নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধের জেরে মতিউর রহমান অন্তর (২৯) নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে গভীর ক্ষত হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাজদিয়া পশ্চিম খাঁপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আহত অন্তরের স্বজনেরা। এ সময় তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি বিচার দাবি করেন।
পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনায় থানায় মামলা করার পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ডাকাতির মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্তরের বাবা কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধ এবং বাগানের কলা চুরি ও কেটে নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের খালাতো ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৯ জুন রাত আনুমানিক ১টার দিকে ট্রাকের সহকারী ও মৎস্যচাষি মতিউর রহমান অন্তর কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সাঁড়া এলাকার মাজদিয়া পশ্চিম খাঁপাড়ায় উজ্জলের বাড়ির কাছে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একই এলাকার রফিকুল ইসলাম, লালু মালিথা, শাহিন মালিথা, কলিমুদ্দিন ওরফে কালু মালিথা এবং রায়হান মালিথা ধারালো চাপাতি, চীনা কুড়াল ও লোহার পাইপ নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান।
হামলায় অন্তরের মাথায় চাপাতি ও চীনা কুড়ালের আঘাতে গুরুতর ক্ষত হয়। এ ছাড়া হাত ও পায়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করা হয়। পরে চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
পরিবার জানায়, এ ঘটনায় অন্তরের মা বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এরপর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ডাকাতি মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
আহত অন্তরের মা মমতাজ বেগম বলেন, তাঁর ছেলে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। একই সঙ্গে মিথ্যা ডাকাতি মামলার ভয়ও তাঁদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ডাকাতি মামলা করার কোনো সুযোগ নেই। মতিউর রহমান অন্তরের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে রফিকুল ইসলাম নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

