বিজয় দিবস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিজয় দিবস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের জয় বাংলা স্লোগান দেয়ায় লাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মহান বিজয় দিবসে বিজয়স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর জয় বাংলাসহ নানান স্লোগান দিয়েছেন ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা। স্লোগানের পরপরই ঘটনাস্থলে থাকা এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে লাঞ্ছিত করে কতিপয় ব্যক্তি। এ নিয়ে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দেয়।

 মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে পৌর শহরের আলহাজ্ব মোড় বিজয়স্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ঈশ্বরদী উপজেলার ভারতে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সকাল ৯টার দিকে আলহাজ্ব মোড় বিজয়স্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে যান একদল বীর মুক্তিযোদ্ধা। পুষ্পমাল্য অর্পণের পর বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘জয় বাংলা’সহ নানান স্লোগান দেন। স্লোগান শেষে কতিপয় ব্যক্তি মনোয়ার হোসেন মুকুল নামে এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা কোরবান আলীর ছেলে। এ নিয়ে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দেয়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন ঈশ্বরদী অঞ্চলের কোম্পানি কমান্ডার কাজী সদরুল হক সুধা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জয় বাংলা স্লোগান দিতেই পারেন। জয় বাংলা স্লোগান আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব স্লোগান নয়। জয় বাংলা স্লোগান আওয়ামী লীগ নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এ স্লোগান মহান মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। এই স্লোগান মুক্তিযোদ্ধাদের স্লোগান। তাছাড়া আমরা শুধু জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছি, জয় বঙ্গবন্ধু তো বলিনি। আমরা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করতে চাই না। স্লোগান দেওয়ার পর কতিপয় ব্যক্তি আমাদের একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে লাঞ্ছিত করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। 

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, বিজয়স্তম্ভে জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়টি শুনেছি। এ নিয়ে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা  ঘটেনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাইনি।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

শনিবার বিকেল ৪টার দিকে বঙ্গভবনের সবুজ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ আগত অতিথিদের সস্ত্রীক স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা যোগ দেন।

এছাড়া তিন বাহিনী প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবসের কেক কাটেন।

সবশেষে শীতের পড়ন্ত বিকেলে দেশবরেণ্য শিল্পীরা দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন বঙ্গভবনের সবুজ চত্বরে।

এছাড়া সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে থাকা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রথমে নিজে এবং পরে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন শেখ হাসিনা।

এরও আগে ভোর ৬টা ৩৫ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা যুদ্ধে অকুতোভয় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় সভাপতি হিসেবে আবারও শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে গণমানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহান বিজয় দিবস আজ। আজকের এই দিনে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আজকের এই লাল সবুজের পতাকা। তাই তো তাদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছে গোটা জাতি। শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেমেছে গণমানুষের ঢল।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এরপরই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটক। সঙ্গে সঙ্গে দলে দলে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করতে থাকে রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী, ও সরকারি-বেসরকারি সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ। স্মৃতিসৌধে নামে গণমানুষের ঢল।

পরাধীনতার শিকল ছিড়ে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ডাকে লাখ লাখ বাঙালি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। যে যুদ্ধে ৩০ লাখ বাঙালি মায়ের সন্তান শহীদ হন। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীনতা। সেই বাঙ্গালি মায়ের সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে গোটা জাতি। শত ব্যস্ততা ও শীত উপেক্ষা করে ছোট ছোট সন্তান নিয়ে এসে বিজয় তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে পরিচয় করে দিচ্ছেন অনেকেই। 

আশুলিয়ার জামগড়া থেকে দুই বছরের সন্তান নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসেছেন পোশাক শ্রমিক মজিবর রহমান। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ মহান বিজয় দিবস। আজকের এই দিনে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আমরা যে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি তা বোঝাতে আমার সন্তানকে নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। ছোটবেলা থেকেই যেন আমার সন্তান দেশ ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারে এজন্যই মূলত স্মৃতিসৌধে আসা।

সাভার থেকে শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসেছেন আহসান হোসেন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকের এই দিনে আমরা বিজয় লাভ করেছি। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। যাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের দাযিত্ব রয়েছে। শুধু শ্রদ্ধা জানালে হবে না। এসব দায়িত্ব আমাদের সবার, আমরা যারা স্বাধীনতা ভোগ করছি।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা মুক্তিযোদ্ধা সফের আলী বলেন, আমরা দেশের মানুষকে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছি। আজকে আমরা স্বাধীন। দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে চলছে, স্বাধীনভাবে বেঁচে আছে। এটা দেখে গর্বে বুক ভরে যায়। জীবনে আর চাওয়ার কিছু নেই। যারা স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে জীবন দিয়েছেন তাদের শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আজ লাখ লাখ জনতা। এ চিত্র দেখে জীবনে আর চাওয়া কি থাকতে পারে? যারা জীবন দিয়েছে তারা হয়তো আজ এ চিত্র দেখতে পারবে না। কিন্তু তাদের হয়ে আমি দেখছি যে বাংলার মানুষ তাদের কতটা শ্রদ্ধায় সিক্ত করেছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানোর পর সবার জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফটক উম্মুক্ত করা হয়। এরপর সৌধপ্রাঙ্গণে নামে গণমানুষের ঢল। দিনটি উপলক্ষ্যে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি প্রথমে স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তখন রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ৯ পদাতিক ডিভিশন-এর জিওসি, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক।

এরপর শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

আজ বিজয়ের দিন, গর্বের দিন

জাতীয় স্মৃতিসৌধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস, বীরের জাতি হিসেবে বাঙালির আত্মপ্রকাশের দিন, পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে বাংলাদেশ নাম প্রতিষ্ঠার মাইলফলকের দিন। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিন অপরাহ্ণে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বীর যোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করার পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে। একপর্যায়ে পাকিস্তানি হানাদার সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘুমন্ত, নিরীহ, নিরস্ত্র সাধারণ বাঙালির ওপর চালায় মানব ইতিহাসের ঘৃণ্যতম গণহত্যা।

বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে। এর আগেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে হানাদারদের প্রতিরোধের আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ শেষে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে অর্জিত হয় চিরকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর পরাক্রমের কাছে মাথা নত করে পাকিস্তানি ঘাতক দল। পৃথিবীর বুকে অর্ধশত বছর আগের এই দিনে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। বাঙালি ঊর্ধ্বলোকে তুলে ধরে প্রাণপ্রিয় লাল-সবুজ পতাকা।

১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি সরকার এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের বিজয়ের এই দিনকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। ওই বছর থেকেই রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

সে মোতাবেক আজ সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন; সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলোয় আলোকসজ্জায় সজ্জিত, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলোয় জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে।

আজকের দিনে নতুন করে ফের বিজয় উল্লাসে ভাসবে দেশ, আনন্দে উদ্বেলিত হবে জাতি। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে ছড়াচ্ছে বিজয়ের আনন্দ। যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

ভোরে ঢাকার তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দর এলাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের অনুষ্ঠানমালার সূচনা ঘটবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকরা বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে।

এ ছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানানো হবে।

মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোয় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন এবং দেশের সব শিশু পার্ক ও জাদুঘরগুলোয় বিনা টিকিটে প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সকাল ৮টায় গণভবনে ডাক বিভাগের স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করবেন। বেলা সাড়ে ৩টায় তিনি বঙ্গভবনে বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের দুদিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয় ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৬টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। ৮টায় ধানমন্ডির জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। বেলা ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেবেন দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় নেতারা।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুমতি পেলে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা আড়াইটায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত বিজয় শোভাযাত্রা হবে।

বিজয়ের মাস শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: শুরু হলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে এ মাসেই জাতির চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ধরা দেয় হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা।

বাঙালির সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ঘটনা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরণ হয় এ মাসে।

বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় আসে এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূখণ্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।

বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হওয়ার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এ অর্জন হওয়ায় বেদনাবিধুর এক শোকগাঁথার মাসও এ ডিসেম্বর।

এ মাসেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল-শামসদের সহযোগিতায় হানাদার গোষ্ঠী দেশের মেধাবী, শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেওয়ার এ ধরনের ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের দ্বিতীয় কোনো নজির বিশ্বে নেই।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর জল, স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে। 

১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যেখান থেকে ৭ মার্চ স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,’ বলে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেখানেই পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী। 

মহান এ বিজয়ের মাস উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন