বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সূচক গণনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মক্ষমতা, উৎপাদন কার্যকারিতা ও কারিগরি তথ্য বিশ্লেষণ আরও কার্যকর করতে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সূচক গণনা ব্যবস্থা বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাশিয়ার রোসেনেরগোঅ্যাটমের বাংলাদেশ শাখার পরিচালক সিনিয়াকভ ভাদিম ভ্লাদিমিরোভিচ। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিফ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. ইয়ামিন আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উৎপাদন ও কারিগরি বিভাগের (পিটিডি) প্রধান রাজু আহম্মেদ।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদন কার্যকারিতা বিভিন্ন কারিগরি ও অর্থনৈতিক সূচকের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সিস্টেম ও অপারেশনাল প্যারামিটারের পরিবর্তন বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। সূচকগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব প্রভাব তথ্যভিত্তিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের কর্মক্ষমতা বিশ্লেষণে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জন করবেন, যা ভবিষ্যতে প্রতিবেদন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়াকভ ভাদিম ভ্লাদিমিরোভিচ প্রশিক্ষণার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি চিফ সুপারিন্টেন্ডেন্ট দিমিত্রি কজলভ, মো. গোলাম শাহিনুর ইসলাম, মো. ওয়াজিহুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান, ডেপুটি ডিরেক্টর মুশফিকা আহমেদ, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ইরতিয়াজ মাহমুদ এবং ব্যবস্থাপক মো. সোলায়মানসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বক্তারা বলেন, এ প্রশিক্ষণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ ও তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরে প্রধান অতিথি ও সভাপতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। 

ঈশ্বরদীতে দুই দিনব্যাপী পারমাণবিক বিজ্ঞান শিক্ষা ও ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুই দিনব্যাপী ‘পারমাণবিক বিজ্ঞান শিক্ষা বিষয়ক কর্মসূচি ও ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান জাদুঘর প্রদর্শনী’ হয়েছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী উপজেলার ইক্ষু গবেষণা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং জামিয়াতুল কুরআনুল কারীম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।

আয়োজনে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের ভ্রাম্যমাণ বাস ‘মিউজুবাস’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রূপপুর প্রকল্পের প্রতিনিধিরা পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, বিকিরণ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এতে কুইজ প্রতিযোগিতা ও প্রশ্নোত্তর পর্বও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিভাগের পরিচালক ড. আনন্দ কুমার দাস জানান, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করা এবং রূপপুর প্রকল্প সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। মিউজুবাসের বিভিন্ন প্রদর্শনী বিজ্ঞান শিক্ষাকে তাদের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

রূপপুর প্রকল্পের গণমাধ্যম ফোকাল পয়েন্ট ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ বলেন, শিক্ষাজীবনের শুরুতেই পারমাণবিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল বাড়ার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আছমা বেগম, ঊর্ধ্বতন গ্রন্থাগারিক মারুফ হোসেন, প্রকল্পের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইকবাল হাসানী এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের প্রধান ডিসপ্লে কর্মকর্তা সৈকত সরকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের আশা, এ ধরনের কর্মসূচির ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান চর্চার আগ্রহ বাড়বে এবং দেশের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তারা বাস্তবসম্মত ধারণা পাবে।

রসাটমের আন্তর্জাতিক যুব বোর্ডে বাংলাদেশের প্রমোদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের আন্তর্জাতিক যুব উপদেষ্টা পর্ষদ ‘ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০’-এর দ্বিতীয় বোর্ডে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রমোদ চন্দ্র বৈদ্য। তিনি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) একজন প্রযুক্তি কর্মকর্তা।

রসাটমের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি সংস্থাটির মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রথম বোর্ডের সদস্যরা তাঁদের উত্তরসূরিদের পরিচয় করিয়ে দেন।

নতুন এই পর্ষদে বাংলাদেশসহ ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, কিরগিজস্তান, রুয়ান্ডা, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া ও উজবেকিস্তানের মোট ১৩ জন তরুণ পেশাজীবী সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তরুণ গবেষক, পারমাণবিক খাতের পেশাদার ও যুব সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় বোর্ডটি গঠন করা হয়েছে। ৫৮টি দেশের ২০৭ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ১৩ জনকে বেছে নেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রমোদ।

রসাটমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বোর্ডের সদস্যরা আগামী কয়েক মাসের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তাঁরা বিভিন্ন দেশে যুব সংলাপের আয়োজন করবেন। পরিচ্ছন্ন, উদ্ভাবনী ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর খাত হিসেবে পারমাণবিক শিল্পের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তরুণরা কেন অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন, তা নিয়ে মতামতের পাশাপাশি গবেষণালব্ধ তথ্য সংগ্রহ করা হবে এসব সংলাপে।

এসব আলোচনার ফলাফল তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-৩১) উপস্থাপন করা হবে। সেখানে সদস্যরা রসাটমের মহাপরিচালকের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া জলবায়ু সম্মেলনে আয়োজিত ‘পারমাণবিক দিবস’ উপলক্ষে যুব কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়তা এবং তুরস্কের আকুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করবেন তাঁরা।

রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক যুব সংলাপের রূপরেখা তৈরিতে এই পর্ষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা তরুণদের কাছ থেকে সাহসী ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রত্যাশা করি। বিশ্বব্যাপী আমাদের বিশেষজ্ঞ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব উদ্যোগে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন