বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড সিরিজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড সিরিজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

হার দিয়ে বছর শেষ টাইগারদের, সিরিজ ড্র

স্পোর্টস ডেস্ক: মাউন্ট মঙ্গানুয়েতে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত নিজেদের রেকর্ড ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে ব্যর্থ হলো টাইগাররা। হার দিয়ে বছর শেষ করলো বাংলাদেশ। এতে করে তিন ম্যাচ সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।

ম্যাচ শেষে হয়তো আরও কিছু রানের আক্ষেপ ঝরবে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মুখে। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বড় রানের মাঠেও যে সফরকারীরা মাত্র ১১০ রানের পুঁজি গড়ে। তবুও জয়ের আশা দেখিয়েছিলেন শেখ মেহেদী ও শরীফুল ইসলামরা। তবে শেষদিকে ঝড় তুলে সেই জয় প্রায় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার জিমি নিশাম। তবে আগেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে বৃষ্টি, বৃষ্টি আইনে বে ওভালের মাঠে প্রথমবারের মতো আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ পরাজিত হয়েছে।

স্বল্প পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে নেমে শুরুতেই সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। স্পিনার মাহেদী হাসানের বল রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বল মিস করেন সেইফার্ট। উইকেট রক্ষক রনি তালুকদার বল ধরে ভাঙেন উইকেট। ততক্ষণে ক্রিজের বাইরে সেইফার্ট।

টিভি আম্পায়ার রিপ্লে দেখে তাকে আউটের সিদ্ধান্ত জানান। দ্বিতীয় ওভারে ১৬ রানে নিউজিল্যান্ড হারায় প্রথম উইকেট। নিজের দ্বিতীয় ওভারে আবারও কিউই শিবিরের হানা দেন মাহেদী। এবার তার শিকার ড্যারেল মিচেল।

উইকেট থেকে সরে মিড অফ দিয়ে বল উড়াতে চেয়েছিলেন মিচেল। কিন্তু টাইমিংয়ে গড়বড় করে ক্যাচ দেন সোজা শান্তর হাতে। ২৬ রানে নিউজিল্যান্ড হারায় দ্বিতীয় উইকেট। মামুলী পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে বাংলাদেশ ভালোই লড়াই করছে। এরপর স্বাগতিক শিবিরে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যান পেসার শরিফুল।

অবশেষে দারুণ বোলিংয়ের পুরস্কার পান তিনি। শরিফুলের ভেতরে ঢোকানো দ্রুতগতির বলে বোল্ড গ্লেন ফিলিপস। আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি। ৩০ রানে নিউজিল্যান্ড হারায় ৩ উইকেট।  

এরপর রান আউটে চতুর্থ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ক্রিজের মাঝে দুই ব্যাটসম্যানের সংঘর্ষে নন স্ট্রাইক প্রান্তে ফিরতে পারেনি মার্ক চ্যাপম্যান। মুস্তাফিজের বল কভারে পাঠিয়ে দুই রান নেওয়ার জন্য দৌড় দেন অ্যালেন। ডাবল হয়ে যেত। কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে অ্যালেন ও চ্যাপম্যান ক্রিজের মাঝে সংঘর্ষে পড়েন। আঘাত পান অ্যালেন। নন স্ট্রাইক প্রান্তে ফিরতে পারেননি চ্যাপম্যান। আফিফের থ্রো থেকে বল পেয়ে মুস্তাফিজ ভাঙেন উইকেট।

এবার ফিন অ্যালেনকে বোল্ড করেন শরিফুল ইসলাম। তার ভেতরে ঢোকানো বল মিস করে বোল্ড অ্যালেন। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো অ্যালেনকে আউট করলেন শরিফুল। ৩১ বলে ২৮ রান করে অ্যালেন বোল্ড হলেন। তার ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক দিয়ে বল আঘাত করে স্টাম্পে। তাতে বাংলাদেশ পেয়ে যায় পঞ্চম উইকেটের স্বাদ। 

৪৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন জিমি নিশাম ও ড্যারেল মিচেল। এই জুটির ৪৬ রানে ভর করে ১৪ ওভার ৪ বলে ৯৫ রান তুলে কিউইরা। এরপরেই বাগড়া দেয় বৃষ্টি।

তখনই তারা ১৭ রানে এগিয়ে ছিল। গ্যালারিতে দর্শকদের মাঝে ছুটোছুটি ফেলে দেওয়া ঝোড়ো বৃষ্টি আর ক্রিকেটারদের মাঠে নামতে দেয়নি। ফলে ১৭ রানে জিতে সিরিজে সমতা ফেরাল নিউজিল্যান্ড।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করা বাংলাদেশ স্যান্টনার-সোধির ঘূর্ণিতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার চার বল আগেই সফরকারীরা ১১০ রানে অলআউট হয়ে যায়। উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ কেবল শান্ত’র ১৫ বলে ১৭ রান। এছাড়া তাওহীদ হৃদয় ১৮ বলে ১৬ এবং আফিফ হোসেন ১৩ বলে ১৪ রান করেন। এছাড়া বলার মতো রান পাননি কেউই।

কিউইদের হয়ে ১৬ রানে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন স্যান্টনার। এছাড়া সাউদি, মিলনে ও সিয়ার্স প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন। কেবল সোধি উইকেট না পেলেও, নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন তিনি।

সৌম্যকে নিয়ে যা বললেন রাচিন রবীন্দ্র


নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ফসকে গেছে বাংলাদেশের হাত থেকে। তবে এখনও নাজমুল হোসেন শান্তদের সামনে ধবলধোলাই বাঁচানোর সুযোগ রয়েছে। এরপর আবার দু’দল টি-টোয়েন্টি সিরিজে লড়বে। সর্বশেষ ওয়ানডেতে প্রায় তিনশ ছোঁয়া পুঁজি নিয়েও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ম্যাচটিতে দারুণ ব্যাটিং করা সৌম্য সরকার সবার মনোযোগ কেড়েছেন। তার ১৬৯ রান সেদিন ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছিল। সেই রেকর্ডময় ইনিংস নিয়ে এবার কথা বলেছেন নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্র।

ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশ ভালো খেলেছে বলে দাবি তরুণ এই কিউই তারকার, ‘দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। কখনও কখনও তারাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। সৌম্য সেদিন যেভাবে খেলেছে, অবিশ্বাস্য। প্রথম ম্যাচে তো শূন্য রানে দুই ব্যাটার সাজঘরে। তারা আমাদের প্রতিনিয়ত চাপে রেখেছিল। তাদের দিনে তারা ভালো দল।’

একইসঙ্গে শেষ ম্যাচেও জয়ের আশা রাচিনের, ‘নেলসনে ভালো সময় কেটেছে। আশা করছি জয় দিয়েই সিরিজ শেষ করব। ফলাফল যাই হোক আমাদের প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে হবে। নিউজিল্যান্ড দলে আমার চেয়েও অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। আমরা সবাই নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলতে চাই। যখনই সুযোগ পাব সেটা কাজে লাগাতে হবে।’

এর আগে ম্যাচ শেষে সৌম্যের ওই ইনিংস নিয়ে আরেক কিউই ব্যাটার হেনরি নিকোলস বলেছিলেন, ‘ফ্যান্টাস্টিক ইনিংস, সৌম্যর ইনিংসটা দারুণ। আমাদের ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি করেছে সে। তার ১৬৯ রানে ভর করেই বাংলাদেশ ২৯০ রান করেছে, এটাই পুরো গল্প বলে দিচ্ছে। দুর্দান্ত ইনিংস। সে একজন কোয়ালিটি ক্রিকেটার, আজ সে এটা প্রমাণ করেছে। চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মুশফিকের সাঙ্গে দারুণ একটা পার্টনারশিপ গড়ে (সৌম্য)। এই পার্টনারশিপ তাদের বড় সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সে যে শুধুমাত্র পুরো ইনিংস জুড়ে ব্যাট করেছে এমনটাই নয়, একইসঙ্গে রানও বের করেছে।’

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আগামী শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) তারা কিউইদের মোকাবিলা করবে। এরপর দু’দল ২৭, ২৯ ও ৩১ ডিসেম্বর নেপিয়ার ও মাউন্ট মঙ্গানুইতে মুখোমুখি হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন