দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে নতুন অধ্যায়, উদ্বোধন হচ্ছে মেগাসান কারখানা

মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেড

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পে নতুন সংযোজন হিসেবে ঈশ্বরদীতে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ ও তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেড’। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানাটির উদ্বোধন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন যৌথভাবে কারখানাটির উদ্বোধন করবেন।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদ, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এটিএম খলিলুর রহমান, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম, মেগাসান তুরস্কের চেয়ারম্যান আরিফ সিলেকতিন, ভাইস চেয়ারম্যান হায়রেত্তিন সিলেকতিন এবং মেগাসান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নাজিফা বিনতে হাসান।

তুরস্কের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেগাসান মেডিক্যাল সিস্টেমস’-এর কারিগরি অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ঈশ্বরদীর অরণকোলায় প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ১৫০ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে কারখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে তুরস্কে উৎপাদিত মেগাসানের বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালে ঈশ্বরদীতে অত্যাধুনিক এই সংযোজন কারখানার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।

কারখানাটিতে আধুনিক হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন ও সংযোজন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক গ্যাস সরবরাহ ও পাইপলাইন ব্যবস্থা, বহুমুখী সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অক্সিজেন ও ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট, শয্যাপাশের প্রয়োজনীয় সংযোগ ব্যবস্থা, ঝুলন্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী ইউনিট এবং উন্নত সতর্কসংকেত ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, স্থানীয়ভাবে এসব উচ্চপ্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের ফলে স্বাস্থ্য খাতে আমদানিনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে দ্রুত কারিগরি সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

মো. নাজমুল হাসান

মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, প্রতিটি চিকিৎসা সরঞ্জামের সঙ্গে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা জড়িত। তাই আমরা সর্বোচ্চ গুণগত মান, নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করছি। আমাদের নিজস্ব দক্ষ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা আরও বাড়াতে ভবিষ্যতে তুরস্কে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে কারখানাটিতে বিনিয়োগ ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘বাংলাদেশে তৈরি’ চিকিৎসা প্রযুক্তি রপ্তানির লক্ষ্য রয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন