তুরস্ক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তুরস্ক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মেগাসানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাত, চিকিৎসাসামগ্রী তৈরি এবং এই শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের সৌজন্যে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। ঢাকায় তুর্কি দূতাবাসে আয়োজিত এই সভায় অংশ নেন মেগাসান মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুল হাসান।

সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো, আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী তৈরি এবং তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর বিশেষ জোর দেন।

অনুষ্ঠানে মেগাসান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রকৌশলী নাজমুল হাসান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেগাসান তুরস্কের চেয়ারম্যান আরিফ সিলেকতিন, পরিচালক ইউনুস সিলেকতিন এবং ঢাকায় তুর্কি দূতাবাসের বাণিজ্য শাখার (কমার্শিয়াল উইং) কর্মকর্তা বিলাল বেলার।

ঈশ্বরদীতে দেশের প্রথম মেডিকেল গ্যাস পাইপলাইন সরঞ্জাম কারখানার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বাস্থ্য খাতে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে চিকিৎসা প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ঈশ্বরদীতে যাত্রা শুরু করল দেশের প্রথম মেডিকেল গ্যাস পাইপলাইন সরঞ্জাম সংযোজন কারখানা। তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মেগাসান’ ও ‘মেগাসান বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে উপজেলার অরণকোলা এলাকায় ‘মেগাসান মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামের এই আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, সাশ্রয় হবে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। এর ফলে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা খাত আরও আধুনিক ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

স্মারক ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। পরে তিনি মেগাসান তুরস্কের ভাইস চেয়ারম্যান হায়রেত্তিন সিলেকতিনের সঙ্গে যৌথভাবে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম যৌথভাবে কারখানাটির ইকুইপমেন্ট টেস্টিং ল্যাব উদ্বোধন করেন।

মেগাসান মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মেগাসান বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদুল হাসান টপি।

উপদেষ্টা ববি সরদারের সঞ্চালনায় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রয়াত চিকিৎসকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. ওলিউল্লাহ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইয়াসমিন মনিরা, পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব এবং মেগাসান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নাজিফা বিনতে হাসান।

উদ্যোক্তারা জানান, তুরস্কের বিখ্যাত চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেগাসানের আন্তর্জাতিক মান ও কারিগরি সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এই কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পটিতে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশের হিসেবে ১৫০ কোটিরও বেশি টাকা) বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই বিনিয়োগ ২৫ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে মেগাসানের তৈরি বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার পর, ২০২৫ সালে ঈশ্বরদীর এই কারখানার নির্মাণকাজ শেষ হয়। এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি ও সংযোজন করা হবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, মেডিকেল গ্যাস সরবরাহ ও পাইপলাইন ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ও সংযোগ ইউনিট, অক্সিজেন ও ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট, বেড হেড প্যানেল ও পেন্ডেন্ট সিস্টেম ও আধুনিক সতর্কীকরণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেশে এসব উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু হলে হাসপাতালগুলো দ্রুত কারিগরি সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা পাবে। এতে চিকিৎসাসেবার মান বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সাশ্রয় হবে।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের সঙ্গে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত। তাই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করাকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়াতে তুরস্কে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে 'মেড ইন বাংলাদেশ' পরিচয়ে বৈশ্বিক বাজারে চিকিৎসা প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি করাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে নতুন অধ্যায়, উদ্বোধন হচ্ছে মেগাসান কারখানা

মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেড

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পে নতুন সংযোজন হিসেবে ঈশ্বরদীতে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ ও তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেড’। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানাটির উদ্বোধন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন যৌথভাবে কারখানাটির উদ্বোধন করবেন।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদ, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এটিএম খলিলুর রহমান, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম, মেগাসান তুরস্কের চেয়ারম্যান আরিফ সিলেকতিন, ভাইস চেয়ারম্যান হায়রেত্তিন সিলেকতিন এবং মেগাসান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নাজিফা বিনতে হাসান।

তুরস্কের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেগাসান মেডিক্যাল সিস্টেমস’-এর কারিগরি অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ঈশ্বরদীর অরণকোলায় প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ১৫০ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে কারখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে তুরস্কে উৎপাদিত মেগাসানের বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালে ঈশ্বরদীতে অত্যাধুনিক এই সংযোজন কারখানার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।

কারখানাটিতে আধুনিক হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন ও সংযোজন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক গ্যাস সরবরাহ ও পাইপলাইন ব্যবস্থা, বহুমুখী সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অক্সিজেন ও ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট, শয্যাপাশের প্রয়োজনীয় সংযোগ ব্যবস্থা, ঝুলন্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী ইউনিট এবং উন্নত সতর্কসংকেত ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, স্থানীয়ভাবে এসব উচ্চপ্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের ফলে স্বাস্থ্য খাতে আমদানিনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে দ্রুত কারিগরি সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

মো. নাজমুল হাসান

মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, প্রতিটি চিকিৎসা সরঞ্জামের সঙ্গে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা জড়িত। তাই আমরা সর্বোচ্চ গুণগত মান, নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করছি। আমাদের নিজস্ব দক্ষ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা আরও বাড়াতে ভবিষ্যতে তুরস্কে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে কারখানাটিতে বিনিয়োগ ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘বাংলাদেশে তৈরি’ চিকিৎসা প্রযুক্তি রপ্তানির লক্ষ্য রয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন