নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুই দিনব্যাপী ‘পারমাণবিক বিজ্ঞান শিক্ষা বিষয়ক কর্মসূচি ও ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান জাদুঘর প্রদর্শনী’ হয়েছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী উপজেলার ইক্ষু গবেষণা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং জামিয়াতুল কুরআনুল কারীম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।
আয়োজনে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের ভ্রাম্যমাণ বাস ‘মিউজুবাস’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রূপপুর প্রকল্পের প্রতিনিধিরা পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, বিকিরণ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এতে কুইজ প্রতিযোগিতা ও প্রশ্নোত্তর পর্বও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিভাগের পরিচালক ড. আনন্দ কুমার দাস জানান, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করা এবং রূপপুর প্রকল্প সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। মিউজুবাসের বিভিন্ন প্রদর্শনী বিজ্ঞান শিক্ষাকে তাদের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
রূপপুর প্রকল্পের গণমাধ্যম ফোকাল পয়েন্ট ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ বলেন, শিক্ষাজীবনের শুরুতেই পারমাণবিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল বাড়ার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আছমা বেগম, ঊর্ধ্বতন গ্রন্থাগারিক মারুফ হোসেন, প্রকল্পের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইকবাল হাসানী এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের প্রধান ডিসপ্লে কর্মকর্তা সৈকত সরকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের আশা, এ ধরনের কর্মসূচির ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান চর্চার আগ্রহ বাড়বে এবং দেশের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তারা বাস্তবসম্মত ধারণা পাবে।

