ঈশ্বরদীতে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে মীরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মীরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম/এস বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্স। ৩ কোটি ৮১ লাখ ৪1 হাজার ৮৮৪ টাকার এই প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, ভবনে ব্যবহারের জন্য আনা ইট ও বালুর মান অত্যন্ত নিম্নমানের, যা সহজেই ভেঙে যায়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনিয়ম রোধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৪ সদস্যের একটি শিক্ষক কমিটি গঠন করলেও কারিগরি দক্ষতার অভাবে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মল্লিকা পারভীন বলেন, ইটের মান যাচাইয়ের প্রযুক্তিগত দক্ষতা শিক্ষকদের না থাকলেও নিম্নমানের সামগ্রী দেখলে তাঁরা প্রতিবাদ করেন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনেক সময় তা সংশোধন করে।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. মাজহারুল ইসলাম দাবি করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চরম চাপের কারণে তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক কাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেদের পছন্দমতো নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ করতে বাধ্য করছেন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর পাবনার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাকিব রেজা জানান, ঠিকাদার নিয়ম অনুযায়ী ভালো সামগ্রী আনতে গেলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বাধা দেন এবং জোরপূর্বক নিজেদের লোকজন দিয়ে নিম্নমানের ইট সরবরাহ করান। এর ফলে কাজের স্বাভাবিক গতি ও মান উভয়ই ব্যাহত হচ্ছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন