শ্রমিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শ্রমিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঈশ্বরদী ইপিজেডে শ্রমিক বিক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিবেদক: যাতায়াত ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঈশ্বরদী ইপিজেডে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ইপিজেডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ইপিজেডের ভেতরে সব ধরনের প্রবেশ ও কাজ বন্ধ থাকে।

জানা গেছে, সম্প্রতি শ্রমিকদের যাতায়াত ভাড়া হঠাৎ বাড়ানো হলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। ভাড়া কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ সকাল থেকে শ্রমিকেরা প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে ভেতরে ও বাইরে পণ্যবাহী যানবাহনসহ কর্মীদের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফটকের বাইরে অবস্থান নেন কয়েক হাজার শ্রমিক।

ঘটনার খবর পেয়ে বেপজা কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সেখানে পৌঁছান। পরে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেপজা কর্তৃপক্ষের একটি জরুরি বৈঠক হয়। আলোচনায় শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয় কর্তৃপক্ষ।

ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদের কিছু দাবি ও ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সাময়িক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাঁদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং উৎপাদন কার্যক্রম যথারীতি চলছে।’

ঈশ্বরদী ইপিজেডে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়া অঞ্চলে (ইপিজেড) এলিগ্যান্ট স্পিনিং অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড নামের একটি কারখানার ৪৪ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার পাকশীতে ঈশ্বরদী ইপিজেডে কারখানার সামনে চাকরিচ্যুত শ্রমিকেরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় ইপিজেডের নিরাপত্তাকর্মীরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ না করার জন্য অনুরোধ করেন। তারপরও শ্রমিকেরা কিছু সময় অবস্থান নিয়ে বকেয়া পরিশোধ করা ও চাকরিচ্যুত না করার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, ‘দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের কোনো অভিযোগ না থাকলেও শুধু মৌখিক নির্দেশনায় ১৭ এপ্রিল থেকে আমাদের চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শ্রম আইনে কোনো কারণ ছাড়া একজন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম তিন মাসে আগে শ্রমিককে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি জানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ এসবের কোনোটি করেনি। এ কারণে পাওনা আদায়ের জন্য কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছি।’

অব্যাহতি পাওয়া কোম্পানিটির সাইজিং সেকশনের সাইজার আলিফ লাম ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাকরি ফেরত চাই। দ্রুত আমাদের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করতে হবে। যদি পরিশোধ না করা হয়, বেপজা শ্রম তদারকি কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করা হবে।’

কোম্পানিটির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কোম্পানির ব্যবসায়িক অবস্থা সুবিধাজনক অবস্থায় না থাকায় কিছু শ্রমিককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কোম্পানি আইনে তাদের কোনো কিছু পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করা হবে।’

ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোম্পানির ৪৪ জন শ্রমিককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি। তাঁরা পাওনা পেতে আমাদের জানিয়েছেন। অব্যাহতি দেওয়ার সময় বেপজা আইনে একজন শ্রমিকের সমুদয় পাওনা পরিশোধে কোনো ব্যত্যয় করা যাবে না বলে কোম্পানির কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ওই কারখানা আর্থিক সংকটে রয়েছে। এমনকি কারখানার কাছে আমাদেরও টাকা পাওনা রয়েছে।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন