা আশা করি।’

হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘শুধু বেড বাড়ালেই চলবে না; জনবলও বাড়ানো লাগবে। বেড বাড়ানোরও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা তো পুরো দেশকে হাসপাতাল বানাতে পারব না। আপনাদের সেটা বুঝতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনে চার হাজার নতুন ডাক্তার এবং চার হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। করোনার সময়ে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার নতুন লোক কাজ করছেন।

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

অক্সিজেন সংকট নিয়ে সতর্ক স্বাস্থ্য অধিদফতর

নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লেই দেখা দিতে পারে অক্সিজেন সংকট। তাই যেকোনো সংকটাপন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকেই অক্সিজেন নিয়ে ভাবছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরইমধ্যে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে। তবে সংকট এড়াতে করোনার বিস্তার কমিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সোমবার দুপুরে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত করোনা বুলেটিনে অধিদফতরের মুখপাত্র ও জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন হয় এটা দিয়ে এখনও অক্সিজেনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। তবে করোনাভাইরাসে রোগী বেড়ে গেলে অক্সিজেন সংকট দেখা দিতে পারে।

রোবেদ আমিন বলেন, প্রতিবেশী ভারতে করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ার পরিস্থিতির মধ্যে দেশটিতে অক্সিজেন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে অনেক রোগী। দেশে এমন পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় সরকার আগে থেকেই সর্তক অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমানে সময়ে অক্সিজেনের চাহিদা কেমন এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি আরও বলেন, সারাদেশে অক্সিজেনের চাহিদা ১২০ থেকে ১৫০ টনের মতো। তবে সংক্রমণ বাড়লে অক্সিজেনের চাহিদা বাড়বে। অক্সিজেনের চাহিদা আমরা দেখেছি এপ্রিল মাসে যখন সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছিল তখন দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ১৯০ টন। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র বলেন, আমাদের দেশে যেসব অক্সিজেনের প্ল্যান্টগুলো রয়েছে, সেগুলো যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত। অক্সিজেন উৎপাদন ও সরবরাহকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লিনডে ও ইসলাম অক্সিজেন মেডিকেলে অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। এদের থেকে নিয়েই আমাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। তবে সংক্রমণের চাহিদা বাড়ার কারণে এছাড়া অন্যান্য কোম্পানি যারা শিল্প-কারখানার জন্য অক্সিজেন তৈরি করে তাদের কাছেও আমরা যোগাযোগ করছি।

তিনি আরও বলেন, আবুল খায়ের গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ইস্পাত কোম্পানিও শিল্প-কারখানার জন্য অক্সিজেন উৎপাদন করে থাকে। তাদের সঙ্গেও স্বাস্থ্য অধিদফতর যোগাযোগ করছে। আমাদের মহাপরিচালকের নিজস্ব উদ্যোগের কারণে আবুল খায়ের গ্রুপ এগিয়ে আসছে। করোনা সংক্রমণ বাড়লে তাদের অক্সিজেন দিয়েই দেশের অক্সিজেনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

সংক্রমণ বাড়তে থাকলে হাসপাতালে শয্যাও পাওয়া যাবে না

সারাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে বাড়তে শুরু করেছে, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই করোনা হাসপাতালগুলোতে সাধারণ শয্যাও পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, গত এক মাসের তুলনায় সংক্রমণের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালগুলোতে আবারও করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভিড় আমরা দেখতে পাচ্ছি।

রোবেদ আমিন বলেন, হাসপাতালগুলোতে দ্রুতই শয্যা সংখ্যা পূরণ হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতালের আইসিইউ পূরণ হয়ে গেছে। বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউও পূরণ হয়ে যাচ্ছে। মাত্র ২৮১টি শয্যা খালি রয়েছে। গত মাসের তুলনায় প্রায় ৫০ ভাগ শয্যাই পূরণ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর যেসব জায়গাতেই সংক্রমণ বেশি, সেগুলোতেই মৃত্যু বেশি।

 তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন