জসিমউদ্দিন মণ্ডল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জসিমউদ্দিন মণ্ডল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ে কমরেড জসিমউদ্দিন মণ্ডলের অবদান স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য প্রবীণ রাজনীতিক ও প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডলের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে স্মরণসভা হয়েছে । শনিবার বিকেলে সিপিবি ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটির উদ্যোগে পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

গোলজার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সোহাগ হোসেনের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহসীন রেজা, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শহীদুল্লাহ সবুজ ও সিদ্দিক আহমেদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন পাবনা জেলা সিপিবির সভাপতি অলোক মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, কমরেড জসিমউদ্দিন মণ্ডল ছিলেন শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের এক জীবন্ত ইতিহাস। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিসংগ্রাম এবং মেহনতি মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন আপসহীন। ঈশ্বরদীর পাকশীর রেলওয়ে শ্রমিক আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি জনমানুষের মিছিলে তাঁর বজ্রকণ্ঠ শোষকদের কাঁপন ধরিয়ে দিত। রেল শ্রমিকদের ঐতিহাসিক ‘খুদ স্ট্রাইক’ আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, তিনি জীবনের তোয়াক্কা না করে শ্রমিকদের ভাতের অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

নেতারা আরও জানান, জীবনের দীর্ঘ ১৭ বছর পাকিস্তানের কারাগারে কাটিয়েও তিনি শোষকদের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। রেলওয়ের সাধারণ ফায়ারম্যান থেকে নিজের প্রজ্ঞা ও ভালোবাসার গুণে তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ ও সিপিবির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা হয়েছিলেন। তাঁর সহজ-সরল অথচ ধারাল বক্তব্য আজও মানুষকে সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ৯৭ বছর বয়সে কমরেড জসিমউদ্দিন মণ্ডল মারা যান।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জসিম উদ্দিন মণ্ডল ১৯২৪ সালে বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা ও তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের নদীয়া জেলার কালিদাসপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৯ সালে তিনি রেলইঞ্জিনে কয়লা ফেলার চাকরি পান। সে সময় শ্রমিক শোষণের চিত্র দেখে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। তিনি ব্রিটিশ রেল কোম্পানির শ্রমিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। কিশোর বয়স থেকে জসিম উদ্দিন মণ্ডল ভারতের মহাত্মা গান্ধী, বাঘাজতীন, প্রীতিলতা, জ্যোতি বসু, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, বিদ্রোহী কাজী নজরুল ইসলামসহ প্রখ্যাত মানুষের সান্নিধ্য পান। ষাটের দশকে রেলওয়েতে চালের বদলে খুদ দেওয়ায় তিনি রেল শ্রমিকদের নিয়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করেন। এতে তাঁর চাকরি চলে যায়। তিনি শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ ও ব্রিটিশ সরকারের নির্যাতনের শিকার হন। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি মোট ১৯ বছর কারাভোগ করেন।

জসিম উদ্দিন মণ্ডলের নিজস্ব কোনো বাড়ি নেই। বন্দোবস্ত নেওয়া সরকারি এক খণ্ড জায়গায় তিনি বসবাস করতেন। বাড়ির পাশেই নিজ উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময় বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ হয়। বিদ্যালয়ের নাম পশ্চিম টেংরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন