নিজস্ব প্রতিবেদক: বিতর্ক ও নানা অভিযোগের মুখে ঈশ্বরদী উপজেলা ও এর অধীন সাতটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার পাবনা জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জুবায়ের বিশ্বাস অন্ত ও যুগ্ম আহ্বায়ক তৌশিকুর রহমান রাভার যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার সলিমপুর, সাহাপুর, লক্ষীকুণ্ডা, পাকশী, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলি ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটিগুলোও বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্তির সুনির্দিষ্ট কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরমান স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই সাত ইউনিয়নে এক বছরের জন্য নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
কমিটি ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দলীয় অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে বিবাহিত ও নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, অথচ রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এই তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের জেরে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলা ছাত্রলীগ উপজেলা ও ইউনিয়নগুলোর এসব কমিটি বাতিল করে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে সম্মেলন করার সুযোগ না থাকায় প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে কী কারণে হঠাৎ কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হলো, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, অভিযোগ ওঠার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
অন্যদিকে, পাবনা জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌশিকুর রহমান রাভা বলেন, জেলা কমিটির নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হওয়া, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, কমিটিতে বিবাহিতদের স্থান দেওয়া এবং যোগ্যদের বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঈশ্বরদীতে নতুন ও পরিচ্ছন্ন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।
