ইপিজেড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইপিজেড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীর টিপু সুলতান সড়ক এখন মরণফাঁদ: প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা


নিজস্ব প্রতিবেদক: গর্ত, খানাখন্দ আর জলাবদ্ধতায় ঈশ্বরদীর গুরুত্বপূর্ণ টিপু সুলতান সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই এ সড়কে যানবাহন বিকল হওয়া, আটকে পড়া ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, যা পথচারী, শ্রমিক, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে ফেলছে।

সম্প্রতি পাকা সড়কের একটি বড় গর্তে পড়ে কাভার্ড ভ্যানসহ দুটি যাত্রীবাহী যানবাহন আটকে যায়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। গত ছয় মাস ধরে টেন্ডার হওয়ার কথা বলা হলেও এখনো সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও জমা পানিতে গর্তগুলো ঢাকা পড়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে পারে না; ফলে এক দিন বৃষ্টি হলেই কয়েক দিন ধরে সড়কজুড়ে পানি ও কাদা জমে থাকে।

ঈশ্বরদী শহর থেকে সাঁড়াগোপালপুর, বকশিরচক-তালতলা হয়ে ঈশ্বরদী ইপিজেড, পাকশী পেপার মিল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং লালন শাহ সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ পৌর আওতাধীন। বাকি অংশের কিছু অংশ রেলওয়ে এবং কিছু অংশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী ইপিজেডে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক, বিদেশি নাগরিকসহ প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। এর পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, বালুবাহী ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি দিনরাত ব্যস্ত থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা তানজিরুল আলম বলেন, এমনিতেই রাস্তাটি ভাঙাচোরা, তার ওপর দুই পাশে ঝোপঝাড় থাকায় সন্ধ্যার পর চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে যাওয়ায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

ইপিজেডে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকেরা জানান, ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোড. আব্দুল জব্বার বলেন, সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি ভাঙা অংশে জমে থেকে সড়কটিকে দ্রুত চলাচলের অনুপযোগী করে তুলছে। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে সড়কের পাশ দিয়ে পুরোনো পাইলট লাইন তুলে নতুন রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরুর পর থেকে এর বিভিন্ন অংশ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কটি সংস্কারের জন্য রেলওয়েকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে ঈশ্বরদী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রকল্পের আওতায় সড়কটির জরিপ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্ষা শেষ হলে দ্রুতই সড়ক নির্মাণের জন্য টেন্ডারের ব্যবস্থা করা হবে।

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) মোড. জহুরুল ইসলাম জানান, সড়কটির যানবাহন চলাচলের ধারণক্ষমতা ২০ টনের বেশি নয়। অথচ প্রতিদিন অতিরিক্ত ওজন নিয়ে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচল করায় নির্ধারিত সময়ের আগেই এটি নষ্ট হচ্ছে।

যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঈশ্বরদী ইপিজেডে শ্রমিক বিক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিবেদক: যাতায়াত ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঈশ্বরদী ইপিজেডে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ইপিজেডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ইপিজেডের ভেতরে সব ধরনের প্রবেশ ও কাজ বন্ধ থাকে।

জানা গেছে, সম্প্রতি শ্রমিকদের যাতায়াত ভাড়া হঠাৎ বাড়ানো হলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। ভাড়া কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ সকাল থেকে শ্রমিকেরা প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে ভেতরে ও বাইরে পণ্যবাহী যানবাহনসহ কর্মীদের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফটকের বাইরে অবস্থান নেন কয়েক হাজার শ্রমিক।

ঘটনার খবর পেয়ে বেপজা কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সেখানে পৌঁছান। পরে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেপজা কর্তৃপক্ষের একটি জরুরি বৈঠক হয়। আলোচনায় শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয় কর্তৃপক্ষ।

ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদের কিছু দাবি ও ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সাময়িক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাঁদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং উৎপাদন কার্যক্রম যথারীতি চলছে।’

ঈশ্বরদীতে চীনা কোম্পানির নতুন কারখানা, কাজ পাবেন ২৪০ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চীনের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) একটি মোড়কজাত ও আনুষঙ্গিক পণ্য তৈরির কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে চুক্তি করেছে।

মঙ্গলবার ঢাকার বেপজা ভবনে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বেপজার পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিনিয়োগ উন্নয়ন সদস্য মো. আশরাফুল কবীর এবং চীনা কোম্পানি কিংডাও ডংফ্যাং মোড়ক প্রযুক্তি লিমিটেড-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান সং সিলিং।

বেপজা জানিয়েছে, কোম্পানিটি প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৮ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করবে। এই কারখানায় পলিথিন ব্যাগ, ঝুল ট্যাগ এবং কাগজের ট্যাগ তৈরি হবে। বছরে উৎপাদন হবে প্রায় ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডজন পণ্য। এতে ২৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক কাজের সুযোগ পাবেন।

বেপজা জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) শুরু থেকে ১৩ মে পর্যন্ত তারা দেশি-বিদেশি ৩২টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫ হাজার ২৮০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ পেয়েছে। এই বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, ঈশ্বরদী ইপিজেডে বিনিয়োগ করায় তিনি চীনা কোম্পানিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, বেপজা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি চীনের অন্যান্য উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বেপজার প্রকৌশল সদস্য মো. ইমতিয়াজ হোসেন, অর্থ সদস্য আ ন ম ফয়জুল হক, বিনিয়োগ উন্নয়ন নির্বাহী পরিচালক মো. তানভীর হোসেন, প্রশাসন নির্বাহী পরিচালক মো. তাজিম-উর-রহমান এবং জনসংযোগ নির্বাহী পরিচালক এ এস এম আনোয়ার পারভেজসহ চীনা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঈশ্বরদী ইপিজেডে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়া অঞ্চলে (ইপিজেড) এলিগ্যান্ট স্পিনিং অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড নামের একটি কারখানার ৪৪ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার পাকশীতে ঈশ্বরদী ইপিজেডে কারখানার সামনে চাকরিচ্যুত শ্রমিকেরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় ইপিজেডের নিরাপত্তাকর্মীরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ না করার জন্য অনুরোধ করেন। তারপরও শ্রমিকেরা কিছু সময় অবস্থান নিয়ে বকেয়া পরিশোধ করা ও চাকরিচ্যুত না করার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, ‘দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের কোনো অভিযোগ না থাকলেও শুধু মৌখিক নির্দেশনায় ১৭ এপ্রিল থেকে আমাদের চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শ্রম আইনে কোনো কারণ ছাড়া একজন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম তিন মাসে আগে শ্রমিককে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি জানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ এসবের কোনোটি করেনি। এ কারণে পাওনা আদায়ের জন্য কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছি।’

অব্যাহতি পাওয়া কোম্পানিটির সাইজিং সেকশনের সাইজার আলিফ লাম ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাকরি ফেরত চাই। দ্রুত আমাদের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করতে হবে। যদি পরিশোধ না করা হয়, বেপজা শ্রম তদারকি কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করা হবে।’

কোম্পানিটির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কোম্পানির ব্যবসায়িক অবস্থা সুবিধাজনক অবস্থায় না থাকায় কিছু শ্রমিককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কোম্পানি আইনে তাদের কোনো কিছু পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করা হবে।’

ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোম্পানির ৪৪ জন শ্রমিককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি। তাঁরা পাওনা পেতে আমাদের জানিয়েছেন। অব্যাহতি দেওয়ার সময় বেপজা আইনে একজন শ্রমিকের সমুদয় পাওনা পরিশোধে কোনো ব্যত্যয় করা যাবে না বলে কোম্পানির কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ওই কারখানা আর্থিক সংকটে রয়েছে। এমনকি কারখানার কাছে আমাদেরও টাকা পাওনা রয়েছে।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন