নিজস্ব প্রতিবেদক: সংরক্ষিত মহিলা আসনে (পাবনা–সিরাজগঞ্জ) বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ও পাবনা জেলা মহিলা দলের দপ্তর সম্পাদক মিসেস রোকেয়া হাসেম। বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হাসেম তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনীতি শুরু। ‘শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি’—এই মূলমন্ত্র সামনে রেখে তিনি দীর্ঘদিন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব তাঁর পরিবারের সদস্য।
রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ও ৮ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন।
এ সময় তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। রোকেয়া হাসেম দাবি করেন, তাঁর স্বামী রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে কর্মরত অবস্থায় প্রশাসনিক চাপের মুখে অফিসেই মারা যান। এ ছাড়া তাঁর সন্তান বিসিএস পরীক্ষায় চারবার ভাইভা পর্যন্ত উত্তীর্ণ হয়েও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি পাননি।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর বড় ভাই তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য, ছোট ভাই সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং তাঁর ভাবিও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ফলে সংসদীয় কার্যক্রম ও উন্নয়নের বিষয়ে তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দল তাঁর ত্যাগ বিবেচনা করে মনোনয়ন দিলে তিনি পাবনার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হাসেমের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আফরোজা খাতুন, সহসভাপতি শাহিনা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসমিন আক্তার নিফা, মুলাডুলি ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হোসনে আরা বেগম এবং সলিমপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হিরা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক চুমকি বেগমসহ তৃণমূলের নারী নেত্রীরা।

