প্রতিমন্ত্রী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রতিমন্ত্রী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন, উপকরণ পেলেন কৃষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষকদের সহায়তায় সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

শনিবার বিকেলে নাটোরের লালপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় কৃষকদের মধ্যে রোপা আমন ধানের উন্নত বীজ, রাসায়নিক সার, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা ও জৈব সার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রীতম কুমার হোড়। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রনজু।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, লালপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। বক্তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানের শেষে কৃষকদের হাতে প্রণোদনার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ চাষাবাদে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

বাবার বন্ধুদের কাছে আবেগপ্রবণ সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি সফরে পাবনা এসে নিজের বাবা, প্রয়াত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটলের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বর্তমান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। 

সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবি, অধ্যাপক শিবজিত নাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম ও অধ্যক্ষ মাহাতাব বিশ্বাসকে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কাছে ছুটে যান এবং পরম শ্রদ্ধায় দোয়া নেন। এ সময় বাবার বন্ধুরা তাঁর মাথায় হাত দিয়ে স্নেহ করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

ফজলুর রহমান পটলের কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময় কেটেছে পাবনায়। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আইনজীবী আমিনউদ্দিনের ভাতিজা ছিলেন। পাবনা শহরের ‘পুষ্পালয়’ নামের বাড়িতে থেকেই ফজলুর রহমান পটল ছাত্র রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময়ের তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু আজও বেঁচে আছেন। প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধে পাবনা প্রেস ক্লাব তাঁর বাবার বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানায়। বাবার প্রিয়জনদের প্রতি তাঁর এই বিনয় ও শ্রদ্ধা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক জীবনের যেখানেই যাই, শুনতে পাই—‘ওহ, তুমি পটল ভাইয়ের মেয়ে?’ আমার এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি আমার বাবা। তিনি যাঁদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করেছেন, আজ তাঁদের সেই স্নেহের পরশ আমি নিজে অনুভব করছি। সন্তান হিসেবে এটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়।

পাবনা প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য ও প্রয়াত সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে আপনাদের ভূমিকা অপরিসীম। আপনারা আমাদের সঠিক পথ দেখান এবং আমাদের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা।

পাবনা ও নাটোরের লালপুরের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার শেকড় এই পাবনায়। তাই লালপুরের মতো এখানকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও আমি ভূমিকা রাখতে চাই। দ্বিতীয় ধাপে পাবনার দরিদ্র মানুষেরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজেও আমি পাবনাবাসীর পাশে থাকব।

সভায় আরও বক্তব্য দেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব এবং প্রেস ক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাহিত্য সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেল।

ফ্যামিলি কার্ড সরকারের বড় সাফল্য: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:  একটি অনন্য ও বড় সাফল্য। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। দল, মত, ধর্ম কিংবা বর্ণ কোনো কিছুই এই কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। আগামী মাসে আরও ৩৭ থেকে ৫০ হাজার পরিবারের কাছে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে নাটোরের লালপুর উপজেলার গৌরীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নারীপ্রধান পরিবারগুলোর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সারা দেশে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার পর ইতিমধ্যে সুবিধাভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে গেছে। এর অংশ হিসেবে লালপুর উপজেলার ২ নম্বর ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে ৩৭৮ জনকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং প্রত্যেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ফারজানা শারমীন পুতুল উল্লেখ করেন, "বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল এই ফ্যামিলি কার্ড। সরকার গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় এটি উদ্বোধন করা হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের কর্মতৎপরতার একটি বড় প্রমাণ।"

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান, নাটোর জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব এবং লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলহাস হোসেন সৌরভ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন