বৃষ্টি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বৃষ্টি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

টানা বৃষ্টিতে পাবনায় খালের পাড়ে ভাঙন, ঝুঁকিতে ১৫ বাড়িঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা বৃষ্টিতে পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের অতল্লাপুর গ্রামে বিলের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের খালে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে রাস্তা, বাড়িঘর ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ও স্থাপনা।

ইতিমধ্যে খালের পূর্ব পাড়ের একটি সড়কের অংশ, কয়েকটি বাড়ির আংশিক অংশ এবং ৫০টির বেশি গাছ ভাঙনে বিলীন হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সদর উপজেলার চার থেকে পাঁচটি বিলের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ এই খাল। গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে বিলগুলোর পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় খালেও স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতল্লাপুর গ্রামে কোনো বড় নদী না থাকলেও চারপাশে মুনিদাহ, শ্যামপুর, অতল্লাপুর, মাহমুদপুর ও হাসেমপুর বিল রয়েছে। এসব বিলের অতিরিক্ত পানি এই খাল দিয়ে স্থানীয় রত্নাই নদীতে গিয়ে পড়ে।

তাঁদের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষায় এ খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও কখনো পাড়ের বসতভিটা বা স্থাপনা ভাঙনের মুখে পড়েনি। তবে এবার টানা বৃষ্টিতে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় খালের দুই তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা তোতা মিয়া (৬০) বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি এই খাল এত বড় ক্ষতি করবে। মাত্র এক দিনের মধ্যে আমার বাড়ির একাংশ ভেঙে নিয়ে গেছে। জীবনে এই খালে এমন স্রোত আগে দেখিনি।’

আরেক বাসিন্দা চান মিয়া (৫৫) বলেন, ‘অতিরিক্ত পানির চাপে ছয় ফুট চওড়া খাল এখন ১২ থেকে ১৫ ফুটে পরিণত হয়েছে। দুই পাড় ভেঙে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশের গাছপালা ইতিমধ্যে খালে চলে গেছে। ঘরের একাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবার নিয়ে এখন দিনরাত আতঙ্কে আছি।’

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনের কারণে অনেকেই খালের পাড় ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, চার-পাঁচ দিন ধরে ভাঙন চললেও তা রোধে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি রত্নাই নদী ও আশপাশের কয়েকটি খাল খনন করা হলেও এই অংশটি খনন করা হয়নি। এ কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

অভিযোগের বিষয়ে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল দ্রুত পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টানা বৃষ্টিতে ঈশ্বরদীতে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর বাজারে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির প্রভাবে কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে কচু ও বেগুনের দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে অন্যান্য বেশিরভাগ সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কিলোগ্রাম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এই পণ্যের দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

বাজারে কচু, যা আগে ৪০ টাকা কিলোগ্রাম ছিল, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। বেগুনের দামও কিলোগ্রামপ্রতি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা।

অন্যদিকে আলু, পেঁয়াজ, পটল, ঝিঙে, করলা, ঢ্যাঁড়শ ও শসার দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে প্রতি কিলোগ্রাম আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, পটল ৩০ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩০ টাকা এবং শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের সবজি বিক্রেতা আমিন উদ্দিন বলেন, আরও দু-এক দিন টানা বৃষ্টি হলে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বাড়তে পারে। বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।

৫ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা


নিজস্ব প্রতিবেদক: সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও উজানের ভারী বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমানে ৫টি প্রধান নদীর ৯টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, দেশের সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে পানি যথাক্রমে ৯৫ ও ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৭ ও ৩২ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারার মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১৮ ও ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৫ ও ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

এ ছাড়া আরও ৫টি নদীর ৯টি স্টেশন সতর্ক সীমায় পৌঁছেছে। এগুলো হলো—তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর; কুশিয়ারার শেরপুর; সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ; সোমেশ্বরীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ পয়েন্ট।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তাদের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি পরিমাপক স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, কমেছে ৪৩টিতে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫টি স্টেশনের পানি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন