ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট: মোবাইল ফোনের আলোতে চলছে ঈশ্বরদী হাসপাতালের চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জেনারেটরের অভাবে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় চিকিৎসক ও নার্সদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলোতে সেবা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় একেকবার এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে এমনিতেই রোগীর প্রচণ্ড চাপ থাকে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০০ থেকে ৭০০ এবং জরুরি বিভাগে ২০০ থেকে ২৫০ রোগীকে সেবা দেওয়া হয়। শয্যাসংখ্যা ৫০ হলেও প্রায়ই ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন।

অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি চিকিৎসক ও জনবল সংকট রয়েছে। ৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ২৫ জন চিকিৎসক ও ২৬ জন নার্স কর্মরত আছেন। এ ছাড়া নয়টি চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদেও রয়েছে লোকবল ঘাটতি। প্রতিদিন একেকজন চিকিৎসককে শতাধিক রোগী দেখতে হওয়ায় কাউকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হয়, যা গরমের দিনে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

এদিকে হাসপাতাল ঘিরে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ সংগ্রহের ক্ষেত্রে দালালদের মাধ্যমে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল বলেন, জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে চিকিৎসাসেবায় সমস্যা হয়। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্ল্যাশলাইটের আলো ব্যবহার করতে হয়। হাসপাতালে একটি জেনারেটর স্থাপন করা হলে এই সংকট কাটানো সম্ভব হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন