রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর পারমাণবিকে রেডিয়েশন এরিয়ায় অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (রেডিয়েশন) এলাকায় বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ কৌশল আয়ত্তে আনতে ফায়ার ফাইটারদের জন্য ১৪ দিনব্যাপী একটি উন্নত ও আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। 

শনিবার এ তথ্য জানান ট্রেনিং ডিভিশনের উপ-প্রধান মো. মনিরুজ্জামান।

গত ১০ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অন-সাইট ফায়ার ফাইটারদের জন্য রেডিও–রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক, বিস্ফোরক ও অগ্নি-বিপজ্জনক এলাকায় অগ্নিনির্বাপন” শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ১৪ দিনব্যাপী মোট ৮০ ঘণ্টার গভীরতাপূর্ণ কোর্সে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীরা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের বিশেষ কৌশল, নিরাপত্তা নীতি, বিকিরণমাত্রা পর্যবেক্ষণ, ডোজিমিটার ব্যবহার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহারে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন।

প্রশিক্ষণের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রেনিং ডিভিশনের প্রধান গোলাম শাহীনুর ইসলাম এবং উপ-প্রধান মো. মনিরুজ্জামান। কোর্স সমন্বয়ে সহায়তা করেন ফায়ার সেফটি বিভাগের প্রশিক্ষক সৈয়দ নাজমুল হোসেন।

ট্রেনিং ডিভিশনের প্রধান মনিরুজ্জামান জানান, কর্মসূচির প্রথম ধাপে মোট ২৩ জন ফায়ার ফাইটার অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ১ জন সিনিয়র স্টেশন অফিসার, ৩ জন লিডার, ১৫ জন ফায়ার ফাইটার এবং ৪ জন ড্রাইভার (ফায়ার ফাইটার)। সবাই তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১২ জন ফায়ার ফাইটারের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াধীন।

তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণার্থীরা এনপিপিতে স্থাপিত আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার ওপর হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন করেছেন। ডেলুজ সিস্টেম, ওয়াটার মিস্ট সিস্টেম, নিষ্ক্রিয় গ্যাস সিস্টেম, ফোম সিস্টেম এবং ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার সিস্টেমসহ বিভিন্ন অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রশিক্ষক সৈয়দ নাজমুল হোসেন বলেন, দ্বিতীয় সপ্তাহে জেনারেল কন্ট্রাকটর এতমস্ট্রয়এক্সপোর্ট (ASE) এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিশেষায়িত ফায়ার ফাইটিং যানবাহন ব্যবহারের ব্যবহারিক অনুশীলন সম্পন্ন হয়। এতে জলবাহী গাড়ি চারটি, ফোমবাহী গাড়ি একটি, গ্যাস ও ধোয়াপূর্ণ স্থানে অগ্নিনির্বাপনের বিশেষ গাড়ি একটি, ফায়ার পাম্প গাড়ি একটি, ফায়ার রেসকিউ গাড়ি একটি, রেডিওকেমিক্যাল মনিটরিং গাড়ি একটি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড লাইটিং ফায়ার ট্রাক একটি, পাম্প-হোজ ফায়ার ট্রাক একটি এবং এরিয়াল ফায়ার ভেহিকল একটি ব্যবহার করা হয়।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান  জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিকিরণ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

তিনি আরও জানান, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। যা বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

উচ্চচাপের বাষ্প নির্গমন নিয়ে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জরুরি বিজ্ঞপ্তি

বিশেষ প্রতিনিধি: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে বাষ্প নির্গমন পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার সময় শব্দ এবং বাষ্প নির্গমন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, পূর্বনির্ধারিত ও নিরাপদ। জনসাধারণের জন্য এতে কোনো ঝুঁকি বা বিপদের আশঙ্কা নেই।

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে নিয়োজিত রাশিয়ান সাধারণ ঠিকাদার কর্তৃক জানানো হয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রকল্প এলাকার মেইন স্টিম পাইপলাইন ও স্টিম জেনারেটরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য একটি পরিকল্পিত বাষ্প নির্গমন পরীক্ষা শুরু হবে। এই পরীক্ষার অংশ হিসেবে উচ্চচাপের বাষ্প, সুনির্দিষ্ট ভালভের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে নির্গত হবে। পরীক্ষাকালীন সময়ে বাষ্প নির্গমনের ফলে বিকট শব্দ (জেট ইঞ্জিনের আওয়াজের মতো) সৃষ্টি হতে পারে, যা কিছুক্ষণ স্থায়ী হবে। এই পরীক্ষা সম্পন্ন হতে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ দিন প্রয়োজন।

আরও বলা হয়, এই উচ্চচাপের বাষ্প নির্গমন এবং তার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট শব্দ পূর্বনির্ধারিত, স্বাভাবিক ও সম্পূর্ণ নিরাপদ। জনসাধারণের জন্য এতে কোনও ঝুঁকি বা বিপদের সম্ভাবনা নেই। এটি একটি নিয়মিত কারিগরি প্রক্রিয়া, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালিত হয়।

রূপপুর পারমাণবিকের ওয়েদার টাওয়ার নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ভেঙে ফেলা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের জায়গায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মিত হয়েছে। 

পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক কার্যালয় পরিচালনা করছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দুটি কার্যালয় ভাঙচুর করে ধ্বংস করা হয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাকি অংশও বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙা কার্যালয়ের স্থানে স্টিল সিট দিয়ে নির্মিত একটি বিশাল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ টাওয়ার দাঁড়িয়ে আছে। টাওয়ারের যন্ত্রাংশ লোহার রড দিয়ে খাঁচার মধ্যে রাখা হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাধনা এন্টারপ্রাইজ।

রেলওয়ে পাকশী বিভাগের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, রেলওয়ের প্রকৌশলী-২ কার্যালয়ের নির্দেশে ওই স্থানে রূপপুর প্রকল্পের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, রেলওয়ের অনুমতি নিয়েই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। তবে এটি একমাত্র নয় ঈশ্বরদী ও পাকশীতে আরও চারটি জায়গায় এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা স্টেশন এলাকায় একটি করে টাওয়ার নির্মাণ করা হবে।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে বাষ্প সরবরাহ পাইপলাইনের সফল পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের টার্বাইনে বাষ্প সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত পাইপলাইনে ‘হট এবং কোল্ড’ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এই পরীক্ষার অংশ হিসেবে পাইপলাইন পরিষ্কার করতে বাষ্পের মাধ্যমে ব্লো-ডাউন প্রক্রিয়া চালানো হয়। এতে দেখা যায়, বাষ্প সরবরাহের জন্য পাইপলাইনগুলো এখন ব্যবহারের উপযোগী ও কার্যকর।

বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগে এমন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে টার্বাইনসহ যন্ত্রপাতির নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়।

পরীক্ষায় ব্যবহৃত বাষ্পের চাপ ছিল দুই মেগাপ্যাস্কেল এবং তাপমাত্রা ছিল ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নকশা অনুযায়ী এই মান নির্ধারণ করা হয়, যেন পাইপলাইনের ভেতরে থাকা ধুলাবালি, ক্ষুদ্র কণা কিংবা আর্দ্রতা পুরোপুরি দূর করা যায়।

পরীক্ষা চলাকালে বায়ুমণ্ডলে প্রচণ্ড গতিতে বাষ্প নির্গত হওয়ায় কিছুটা উচ্চ শব্দ সৃষ্টি হয়, যা পূর্ব থেকে অনুমেয় ছিল। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।

এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে আরও বেশি পরিমাণ বাষ্প ব্যবহার করে ব্লো-ডাউন পুনরায় করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রকৃত চালনার সময় যন্ত্রপাতির ওপর কতটা চাপ পড়বে, তা নির্ধারণ করে দেখা যাবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রসাটমের প্রকৌশল শাখা এতমস্ত্রয়এক্সপোর্ট প্রকল্পটির মূল বাস্তবায়নকারী। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরী বলেন, “কমিশনিংয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের প্রথম ইউনিট চালু এবং জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।”

রূপপুর প্রকল্পে স্থাপিত হচ্ছে সর্বাধুনিক রুশ প্রযুক্তির ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর। দুটি ইউনিট থেকেই প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। প্রকল্পটি চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে স্থাপিত হলো টারবাইন

ছবি: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে টারবাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রসাটম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ধাপে টারবাইন সেটটিকে বারিং গিয়ারের ওপর নির্ভুলভাবে বসানো হয়েছে। স্থাপন পরবর্তী পরীক্ষাকালে টারবাইনের শ্যাফট ধীর গতিতে ঘোরানো হয়। 

বলা হয়, স্টার্টআপ এবং শাটডাউনের সময় টারবাইন রোটরের যথাযথ এলাইনমেন্ট ও ভারসাম্য নিশ্চিত করে এই বারিং গিয়ার, যা নিরাপত্তা এবং দক্ষ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জরুরি। পরীক্ষাকালে বিশেষজ্ঞরা টারবাইন সেটের সংযোজনের উচ্চমান এবং নিখুঁত এলাইনমেন্টের ব্যাপারে নিশ্চিত হন। 

বাংলাদেশ প্রকল্পের জন্য এতমস্ত্রয় এক্সপোর্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলেক্সি দেইরী বলেন, 'রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের টারবাইন স্থাপনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা স্টার্টআপের পূর্বে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বারিং গিয়ারের ওপর টারবাইন সেটের স্থাপন এবং কনট্রোল পরীক্ষার মাধ্যমে যন্ত্রপাতির সংযোজনের উচ্চমান এবং এগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা গেছে।' 

বাংলাদেশের পাবনা জেলার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটিতে প্রতিটি ১২০০মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পাওয়ার ইউনিট থাকছে। ইউনিটগুলোতে স্থাপিত হয়েছে ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর রিয়্যাক্টর। যত শিগগিরই সম্ভব জ্বালানি লোডিং এবং তৎপরবর্তী স্টার্টআপের জন্য প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

রূপপুর প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার এবং কনট্রাকটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে রসাটম প্রকৌশল শাখা।

রাশিয়া থেকে রূপপুর প্রকল্পে আসছে হেভি ক্রেন

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রাশিয়ার নাভাসিবিয়েরস্ক সমুদ্র বন্দরে পৌঁছেছে ৫০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ব্রিজ ক্রেন। এই ক্রেনটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের জন্য ব্যবহৃত হবে। এছাড়াও ১৬ টন এবং ৩২ টন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ক্রেনও একই সময়ে পাঠানো হচ্ছে।

সোমবার রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ এবং ভিপিও যায়েস এর বিশেষজ্ঞরা মালপত্র পরিবহন করার আগে এসব যন্ত্রপাতির মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।

রসাটমের বিদ্যুৎ শক্তি শাখার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এতমএনার্গোরিমন্টের উপমহাপরিচালক ভ্লাদিমির পাপো বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ মান এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রূপপুর প্রকল্পের জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক প্রকল্পে আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ রাখছি।’

রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেখানে দুটি ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার ইউনিট থাকবে।

রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। 

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান ঢাকা থেকে ঈশ্বরদীর রূপপুরে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পে কর্মরত বাংলাদেশি ও রাশিয়ানরা বহনকারী গাড়ি বহরকে স্বাগত জানান।

ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর ভোরে রাজধানী ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।‌

বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী। তিনি জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় চালানের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান ১০টার কিছুক্ষণ আগে রূপপুর এলাকায় প্রবেশ করেছে।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জ্বালানির প্রথম চালান। পরের দিন ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জ্বালানি নেওয়া হয় প্রকল্প এলাকায়। ৫ অক্টোবর বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে পারমাণবিক ক্লাবে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। প্রথম চালানোর পর গত ৬ অক্টোবর সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান রাজধানী ঢাকা থেকে সফলভাবে ঈশ্বরদীর রূপপুরে পৌঁছায়।

বিশেষ নিরাপত্তাবলয়ে রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বিশেষ নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো আসার সময় মহাসড়কে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাবলয় ছিল। নিরাপত্তার জন্য ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ১০ পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক শৌকত আকবর বলেন, প্রথম চালানের মতোই দ্বিতীয় চালান সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে সড়কপথে রূপপুরে নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি চালান দেশে আসবে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান রূপপুরে পৌঁছায়।


ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট: রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে পেশাদারত্বে প্রভাব ফেলেনি

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ঘটনায় কোনো প্রভাব পড়েনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে। তারা মিলেমিশে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান হামলাকে কেন্দ্র করে ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা চরমে। তবে ভিন্ন চিত্র ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এখানে রুশ ও ইউক্রেনীয় কর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এই দুটি দেশসহ ১৬টি দেশের নাগরিক এখানে কাজ করছেন।

রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। তাঁরা বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে প্রতিদিন ২৫ থেকে ২৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন। তাঁদের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বিদেশি নাগরিক। রাশিয়ার নাগরিক আছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার। ইউক্রেনের নাগরিক ২৫০ জনের মতো। রয়েছেন বেলারুশের নাগরিকেরাও।

রূপপুর কর্তৃপক্ষ বলছে, রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি নিয়েই ইউক্রেনের নাগরিকেরা এখানে এসেছেন। তাঁরা সবাই পেশাদারত্বের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি।

এ বিষয়ে রূপপুর প্রকল্পের বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন ও অর্থ) অলোক চক্রবর্তী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো প্রভাব রূপপুর প্রকল্পের কাজে পড়েনি। এখানে দুই দেশের নাগরিকেরা পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সঙ্গে কাজ করছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন রূপপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পরমাণু শক্তি কমিশন। আর রাশিয়ার পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের নেতৃত্বে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

গেল মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রোসাটম বলেছে, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং কাজের শিডিউলে কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।’

২০২৪ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা
রূপপুর কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে রূপপুরে। খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর রাশিয়া থেকে ঋণসহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের এপ্রিলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চায় রূপপুর কর্তৃপক্ষ। আর ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে আশা করা হচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন বলছে, রাশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। এগুলো নির্ধারিত সময় ধরে এগোচ্ছে। সময়মতো যন্ত্রপাতি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো হচ্ছে। দেশেও প্রতিটি কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। কোনো কোনো কাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার চেয়ে এগিয়ে আছে রূপপুর। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের কাজে আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৪৬ শতাংশ।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে রূপপুরে ইউনিট-১-এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে চুল্লিপাত্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই ইউনিটের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে বলা যায়। এটি স্থাপনে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থার (আইইএ) মান অনুসরণ করতে হয়েছে। চুল্লিপাত্র হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র। এই যন্ত্রের মধ্যেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোড করা হয়।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন