যোগাযোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
যোগাযোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পাবনা এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবিতে ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-ঢাকা রুটের ট্রেন ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে সম্মিলিত নাগরিক জোট। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের (ডিআরএম) কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্যসচিব আশিকুর রহমান লুলু। এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ, বিএনপি নেতা আতাউর রহমান পাতা, শ্রমিক দল নেতা সোহেল রানা, ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির নির্বাহী সদস্য সাঈফ হাসান সেলিম ও আকরাম রায়হান বাবু। কর্মসূচিতে স্থানীয় সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, সমাজকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাবনা থেকে ঢাকাগামী নতুন ট্রেনটিতে ৮০০ থেকে ৯০০ যাত্রী যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে। তবে শুধু পাবনা থেকে এত যাত্রী পাওয়া কঠিন। ট্রেনটি পর্যাপ্ত যাত্রী না পেলে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হবে। যদি ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে, তবেই কেবল আসন পূর্ণ যাত্রী পাওয়া সম্ভব।

নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, পাবনা থেকে আসা ট্রেনটির ইঞ্জিন মাঝগ্রাম স্টেশনে ঘোরাতে (দিক পরিবর্তন) হবে। মাঝগ্রাম থেকে ঈশ্বরদী জংশনের দূরত্ব মাত্র তিন থেকে চার মিনিটের। ট্রেনটি মাঝগ্রামের বদলে ঈশ্বরদী জংশনে এসে ইঞ্জিন ঘোরালে, এই সময়ের মধ্যেই জংশনের যাত্রীরা সহজে ট্রেনে চড়ে বসতে পারবেন। এতে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।

বক্তারা আরও বলেন, মাঝগ্রাম একটি প্রত্যন্ত এলাকা। সেখানে যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ভালো রাস্তাঘাট নেই এবং নিরাপত্তারও চরম অভাব রয়েছে। অন্যদিকে ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড), ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক ডাল ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এবং আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশন হয়ে চললে পার্শ্ববর্তী লালপুর, ভেড়ামারাসহ আশপাশের অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীরা সহজেই ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে পাবনা-ঢাকা ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে আনা অত্যন্ত জরুরি।

মানববন্ধন শেষে জোটের নেতারা রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে যান। বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা আলম উপস্থিত না থাকায় স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মো. মোশারেফ হোসেন ভূঁইঞা।

এরপর নেতারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের কাছে যান এবং তাঁর ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেলসচিবের কাছে আরেকটি স্মারকলিপি দেন।

ঈশ্বরদীতে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর উত্তরের পথে চলল ট্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের লাইনচ্যুত দুটি বগি উদ্ধারের সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাইনচ্যুত বগি দুটি উদ্ধার শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয় বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা আলম।

এর আগে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে আকস্মিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

এই ঘটনায় পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) শেখ আসিফ আহমেদ, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) রবিউল ইসলাম এবং বিভাগীয় সংকেত প্রকৌশলী আহমেদ ইশতিয়াক জহুর।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে বিভাগ।

রেলওয়ে বিভাগ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী ট্রেনটি ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে প্রবেশের ঠিক আগে লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির দুটি বগির আটটি চাকা রেললাইন থেকে সরে যায়।

পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা আলম বলেন, খবর পেয়ে ঈশ্বরদী লোকোমোটিভ ডিজেল কারখানা থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। লাইনচ্যুত বগি দুটি উদ্ধারের পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেল চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

লালন শাহ সেতু সরানোর খবরটি গুজব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি প্রস্তুতির পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ; শুরু হলো দেশের জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়।

তবে এই অগ্রগতির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রূপপুর প্রকল্পের কারণে লালন শাহ সেতু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে’—এমন একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, লালন শাহ সেতু সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছেই নির্মিত লালন শাহ সেতু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও পাবনার ঈশ্বরদীকে (পাকশী) যুক্ত করেছে। এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সেতুটি।

সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরে নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা)। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই কেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে রূপপুর ও আশপাশের এলাকায় রেল ও সড়কসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে। ঢাকা–এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পর এখন এলেঙ্গা–হাটিকুমরুল–রংপুর মহাসড়ক চার লেনে বাড়ানোর কাজ চলছে। ভবিষ্যতে ঝিনাইদহ থেকে রূপপুর হয়ে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সওজ জানিয়েছে, এসব পরিকল্পনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যয় ও অর্থায়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখা) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, লালন শাহ সেতু সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি আগের জায়গাতেই থাকবে।

তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহ–ঈশ্বরদী–রূপপুর–নাটোর–বনপাড়া হয়ে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে।

২০০৪ সালের ১৮ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লালন শাহ সেতু উদ্বোধন করেন। প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ দশমিক ১০ মিটার প্রশস্ত এই সেতুটি ১৭টি পিলারের (স্প্যান) ওপর নির্মিত। চীনা প্রতিষ্ঠান মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো এটি নির্মাণ করে।

সেতুটি চালুর পর কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন